KKR vs LSG: লখনউয়ের বিরুদ্ধে জয়ের মুখ থেকে ফের হার কেকেআরের, কোথায় ঘুরল ম্য়াচের মোড়?
Mukul Choudhary: কেকেআরের বিরুদ্ধে লখনউয়ের হয়ে ২৭ বলে ৫৪ রানের ইনিংস খেলেন লখনউয়ের মুকুল চৌধুরি।

কলকাতা: প্রথম দুই ম্যাচে চূড়ান্ত হতাশাজনক পারফরম্যান্স। সেই হতাশা পিছনে ফেলে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে চলতি আইপিএল মরশুমে (IPL 2026) প্রথম জয়ের আশা দেখছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR vs LSG)। তবে সে গুড়ে বালি। আবারও এক ম্যাচ শেষে খালি হাতেই মাঠ ছাড়তে হল অজিঙ্ক রাহানেদের, ফের এক ম্য়াচ শেষে হতাশায় ডুবলেন নাইট সমর্থকরা।
জয়ের জন্য লখনউয়ের সামনে লক্ষ্য ছিল ১৮২ রানের। ম্যাচের বেশিরভাগ সময়ই মনে হচ্ছিল এই রান জয়ের জন্য যথেষ্ট। ১৬তম ওভারের শেষ বলে আয়ুষ বাদোনি আউট হওয়ার পর যখন ১২৮ রানে সাত উইকেট হারিয়ে ফেলে লখনউ, তখন কেকেআর সমর্থকদের একাংশ ধরেই নিয়েছিল এই ম্যাচে জয় নিশ্চিত। তবে ক্রিকেটে বারংবার বলা হয় যতক্ষণ না ম্যাচের শেষ বল হয়ে যাচ্ছে, ততক্ষণ খেলা শেষ নয়, শেষ বলের আগে পর্যন্ত যা খুশি হতে পারে। আজকের ম্য়াচের পর ঠিক এই শিক্ষাটাই হয়তো কেকেআর সমর্থকরা পাবে।
এদিন লখনউয়ের হয়ে সাত নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমেছিলেন মুকুল চৌধুরি (Mukul Choudhary)। ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় শট খেলতে সক্ষম এমন ব্যাটার হিসাবে তাঁর সুখ্যাতি রয়েছে। তবে ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে যে আইপিএল অনেকটাই ভিন্ন, তা সকলেই জানেন। তাই অনেকেই মুকুল কতটা কী করতে পারবেন সেই নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন। কিন্তু ১৭ থেকে ২০ ওভার পর্যন্ত যা ঘটল, তার পরে মুকুলের প্রতিভা বা মানসিকতা, কোনওটা নিয়েই প্রশ্ন করা কার্যত অপরাধই হবে।
ব্যাট হাতে ক্রিকেটের নন্দন কাননে এক ঐতিহাসিক ইনিংসের সাক্ষী থাকলেন সমর্থকরা। এদিন ঠিক যখন দেওয়ালে দলের পিঠ ঠেকে গিয়েছে, তখনই জ্বলে উঠল মুকুলের ব্যাট। দীর্ঘকায় ডান হাতি ব্যাটারের গ্রিপটাও ব্যাটের অনেকটা উপরের দিকে। ক্রিকেটে এক প্রবাদ আছে, 'লং হ্যান্ডেল' ব্যবহার, অর্থাৎ আগ্রাসী ব্যাটিং করা। এদিন মুকুল প্রকৃত অর্থেই সেই 'লং হ্যান্ডেল'টাই ব্যবহার করলেন। ২৬ বলে নিজের আইপিএল কেরিয়ারের প্রথম অর্ধশতরান হাঁকান তিনি। হাঁকান সাতটি ছয়। রান তাড়া করতে নেমে সাত বা তাঁর নীচে ব্যাটে নামা কোনও ব্যাটারের ছক্কা হাঁকানোর ক্ষেত্রে এটি সর্বকালীন রেকর্ড।
শেষমেশ মুকুলের ব্যাটে ভর করেই জয় পেল লখনউ। ২০০ স্ট্রাইক রেটে ২৭ বলে ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি, আর তাঁর এই ইনিংসটাই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়াল।



















