Weather : সারা দেশের মাথার উপর গভীর মেঘের চাদর ! উথাল-পাথাল বৃষ্টি আর দুর্যোগ? ISRO-র স্যাটেলাইটে চমকে দেওয়া ছবি
ইসরোর আবহাওয়া উপগ্রহের তোলা ছবিতে দেখা গিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর থেকে গাঙ্গেয় সমভূমি হয়ে উত্তর-পূর্ব ভারত পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা ঘন মেঘে ঢাকা। দক্ষিণ ভারতের আকাশেও ছিল মেঘের সারি।

নয়াদিল্লি : ৯ জুলাই সকাল। মহাকাশ থেকে ভারতের দিকে তাকালে মনে হতো, যেন গোটা দেশটিকে ঢেকে রেখেছে সাদা মেঘের বিশাল এক চাদর। অনেক জায়গার মাটিই দেখা যাচ্ছিল না। ভারতের ওপর ছড়িয়ে ছিল মৌসুমি মেঘের বিস্তীর্ণ আস্তরণ। ইসরোর আবহাওয়া উপগ্রহের তোলা ছবিতে দেখা গিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর থেকে গাঙ্গেয় সমভূমি হয়ে উত্তর-পূর্ব ভারত পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা ঘন মেঘে ঢাকা। দক্ষিণ ভারতের আকাশেও ছিল মেঘের সারি।
ভারতের কতটা অংশ মেঘে ঢাকা ছিল?
১৯ জুলাইয়ের উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ভারতের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মেঘে ঢাকা ছিল। অর্থাৎ, দেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা তখন মেঘের আচ্ছাদনের নিচে। সবচেয়ে বেশি মেঘ দেখা যায় উত্তর ভারতের সমতল অঞ্চলে। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বড় অংশ ঘন মেঘে ঢাকা ছিল। এ ছাড়া আরব সাগর থেকে আসা আর্দ্র মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দক্ষিণ ভারতের ওপরও দীর্ঘ মেঘবলয় তৈরি হয়েছিল। তবে পশ্চিম রাজস্থান ও তামিলনাড়ুর কিছু অংশে আকাশ তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার ছিল। তবে এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের উপগ্রহচিত্রের ভিত্তিতে করা হিসাব। দিনের বিভিন্ন সময়ে মেঘ তৈরি হয়, আবার সরে যায়। তাই মেঘের পরিমাণও সময়ের সঙ্গে বদলে যেতে পারে।
মহাকাশ থেকে উপগ্রহ কীভাবে মেঘের ছবি তোলে ?
ভারতের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত INSAT-3DR উপগ্রহটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার ওপরে অবস্থান করছে। একই জায়গায় থেকে এটি প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর ভারতীয় উপমহাদেশের ছবি তোলে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (IMD) আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং দুর্যোগের সতর্কতা দিতে এই উপগ্রহের তথ্য ব্যবহার করে। উপগ্রহটিতে দুটি প্রধান সেন্সর রয়েছে। একটি দৃশ্যমান আলোর সাহায্যে সাধারণ ক্যামেরার মতো ছবি তোলে। এই ছবিতে যে মেঘ যত বেশি সাদা ও উজ্জ্বল দেখা যায়, সেটি সাধারণত তত বেশি ঘন। অন্য সেন্সরটি ইনফ্রারেড প্রযুক্তি ব্যবহার করে মেঘের তাপমাত্রা মাপে। ফলে রাতের অন্ধকারেও মেঘ কোথায় রয়েছে এবং কতটা উঁচুতে রয়েছে, তা সহজেই জানা যায়।
মেঘে ঢাকা মানেই কি সব জায়গায় বৃষ্টি?
না। আকাশ মেঘে ঢাকা থাকলেই যে সব জায়গায় ভারী বৃষ্টি হবে, এমন নয়। মেঘে ঢাকা বিস্তীর্ণ এলাকার বড় অংশে থাকে সিরাস বা সাধারণ মৌসুমি মেঘ। এসব মেঘ থেকে অনেক সময় শুধু হালকা বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়, আবার অনেক ক্ষেত্রে কোনো বৃষ্টিই হয় না। ভারী বৃষ্টিপাত হয় মূলত বজ্রগর্ভ গভীর মেঘের নিচে। বর্তমানে উত্তর ভারতের ওপর মৌসুমি অক্ষরেখা সক্রিয় থাকায় সেখানে ভারী বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা বেশি। তাই ওই অঞ্চলে আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজর রাখছে আবহাওয়া দফতর।























