T20 World Cup: ভারত ম্যাচ বয়কট করায় শাস্তি পেলে আইসিসিকে পাল্টা চাপে ফেলার পরিকল্পনাও তৈরি করে ফেলেছে পিসিবি!
PCB vs ICC Dispute: ভারত ম্যাচ বয়কট করলে ব্রজকাস্টারদের তরফে আইনি মামলা, আইসিসির তরফে প্রাপ্ত লভ্যাংশের পরিমাণে কাটছাঁট করা হতে পারে খবর।

ইসলামাবাদ: যে দিন ছোটদের বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারিয়ে ভারতীয় দলের জুনিয়ররা অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিজেদের জায়গা পাকা করে, সেইদিনই পাকিস্তান সরকারের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্ট করা হয়। জানিয়ে দেওয়া হয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে তাঁরা ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের (T20 World Cup 2026) ম্যাচ বয়কট করার অনুমতি দিয়েছে। যদিও তখনও আইসিসিকে পাকিস্তান বোর্ডের তরফে লিখিতভাবে কিছু জানানো হয়নি বলেই দাবি করা হয়েছিল। তবে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শুরু হয়ে যায় তর্ক, বিতর্ক।
ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা আইসিসির তরফে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (Pakistan Cricket Board) যদি সত্যিই এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে কিন্তু তাদের কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে। আইসিসির তরফে লভ্যাংশের পরিমাণে কাটছাঁটের ফলে আর্থিক ক্ষতি তো হবেই, পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ব্রডকাস্টারদের তরফে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে। এখানেও শেষ নয়, কোনও এক নির্দিষ্ট ম্যাচ বয়কট করার পরিণাম হিসাবে পাকিস্তান দলকে গোটা টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে।
Dawn-র রিপোর্ট অনুযায়ী আইসিসি যদি এক ম্যাচ বয়কট করার জন্য তাদের সত্যিই কড়া শাস্তি দেয়, তাহলে সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করতে তৈরি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও। অতীতে একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে যেখানে কোনও দল বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে একটি নির্দিষ্ট ম্যাচ বয়কট করেছে। ১৯৯৬ সালে বিশ্বকাপে তাদের দেশের সরকারের নির্দেশেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ় এবং অস্ট্রেলিয়া নিরাপত্তার অভাবে শ্রীলঙ্কায় খেলতে যায়নি। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড এবং নিউজ়িল্যান্ড, জিম্বাবোয়ে এবং কেনিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করে। ২০০৯ সালে আবার জিম্বাবোয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্য়াচ বয়কট করেছিল।
উপরিউক্ত কোনও ক্ষেত্রেই আইসিসির তরফে কোনওরক শাস্তি দেওয়া হয়নি। পাকিস্তান সেই বিষয়ে অবগত। পাশাপাশি ২০১৮ সালে বিসিসিআই ও পিসিবির ঝামেলার ক্ষেত্রেও বিসিসিআইয়ের যে পন্থ অবলম্বন করেছিল, সেই বিষয়টি পাকিস্তান বোর্ডের মনে আছে। ২০১৪ সালে এক চুক্তির মাধ্যমে ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের ছয়টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় খেলার কথা ছিল। তবে এই বিষয়ে অবগত এক সূত্র দাবি করেন বিসিসিআই সেইসময় শুনানিতে প্রাথমিকভাবে এই চুক্তি বাতিলের কারণ ব্যাখা করতে না চাইলেও, পরবর্তীতে দাবি করে সরকারের নির্দেশেই তারা সিরিজ় খেলতে চায় না।
এইসব যুক্তি দিয়েই পাকিস্তান আইসিসির শাস্তি দিলে তার বিরোধিতা করতে চলেছে। তবে যদি তা সত্ত্বেও আইসিসি কোনওরকম শাস্তি দেয়, সেক্ষেত্রে পিসিবি আন্তর্জাতিক কোর্ট অফ আরবিট্রেশনে দ্বারস্থ হতে পারেই বলেই রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে।



















