Flex Fuel Cars : ওয়াগনআর থেকে ক্রেটা, ভারতে এখন পাবেন এই ফ্লেক্স ফুয়েল গাড়িগুলি, রইল লিস্ট
Flex Fuel Cars : জ্বালানির জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারত সরকার এখন জোর দিচ্ছে ইথানল মিশ্রিত ফুয়েলের ওপর। এই আবহেই সাধারণ পেট্রোল গাড়ির বিকল্প হিসেবে ঝড় তুলছে ফ্লেক্স ফুয়েল গাড়িগুলি।

Flex Fuel Cars : বদলে যাচ্ছ ভারতের গাড়ি বাজারের পরিস্থিতি। পেট্রোল-ডিজেলের থেকে স্বস্তি দিতে এখন ফ্লেক্স ফুয়েল এনেছে সরকার। বর্তমানে মারুতি ওয়াগন-আর (WagonR) থেকে হুন্ডাই ক্রেটা (Creta)ভারতের অটোমোবাইল বাজারে এখন কাঁপন ধরাচ্ছে ফ্লেক্স ফুয়েল (Flex Fuel) প্রযুক্তি। দেশের পরিবেশ দূষণ কমাতে এবং জ্বালানির জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারত সরকার এখন জোর দিচ্ছে ইথানল মিশ্রিত ফুয়েলের ওপর। আর এই আবহেই সাধারণ পেট্রোল গাড়ির বিকল্প হিসেবে ঝড় তুলতে প্রস্তুত ফ্লেক্স ফুয়েল গাড়িগুলি।
নীচে রইল এই বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ
ওয়াগন-আর থেকে ক্রেটা: ফ্লেক্স ফুয়েল প্রযুক্তিতে দেশের অটো বাজারে বড়সড় বিপ্লব !
ভারতীয় অটোমোবাইল বাজারে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হলো ‘ফ্লেক্স ফুয়েল’ (Flex Fuel) প্রযুক্তি। সাধারণ পেট্রোল গাড়ির দিন কি তবে ফুরিয়ে এল? এই প্রশ্নটাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে চারদিকে। মারুতি সুজুকি থেকে শুরু করে হুন্ডাইয়ের মতো বড় বড় গাড়ি প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যেই তাদের জনপ্রিয় মডেলের ফ্লেক্স ফুয়েল সংস্করণ বাজারে এনে হইচই ফেলে দিয়েছে।
ফ্লেক্স ফুয়েল আসলে কী ?
সহজ কথায়, ফ্লেক্স ফুয়েল হলো এমন এক প্রযুক্তি যার সাহায্যে একটি গাড়ি শুধু সাধারণ পেট্রোলেই নয়, বরং ২০ শতাংশ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলেও (E20 থেকে E85) অনায়াসে চলতে পারে। এই গাড়িগুলোর ইঞ্জিন এবং ফুয়েল সিস্টেমকে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়, যাতে তারা বেশি মাত্রায় ইথানল থাকা সত্ত্বেও কোনো ক্ষতি ছাড়াই মসৃণভাবে চলতে পারে।
মারুতি থেকে হুন্ডাই: লাইমলাইটে যে গাড়িগুলি
ভারতের বাজারে ফ্লেক্স ফুয়েল গাড়ি আনার ক্ষেত্রে অন্যতম পথিকৃৎ হলো মারুতি সুজুকি। অন্যদিকে পিছিয়ে নেই হুন্ডাই-ও। ভারতের রাস্তায় ঝড় তোলা যে জনপ্রিয় মডেলগুলো এই তালিকায় নাম লিখিয়েছে, সেগুলো হলো:
মারুতি সুজুকি ওয়াগন-আর (WagonR Flex Fuel): মধ্যবিত্তের সবচেয়ে পছন্দের এই হ্যাচব্যাক গাড়িটি এখন ফ্লেক্স ফুয়েল অবতারে হাজির।
মারুতি সুজুকি ব্রেজা (Brezza Flex Fuel): ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় এই কমপ্যাক্ট এসইউভি-ও (SUV) এখন এই নতুন প্রযুক্তিতে দৌড়াবে।
মারুতি সুজুকি গ্র্যান্ড ভিটারা (Grand Vitara Flex Fuel): মারুতির এই প্রিমিয়াম এসইউভি-তেও যোগ হয়েছে ফ্লেক্স ফুয়েল ইঞ্জিন।
হুন্ডাই ক্রেটা (Hyundai Creta Flex Fuel): দেশের মিড-সাইজ এসইউভি সেগমেন্টের রাজা হুন্ডাই ক্রেটাও তার ফ্লেক্স ফুয়েল প্রোটোটাইপ নিয়ে ইতিমধ্যেই হেডলাইন কেড়েছে।
কেন হু হু করে বাড়ছে এই গাড়ির চাহিদা ?
১. কম খরচ: পেট্রোলের তুলনায় ইথানলের দাম অনেকটাই কম। তাই দেশজুড়ে ইথানল পাম্প চালু হলে সাধারণ মানুষের পকেটের ওপর চাপ অনেকটাই কমবে।
২. পরিবেশবান্ধব: ইথানল মূলত কৃষিজাত পণ্য (যেমন আখ বা ভুট্টা) থেকে তৈরি হয়, যা পেট্রোলের চেয়ে অনেক কম কার্বন নির্গমন করে। ফলে বায়ু দূষণ কমবে।
৩. কৃষকদের লাভ: দেশে ইথানলের উৎপাদন বাড়লে সরাসরি লাভবান হবেন আমাদের দেশের কৃষকরা।
ভবিষ্যতের রূপরেখা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে ভারতে ফ্লেক্স ফুয়েল গাড়ির ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। তবে এর আসল সাফল্য নির্ভর করছে দেশজুড়ে কত দ্রুত ইথানল পাম্পের নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে তার ওপর। আগামী কয়েক বছরে যদি ইথানল পাম্পের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, তবে ওয়াগন-আর, ব্রেজা বা ক্রেটার মতো ফ্লেক্স ফুয়েল গাড়িগুলো ভারতীয় গাড়ির বাজারের সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দেবে।
আরও পড়ুন : বাইক বাজারে বিপ্লব, দেশে প্রথম ফ্লেক্স-ফুয়েল স্প্লেন্ডার ও এইচএফ ডিল্যাক্স আনল হিরো
সেরা শিরোনাম





















