ISL: আইএসএলে সেমিতে পিছিয়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের ইতিহাস রয়েছে আগেও
Mohun Bagan Supergiants: সে বার ঘরের মাঠে সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে দিল্লি ডায়নামোজের বিরুদ্ধে এক নিখুঁত জয় তুলে নিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল এফসি গোয়া।

কলকাতা: চলতি আইএসএলের দুই সেমিফাইনালই প্রায় একই জায়গায় দাঁড়িয়ে। যে দলগুলিকে ফেভারিট মনে করা হয়েছিল, সেই দলগুলি প্রথম লেগে হেরে গিয়েছে। এখন তাদের সামনে জয়ে ফেরার কঠিন চ্যালেঞ্জ। লিগশীর্ষে থাকা দুই দল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ও এফসি গোয়া সেমিফাইনালের প্রথম লেগে যথাক্রমে জামশেদপুর এফসি ও বেঙ্গালুরু এফসি-র কাছে ১-২ ও ০-২-এ হেরে গিয়েছে। অর্থাৎ, নিজেদের ফর্ম ও ধারাবাহিকতার প্রতি সুবিচার করে দুই সেরা দল যদি ফাইনালে উঠতে চায়, তা হলে তাদের সেমিফাইনালে দ্বিতীয় লেগে অন্তত দুই গোলের ব্যবধানে জিততে হবে। এক গোলের ব্যবধানে জিতলে অতিরিক্ত সময় বা টাই ব্রেকারের মাধ্যমে ফাইনালিস্ট চূড়ান্ত হবে। কিন্তু চার দিন আগে প্রথম লেগে হেরে যাওয়ার পরে কি তাদের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব? আইএসএলে সবই সম্ভব। কারণ, অতীতেও এমন হয়েছে। একবার নয়, একাধিকবার। এই প্রতিবেদনে ফিরে দেখা হয়েছে সেই সেমিফাইনালগুলি, যেখানে প্রথম লেগে হারার পরেও ফাইনালে উঠেছে একাধিক দল।
আইএসএল ২০১৫: দিল্লি ডায়নামোজ বনাম এফসি গোয়া
সে বার ঘরের মাঠে সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে দিল্লি ডায়নামোজের বিরুদ্ধে এক নিখুঁত জয় তুলে নিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল এফসি গোয়া। রবিন সিং প্রথম লেগে একটি গোল করে দিল্লি ডায়নামোজকে এগিয়ে দেন, যা দ্বিতীয় লেগে তাদের সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছে দেয়। প্রথম লেগে ০-১-এ পরাজয়ের পরও, ফিরতি লেগে দাপুটে পারফরম্যান্সে ৩-০ ব্যবধানে জয় পায় এফসি গোয়া।
ঘরের মাঠে তাদের শক্তি কাজে লাগিয়ে দশজনের দিল্লি ডায়নামোজের বিরুদ্ধে চমৎকার একটি ম্যাচ খেলে গোয়ার দল। জোফ্রে ম্যাতিউ, রাফায়েল কোয়েলহো এবং ডুডু ওমাগবেমি গোল করেন, মোট ৩-১-এ জিতে সেমিফাইনালের গণ্ডী পার করে ফাইনালে পৌঁছে যায় গোয়ার দল।
আইএসএল ২০১৮-১৯: নর্থইস্ট ইউনাইটেড বনাম বেঙ্গালুরু এফসি
সেমিফাইনালের প্রথম লেগে নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসির বিরুদ্ধে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় বেঙ্গালুরু এফসি। তবে দ্বিতীয় লেগে চমৎকার এক পারফরম্যান্স দেখিয়ে ফাইনালের টিকিট অর্জন করে ব্লুজ-রা।
গুয়াহাটিতে প্রথম লেগে হাইল্যান্ডারদের কাছে ১-২ গোলে হারে বেঙ্গালুরু এফসি। ঘরের মাঠের সমর্থন ও সুবিধা নিয়ে কার্লস কুয়াদ্রাতের দল পিছিয়ে থাকা অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ফিরতি লেগে বিপক্ষের গোলকিপার পবন কুমারকে তিনবার পরাস্ত করে। প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবে শেষ হলেও ৭২তম মিনিটে মিকু বেঙ্গালুরুর হয়ে গোল করে ম্যাচের খাতা খোলেন, যদিও তিনি তার আগে দুটি সুযোগ নষ্ট করেছিলেন। ৮৭তম মিনিটে দ্রুত কাউন্টার-অ্যাটাকে দিমাস দেলগাদোর নিখুঁত গোলে এগিয়ে যায় ‘দ্য ব্লুজ’। অতিরিক্ত সময়ে সুনীল ছেত্রী আরেকটি গোল করে ঘরের মাঠে দাপুটে জয় নিশ্চিত করেন।
আইএসএল ২০১৯-২০: বেঙ্গালুরু এফসি বনাম এটিকে এফসি
২০২৩-২৪ মরশুমে লিগশিল্ড জয়ের অভিযানে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট আরেকটি অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের নজির গড়ে। সেমিফাইনালের প্রথম লেগে তারা লড়াই করে হার মানে ওডিশা এফসি-র কাছে। ২-১ ব্যবধানে জেতে কলিঙ্গবাহিনী। তবে গোটা মরশুম জুড়ে যে ভাবে লড়াই করেছিল সবুজ-মেরুন বাহিনী, সেই মানসিকতাই ফের ফুটে ওঠে ঘরের মাঠে এক অসাধারণ পারফরম্যান্সে।
২২তম মিনিটে জেসন কামিংসের সহজ ট্যাপ-ইন গোলের মাধ্যমে সেই প্রত্যাবর্তনের সূচনা হয়। দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ে বদলি হিসেবে নামা সহাল আব্দুল সামাদ নাটকীয় এক গোল করে মেরিনার্সদের অবিশ্বাস্য জয় এনে দেন। সের্খিও লোবেরার দলের বিরুদ্ধে এই জয়ে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট টানা দ্বিতীয়বারের মতো আইএসএল কাপ ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল।























