E 20 Petrol Contro : E20 পেট্রোলে উচ্চমাত্রার ক্লোরাইড, স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে ইঞ্জিন পার্টসের ! সরকার দিল জবাব
E 20 Fuel Contro : স্বাভাবিকভাবেই যা নিয়ে চাপ বাড়ল মোদি সরকারের। তবে কি এবার E20 পেট্রোল বন্ধ করে দেবে কেন্দ্র ? জবাবে কী বলল সরকার।

E 20 Fuel Contro : এতদিন E20 পেট্রোলের বিতর্ক নিয়ে কথা উঠলেই গাড়ি প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলি উদাহরণ দিত সরকার। এবার সেই অটোমেকারদের সংগঠন E20 পেট্রোলের ক্ষতিকারক দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলল। স্বাভাবিকভাবেই যা নিয়ে চাপ বাড়ল মোদি সরকারের। তবে কি এবার E20 পেট্রোল বন্ধ করে দেবে কেন্দ্র ? জবাবে কী বলল সরকার।
কী বলেছে গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থার সংগঠন
সম্প্রতি E20 পেট্রোল নিয়ে বিতর্কে মুখ খুলেছে 'দ্য সোস্যাইটি অফ ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্য়ানুফ্যাকচারার্স' (SIAM)। সংস্থার তরফে বলা হয়েছে, ভারতের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে যে E20 পেট্রোল ব্যবহার করা হচ্ছে, তাতে অত্যধিক ক্লোরাইড ও আদ্রতা রয়েছে। এই কারণে গাড়ির যন্ত্রাংশ খারাপ হওয়ার প্রভূত আশঙ্কা রয়েছে। মূলত, এই ইথালন মিশ্রিত জ্বালানির গুণমান নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে এই সংগঠন। এই বিষয়ে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে SIAM ।
সরকারের কাছে কী চেয়েছে SIAM
অবিলম্বে যেন সরকার এই বিষয়টি দেখে , তার জন্য আর্জি জানানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের কাছে। যেখানে বলা হয়েছে, পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ করা E20 পেট্রোলে ক্লোরাইডের মাত্রা যেন বেঁধে দেওয়া হয়। এই জ্বালানি তেলের মাণদণ্ড যেন ঠিকঠাকভাবে নিয়মিত পরীক্ষা করে তেল বিপণন কোম্পানিগুলি। না হলে চিন্তা বাড়বে।
কী নিয়ে এত বিতর্ক
আসলে দেশে অপরিশোধিত তেলের আমদানি কমাতে চাইছে সরকার। পরিবর্তে বিকল্প জ্বালানির পথে হাঁটতে চাইছে নয়াদিল্লি। যার ফলসরূপ ভারতে ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল নিয়ে এসেছে সরকার। বর্তমানে পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো হচ্ছে। যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। অনেকেই বলছেন, এই E20 পেট্রোল গাড়ির যন্ত্রাংশের ক্ষতি করছে। পাশাপাশি এই পেট্রোল ব্যবহার করার পর কমছে গাড়ির মাইলেজ। যদিও সরকার আগামী দিনে পেট্রলে এই ইথানলের মাত্রা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। যা নিয়েই সংশয় প্রকাশ করছেন গাড়ির মালিক থেকে চালকদের একাংশ।
আশ্বস্ত করছে SIAM
তবে এই ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, এই চিঠিকে নিয়মমাফিক চিঠি বলেই মন্তব্য করেছে গাড়ি প্রস্তুতকারকদের সংস্থা। তারা জানিয়েছে, এই ধরনের জ্বালানিতে যাতে দূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাই এই চিঠি পাঠানো হয়। গাড়ির সব পক্ষের থেকে তথ্য় সংগ্রহের জন্য এই রুটিন লেটার পাঠানো হয়।
কেন সিয়ামের চিন্তা বাড়ছে
'দ্য সোস্যাইটি অফ ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্য়ানুফ্যাকচারার্স' (SIAM)-এর মতে, এই E20 পেট্রোল থেকে নির্গত জ্বালানি গ্যাসের সরাসরি সংস্পর্শে আসছে ফুয়েল ইনজেক্টর, ফুয়েল পাম্প, ইজিআর ভালভ, এক্সজস্ট সিস্টেম ছাড়াও আরও অনেক যন্ত্রাংশ । যাতে সমস্যার ক্ষেত্রে বিপুল বৃদ্ধি লক্ষ্য় করা গেছে। এখানেই শেষ নয়, এই ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করার পরে অকেজো পার্টসগুলি পরীক্ষা করে দেখা যাচ্ছে, সেখানে অতিরিক্ত মাত্রায় ক্লোরাইড রয়েছে।
সবথেকে চিন্তার বিষয়
এই ধরনের জ্বালানিতে সবথেকে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে গাড়ির ফুয়েল ট্যাঙ্ক। গাড়ির জ্বালানি ট্যাঙ্ক থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দেখা গেছে, ৫০০ মিলিগ্রাম প্রতি কেজি ক্লোরাইড রয়েছে সেখানে। বিভিন্ন ফুয়েল আউটলেটে নমুনা সংগ্রহ করে দেখা গেছে, এতে ক্লোরাইড দূষণের মাত্রা প্রতি কেজিতে ৩৫০ মিলিগ্রাম রয়েছে।
জবাবে কী বলছে সরকার
ইতিমধ্যেই এই জ্বালানি দূষণের বিষয়ে মুখ খুলেছে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। তারা জানিয়েছে, তেল বিপণন কোম্পানিগুলি নিয়মিত গাড়ির জ্বালানির গুণমান পরীক্ষা করে থাকে। ৮৭ হাজারেরও বেশি খুচরো বিক্রয়কেন্দ্রে দিনে ৮-১২ বার তেলে জল ঢুকছে কিনা তা টেস্ট করা হয়। দেশের এরকম ২০০০টি গাড়ির ক্লোরাইড ও সালফাইড দূষণের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, মাত্র দুটি ক্ষেত্রে ক্লোরাইড পাওয়া গেছে। ওই দুই খুচরো আউটলেট থেকে সঙ্গে সঙ্গে তেল বিক্রি সাসপেন্ড করা হয়েছে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই ধরনের তেলে কোনও ভেজাল পাওয়া গেছে দ্রুত ওই আউটলেটগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সরকার।
সেরা শিরোনাম























