Astrology Market Research: বৃহস্পতি তুঙ্গে ধর্ম ও জ্যোতিষচর্চার, কয়েক লক্ষ কোটি টাকার বাজার ভারতে, ডিজিটাল যুগে ধর্মগুরুরাও এখন তারকা
Astrology Market: বাজার গবেষণা সংস্থা Allied Market Research এমনই তথ্য সামনে এনেছে।

নয়াদিল্লি: সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে স্বঘোষিত ধর্মগুরু, জ্যোতিষীরাও এখন তারকা। রিলসের দুনিয়ার অবাধ বিচরণ তাঁদের। মানুষও সেই সব ভিডিও বেশ উপভোগ করেন। আর তাতে ভর করেই ভারতে ধর্মচর্চা ও জ্যোতিষচর্চার পৃথক বাজার তৈরি হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৪.৮৬ লক্ষ কোটি টাকা। বাজার গবেষণা সংস্থা Allied Market Research এমনই তথ্য সামনে এনেছে। (Astrology Market Research)
ওই সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২১ সালে ভারতে জ্যোতিষচর্চার বাজার ছিল ১২.৮ বিলিয়ন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় ১০৯৭৭২ .৮০ কোটি টাকা। ২০২২ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে জ্যোতিষচর্চার বাজারে ৫.৭ শতাংশ বৃদ্ধি থাকবে। সেই নিরিখে ২০৩১ সাল নাগাদ জ্যোতিষচর্চার বাজার ২২.৮ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকবে, ভারতীয় মুদ্রায় ১৯৫৫৩২.৮০ কোটি টাকায়। (Astrology Market)
ডিজিটাল যুগে ভারতের তরুণ সমাজও অনলাইন জ্যোতিষচর্চার দিকে ঝুঁকে পড়ছে বলে উঠে এসেছে বিভিন্ন সমীক্ষায়। ২০২৪ সালের একটি রিপোর্টে দেখা যায়, প্রতিদিন ৫১ শতাংশ ভারতীয় ভাগ্য সংক্রান্ত খোঁজ খবর নেন অনলাইন মাধ্যমে। ৮৮ শতাংশ ভারতীয় সপ্তাহে অন্তত একবার রাশিফল দেখেন। ব্যক্তিগত জীবন, সম্পর্ক নিয়ে জ্যোতিষচর্চার উপর নির্ভরশীল ৭৫ শতাংশ ভারতীয়।
Astrotalk, Astro Ved-এর মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। জ্যোতিষচর্চায় এখন আর্টিফিশিয়াল ইটেলিজেন্সও ব্যবহৃত হচ্ছে। এমনকি বিয়ের বাজারেও AI জ্যোতিষের চাহিদা বাড়ছে দিনে দিনে। AI জ্যোতিষ পরিষেবার সাহায্য়ে ব্যবহার করে মনের মানুষ খুঁজছেন অনেকেইয ২০২৫ সালের মধ্যে অনলাইন জ্যোতিষচর্চার বাজার ৬২০০ কোটি টাকায় গিয়ে পৌঁছবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অতিমারির সময় থেকেই অনলাইন জ্যোতিষচর্চার বাজার ফুলেফেঁপে উঠেছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। ২০২১ সালেই বৃদ্ধির হার ছিল ২০-২৫ শতাংশ।
Allied Market Research-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, করোনার সময় জনজীবন হঠাৎই থমকে যায়। প্রিয়জনকে হারান কেউ, অর্থনৈতিক ভাবে ধাক্কা খান কেউ, কারও ব্যক্তিগত জীবনের ঝড়ঝাপটা নেমে আসে, কেউ কেউ আবার ডুবে যান একাকীত্বে, জীবনে নেমে আসে অনিশ্চয়তা। সেই পরিস্থিতিতে অনলাইন জ্যোতিষচর্চা, ধর্মচর্চার দিকে ঝুঁকে পড়েন। ‘সৎসঙ্গ’ অনুষ্ঠানে না গেলেও, সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে ‘বাবা’দের বাণী শোনার সুযোগ পান ঘরে বসেই। শুধু ভারতীয়রাই নন, বিদেশ থেকেও এখন ভারতীয় জ্যোতিষীদের পরামর্শ চান অনেকে।
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে প্রেমানন্দ গোবিন্দ শরণ, অনিরুদ্ধাচার্যের মতো ধর্মগুরুরা সকলের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। GenZ-রা পর্যন্ত নিয়ম করে তাঁদের ভিডিও দেখেন, সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেন। স্মিত হাসির জন্য অনিরুদ্ধাচার্যকে ‘Pookie Baba’ নামও দিয়ে ফেলেছেন GenZ-রা। আবার বিরাট কোহলি, অনুষ্কা শর্মার মতো তারকাদের আনাগোনার জেরে প্রেমানন্দ মহারাজও এখন সোশ্যাল মিডিয়া তারকা। ইনস্টাগ্রামে প্রেমানন্দ মহারাজের এক একটি ভিডিও-তে ২ কোটি ৭৩ লক্ষ ফলোয়ার রয়েছেন। অনিরুদ্ধাচার্যের ফলোয়ারের সংখ্যা ৩৬ লক্ষ। কুম্ভমেলায় বিদেশিদের আগমনও এই ক্ষেত্রকে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে।
Allied Market Research জানিয়েছে, ধর্মগুরুদের জনপ্রিয়তা যেভাবে বাড়ছে, ধর্মচর্চার অর্থনীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন চোখে পড়ছে। আজকাল ভার্চুয়াল পুজো, ভার্চুয়াল তীর্থ পর্যন্ত হচ্ছে। কুম্ভমেলার সময় ভার্চুয়াল গঙ্গাস্নানও চোখে পড়ে। প্রসাদও মিলছে অনলাইন পরিষেবার আওতায়। অনলাইন মাধ্যে নিজের ভূত-ভবিষ্যৎও জেনে নিচ্ছেন মানুষ। বাজারেও এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে। ২০২৩ সালে ভারতে ধর্ম এবং আধ্যাত্মিকতার বাজার ছিল ৪.৮৬ লক্ষ কোটি টাকার। বার্ষিক ১০ শতাংশ বৃদ্ধি চোখে পড়ে।
একসময় জ্যোতিষচর্চাকে কুসংস্কার হিসেবেই দেখা হতো। কিন্তু বর্তমানে তা দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান জেনে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন বহু ভারতীয়। যোগব্যায়াম এখন ‘লাইফস্টাইলে’র অংশ হয়ে উঠেছে। ভারত এবং এশিয়া-প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলেই ধর্মচর্চা ও জ্যোতিষচর্চার বাজার ফুলে ফেঁপে উঠছে বলে জানিয়েছে Allied Market Research. তারা জানিয়েছে, জ্যোতিষচর্চার ক্ষেত্রে বৈদিক, চিনা এবং পশ্চমি পদ্ধতিই সবচেয়ে জনপ্রিয় এই মুহূর্তে। China Youth Daily-র রিপোর্ট অনুযায়ী, চাকরির বাজারেও এখন জ্যোতিষচর্চা জায়গা করে নিয়েছে। রাশিফল এবং রক্তের গ্রুপ দেখে চাকরিতে নিয়োগ করছে দেশের বিভিন্ন সংস্থা।






















