MBSG vs BFC: আইএসএলের ফাইনালে আগেও বাগান-বেঙ্গালুরু মুখোমুখি হয়েছিল, সেবার কী হয়েছিল?
ISL 2025: কলকাতার সবুজ-মেরুন বাহিনী ও বেঙ্গালুরু এফসি আইএসএল ফাইনালে মুখোমুখি এই প্রথমবার নয়। এর আগেও একবার দুই দলের দ্বৈরথ দেখা গিয়েছিল।

কলকাতা: মাঝে আর মাত্র এক দিন। তার পরেই বেজে উঠবে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ ফাইনালের দামামা। বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে টিকিটের জন্য উন্মাদনা। শনিবার মোহনবাগান জোড়া খেতাবের লক্ষ্য নিয়ে নামবে ঘরের মাঠে, যেখানে তারা টানা ১২টি ম্যাচে জয় পেয়েছে। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হতে চায় ফুটবল নগরীর ফুটবলপ্রেমী জনতা।
কলকাতার সবুজ-মেরুন বাহিনী ও বেঙ্গালুরু এফসি আইএসএল ফাইনালে মুখোমুখি এই প্রথমবার নয়। এর আগেও একবার দুই দলের দ্বৈরথ দেখা গিয়েছিল। অনেকেরই হয়তো মনে আছে, ২০২২-২৩ মরশুমে গোয়ার ফতোরদা স্টেডিয়ামে হয়েছিল সেই ফাইনাল। কোভিড আবহে পুরো লিগই সে বার হয়েছিল গোয়ায়।
জৈব বলয়ের মধ্যে হওয়া সেই লিগে ২০ ম্যাচে ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবলে তৃতীয় দল হিসেবে নক আউট পর্বে যোগ্যতা অর্জন করে তৎকালীন এটিকে মোহনবাগান। দশটি ম্যাচে জয় ও চারটি ম্যাচে ড্র করে সেরা ছয়ে থেকে এই যোগ্যতা অর্জন করে সবুজ-মেরুন বাহিনী। একই সংখ্যক পয়েন্ট পেয়ে চার নম্বর দল হিসেবে প্লে অফে পৌঁছয় নীল-বাহিনী।
সেমিফাইনালের প্রথম লেগে হায়দরাবাদ এফসি-র সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে এটিকে মোহনবাগান। দ্বিতীয় লেগে টাই ব্রেকারে ৪-৩-এ জিতে ফাইনালে পৌঁছয় তারা। অন্যদিকে বেঙ্গালুরু এফসি প্রথম লেগে মুম্বই সিটি এফসি-কে ১-০-য় হারানোর পর দ্বিতীয় লেগে মুম্বই ২-১-এ জেতায় পেনাল্টি শুট আউটে ফয়সালা হয়, যাতে ৯-৮-এ জিতে ফাইনালে সবুজ-মেরুন ব্রিগেডের মুখোমুখি হয় সুনীল-ছেত্রী বাহিনী। তারিখটা ছিল ১৮ মার্চ, ২০২৩।
ম্যাচের আগে সাংবাদিক বৈঠকে মোহনবাগান কোচ হুয়ান ফেরান্দোর সাফ বক্তব্য ছিল, ''আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র জয়। আমার বিশ্বাস, দলের ছেলেরা লিগের সেরা মুহূর্তটা অর্জন করবে এই ম্যাচে। সে জন্য সবাই তৈরি। অতিরিক্ত সময়ে খেলা গড়ানোটা আমার পছন্দের ব্যাপার নয়। তাই ৯০ মিনিটেই ম্যাচ শেষ করতে চাই। যদিও সেটা আমাদের হাতে নয়। প্রতিপক্ষ কেমন খেলবে তার ওপরও নির্ভর করে।''
সে বার চোট-আঘাত, অসুস্থতায় জর্জরিত হওয়া সত্ত্বেও ফাইনালে পৌঁছয় বাগান-বাহিনী। সেই প্রসঙ্গে ফেরান্দো বলেছিলেন, ''যদিও চোটের জন্য একাধিক ম্যাচে আমরা খুব হতাশাজনক পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলাম। কিন্তু চোট-আঘাত, কার্ড এগুলো তো ফুটবলেরই অঙ্গ। এসব সত্ত্বেও কী ভাবে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে হবে, তা ছেলেদের বলে দিয়েছি বারবার। ওরা তা মেনে যে দল হিসেবে এই জায়গায় পৌঁছেছে, এটাই বড় ব্যাপার।''
বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী ম্যাচের আগের দিন বলেছিলেন, “যতই আমরা ভাল খেলি, দুর্দান্ত ভাবে ঘুরে দাঁড়াই, টানা ১১টা ম্যাচে জিতি, ভাল ভাল দলকে হারাই, চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলে সব বৃথা হয়ে যাবে। কেউই এ সব মনে রাখবে না। তাই কাল জেতাটা আমাদের পক্ষে খুবই জরুরি। না হলে গত কয়েক মাসে আমরা যা যা ভাল করেছি, যে ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছি, লোকে সে সব মনেই রাখবে না”।
১২০ মিনিটেও হয়নি মীমাংসা!
সবুজ-মেরুন কোচ ফেরান্দো ফাইনাল ৯০ মিনিটের মধ্যেই শেষ করতে চাইলেও তা হয়নি। খেতাবী লড়াইয়ে ১২০ মিনিট পর্যন্ত ফল ২-২ থাকার পরে ম্যাচ পেনাল্টি শুট আউটে গড়ায়। সে দিন নির্ধারিত ৯০ মিনিটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয় দুই দলের মধ্যে। দুই দলের চারটি গোলের তিনটিই আসে পেনাল্টি থেকে।
ম্যাচের ১৪ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন অস্ট্রেলীয় ফরোয়ার্ড দিমিত্রিয়স পেট্রাটস। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মিনিটে পেনাল্টি থেকেই গোল শোধ করেন সুনীল ছেত্রী। ৭৮ মিনিটে কর্নারে হেড করে ফের দলকে এগিয়ে দেন প্রাক্তন সবুজ-মেরুন তারকা রয় কৃষ্ণা। কিন্তু ৮৫ মিনিটের মাথায় ফের পেনাল্টি পায় এটিকে মোহনবাগান ও তা থেকে সমতা আনেন পেট্রাটস। অতিরিক্ত সময়ে কোনও গোল হয়নি। তাই টাই ব্রেকার ছিল অবধারিত।
দিমিত্রিয়স পেট্রাটস, লিস্টন কোলাসো, কিয়ান নাসিরি ও মনবীর সিং তাঁদের দায়িত্বে সফল হন। তাঁদের গোলকিপার গোল্ডেন গ্লাভজয়ী বিশাল কয়েথ বেঙ্গালুরুর ব্রুনো সিলভার শট আটকে দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। কিন্তু সুনীল ছেত্রীর দলের মিডফিল্ডার পাবলো পেরেজের পেনাল্টি শট বারের ওপর দিয়ে উড়ে যেতেই ফতোরদার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম কেঁপে ওঠে সবুজ-মেরুন সমর্থকদের চিৎকারে।
ততক্ষণে ফাইনালে পেনাল্টি শুট আউটে ৪-৩-এ বেঙ্গালুরু এফসি-কে হারিয়ে প্রথমবার আইএসএলের চ্যাম্পিয়নশিপ সুনিশ্চিত করে ফেলেছে এটিকে মোহনবাগান। পাবলো পেরেজ বারের ওপর দিয়ে বল উড়িয়ে দিতেই হিরো আইএসএল ট্রফিতে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের নাম লেখা হয়ে যায়।






















