ISL 2025: প্রীতম কোটাল থেকে বিশাল কায়েথ, আইএসএলের ইতিহাসে সেরা ভারতীয় একাদশে কারা রয়েছেন?
ISL: এক দশকেরও বেশি সময়ের স্মৃতিকে পিছনে ফেলে রেখে বরং আমরা ফিরে তাকাই সেই সেরা ভারতীয় ফুটবলারদের দিকে এবং শ্রদ্ধা জানাই তাঁদের, যারা আইএসএলে খেলে মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন।

কলকাতা: ২০১৪-য় আইএসএল শুরুর পর থেকে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল)-এ দেশীয় প্রতিভার উত্থান ধীরগতিতে হলেও ঘটেছে ধারাবাহিকভাবে। যদিও এই লিগ সারা বিশ্বের তারকাদের স্বাগত জানিয়েছে, তবে বছরের পর বছর ধরে আইএসএলের প্রকৃত পরিচয় গড়ে তুলেছেন ভারতীয় ফুটবলাররাই। তাঁরা মাঠে সাহস ও প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন এবং এ দেশের ফুটবলপ্রেমীদের গর্বিত করেছেন। এক দশকেরও বেশি সময়ের স্মৃতিকে পিছনে ফেলে রেখে বরং আমরা ফিরে তাকাই সেই সেরা ভারতীয় ফুটবলারদের দিকে এবং শ্রদ্ধা জানাই তাঁদের, যারা আইএসএলে খেলে মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। এই লক্ষ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আমাদের সর্বকালের সেরা ভারতীয় একাদশ।
বিশাল কায়েথ: গোলপোস্টের নিচে নির্ভরযোগ্য এক নাম, বিশাল কয়েথ নিঃশব্দে নিজেকে আইএসএলের অন্যতম ধারাবাহিক গোলকিপার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এফসি পুনে সিটি, চেন্নাইন এফসি এবং বর্তমানে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট—এই তিন ক্লাব মিলিয়ে তিনি প্রায় ১৫০টি ম্যাচ খেলেছেন। প্রতিটি ক্লাবেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং প্রতিটি মরশুমেই তাঁর প্রভাব ও গুরুত্ব ক্রমশ বেড়েছে।
প্রীতম কোটাল: আইএসএলের প্রথম মরশুম থেকে আজ পর্যন্ত এই লিগে এক নিরবিচ্ছিন্ন উপস্থিতি দেখা গিয়েছে প্রীতম কোটালের। ২০১৪-য় এফসি পুনে সিটির হয়ে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। তার পর থেকে তিনি ধীরে ধীরে ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডারে পরিণত হয়েছেন। রাইট-ব্যাক হোক বা সেন্টার-ব্যাক, বিভিন্ন কোচের অধীনে ও সিস্টেমে এবং ভূমিকায় প্রতিটি চ্যালেঞ্জেই নিখুঁতভাবে মানিয়ে নিয়েছেন প্রীতম।
রাহুল ভেকে: ২০১৮–১৯ আইএসএল ফাইনালে জয়সূচক গোল করা থেকে রাইট-ব্যাক এবং সেন্টার-ব্যাক উভয় পজিশনে অক্লান্ত পরিশ্রম করে আসা রাহুল ভেকে প্রায় সব দিক থেকেই নিজেকে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। তাঁর বহুমুখিতা, বড় ম্যাচে ভাল খেলার মানসিকতা এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাঁকে আইএসএল ইতিহাসের অন্যতম মূল্যবান ভারতীয় খেলোয়াড় করে তুলেছে।
সন্দেশ ঝিঙ্ঘান: আইএসএলে ভারতীয় রক্ষণাত্মক ফুটবলের প্রতীক যদি কেউ থেকে থাকেন, তবে সেই নামটি নিঃসন্দেহে সন্দেশ ঝিঙ্গন। ২০১৪-য় কেরালা ব্লাস্টার্স এফসি-র হয়ে মরশুমের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতার পর থেকেই তিনি লিগে এক নিরবিচ্ছিন্ন শক্তি হিসেবে থেকে গিয়েছেন। দল যেরকমই হোক না কেন, তিনি সর্বত্রই এনেছেন আগ্রাসন, প্রতিরোধ ও নেতৃত্ব।
শুভাশিস বসু: এই পজিশনে কার থাকা উচিত, তা নিয়ে আদৌ কি কখনও কোনও সন্দেহ আছে? বোধহয় না। লেফট-ব্যাক পজিশনে একচেটিয়া ভাবে জায়গা করে নিয়েছেন শুভাশিস বোস এবং এই নিয়ে খুব একটা বিতর্কও নেই। যদিও মন্দার রাও দেশাই তাঁর কেরিয়ারের পরবর্তী পর্যায়ে লেফট-ব্যাকে রূপান্তরিত হয়ে নজর কেড়েছিলেন। তবে ধারাবাহিকতা, রক্ষণের দক্ষতা এবং বড় ম্যাচে নিজের কার্যকারিতার কারণে শুভাশিসই সেরা পছন্দ।
লালেঙমাইয়ুইয়া রালতে: মাত্র ২৪ বছর বয়সেই ইতিমধ্যেই ১১৩টি আইএসএল ম্যাচ খেলে ফেলেছেন আপুইয়া। এখন পর্যন্ত যা পারফরম্যান্স তিনি দেখিয়েছেন, তা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, আইএসএল যুগের অন্যতম সেরা ভারতীয় মিডফিল্ডার হিসেবে নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছেন আপুইয়া। এমনকী, লেনি রডরিগেজ ও রাউলিন বোরজেসের মতো অভিজ্ঞদেরও পিছনে ফেলে দিয়েছেন।
অনিরুদ্ধ থাপা: চেন্নাইন এফসি-তে সাত মরশুম কাটান অনিরুদ্ধ থাপা। সেখানে তিনি এমন এক মিডফিল্ডারে পরিণত হন, যাঁকে আইএসএল এর ইতিহাসে অন্যতম সম্পূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এক প্রতিশ্রুতিবান তরুণ থেকে ক্লাবের অধিনায়ক হয়ে ওঠা পর্যন্ত, ধীরে ধীরে চেন্নাইনের কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে উঠেছিলেন। এর পর ২০২৩ সালে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টে বড়সড় এক রূপান্তর ঘটে তাঁর কেরিয়ারে।
লালিয়াংজুয়ান ছাংতে: আইএসএলে খুব কম ভারতীয় উইঙ্গারই লালিয়ানজুয়ালা ছাংতের মতো উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পেরেছেন। তাঁর গতি, সোজাসাপ্টা খেলার ধরণ আর মাঠে ক্রমবর্ধমান দক্ষতা তাঁকে রাইট উইং পজিশনে অনায়াসে প্রথম পছন্দ করে তুলেছে—যেখানে মনবীর সিং ও উদান্ত সিংয়ের মতো কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বীও হার মেনে যাবেন।
ব্রেন্ডন ফার্নান্ডেজ: প্রায় এক দশক ধরে আইএসএলে মাঝমাঠের সৃজনশীলতার দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠেন ব্র্যান্ডন ফার্নান্ডেজ। আইএসএলে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন তিনি। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় তাঁর কার্যরকারিতা কতটা। আটটি মরশুম জুড়ে তিনি এফসি গোয়ার নির্ভরযোগ্য তারকা ছিলেন। চমৎকার থ্রু বল, নিখুঁত সেট-পিস কিংবা সহজাত লিঙ্ক-আপ খেলা—সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দুতেই ছিলেন ব্র্যান্ডন।
বিপিন সিংহ: দু’বার আইএসএল লিগ শিল্ড এবং দু’বার আইএসএল কাপ জয়ী বিপিন সিংয়ের অভিযান ধৈর্য, অধ্যবসায় এবং সেরা মুহূর্তের গল্প। এটিকে এফসি থেকে মুম্বই সিটি এফসি-তে যোগ দেওয়ার পরই তিনি প্রকৃত অর্থে উন্নতি করেন এবং আইএসএলের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ভারতীয় উইঙ্গারদের একজন হয়ে ওঠেন। তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত আসে ২০২০–২১ আইএসএল ফাইনালে, যখন তিনি একেবারে শেষ মিনিটে ম্যাচজয়ী গোলটি করে মুম্বই সিটি এফসিকে প্রথমবারের মতো আইএসএল কাপ জেতান।
সুনীল ছেত্রী: এই সেরা একাদশের একেবারে সামনে কে থাকবেন, তা নিয়ে কখনও কোনও সন্দেহ ছিল বলে মনে হয় না। সুনীল ছেত্রী শুধুমাত্র আইএসএল ইতিহাসে সর্বকালের সেরা ভারতীয় গোলদাতাই নন — তিনি ভারতীয় ফুটবলের হৃদস্পন্দন। প্রথমদিকে দুটি মরশুম মুম্বই সিটি এফসিতে কাটানোর পর ২০১৭-য় বেঙ্গালুরু এফসি যখন আইএসএলে যোগ দেয়, তখন থেকেই ছেত্রী হয়ে ওঠেন এই ক্লাবের মুখ। সেই সময় থেকে তিনি প্রতি মরশুমেই নিজের উপস্থিতির জানান দিয়েছেন — গোল, অ্যাসিস্ট বা শুধুই নেতৃত্ব দিয়ে। তথ্য সংগ্রহ: আইএসএল মিডিয়া




















