Patanjali Ayurved : ব্যবসা ও দায়িত্ববোধের মেলবন্ধন, কীভাবে ভারতের জৈব কৃষি ক্ষেত্রে বিপ্লব আনল পতঞ্জলির আয়ুর্বেদ মডেল
Baba Ramdev : আজ ভারতে পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ কেবল আয়ুর্বেদিক ও প্রাকৃতিক পণ্যের জন্য পরিচিত নয়, পাশাপাশি পরিবেশ ও সামাজিক কাজের প্রতিশ্রুতির জন্যও পরিচিত।

Baba Ramdev : এই কোম্পানির হাত ধরে বদলে গিয়েছে ভারতের কৃষি খাতের চিন্তাভাবনা। ব্যবসার সঙ্গে চলছে সমাজকল্যাণের কাজ। সেই কারণে আজ ভারতে পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ কেবল আয়ুর্বেদিক ও প্রাকৃতিক পণ্যের জন্য পরিচিত নয়, পাশাপাশি পরিবেশ ও সামাজিক কাজের প্রতিশ্রুতির জন্যও পরিচিত।
কী নীতি নিয়ে চলে কোম্পানি
পতঞ্জলির মতে, কোম্পানির স্থায়িত্ব কেবল একটি কর্পোরেট দায়িত্ব নয়, বরং এর মূল দর্শন পরিচালন পদ্ধতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কোম্পানির লক্ষ্য হল- এমন একটি বিশ্ব তৈরি করা, যেখানে মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বসবাস করার পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপায়ে সুস্থ থাকে।
কোম্পানির লক্ষ্য় জৈব কৃষিকাজকে উৎসাহিত করা, সেই কারণে নিয়েছে একাধিক পদক্ষেপ
কোম্পানি জানিয়েছে , “জৈব কৃষিকাজকে উৎসাহিত করার জন্য তারা বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে। কোম্পানি কৃষকদের রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে উৎসাহিত করে। পরিবর্তে, গোবর সার ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত প্রাকৃতিক ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে মাটির গুণমান উন্নত ও জল দূষণ কমাচ্ছে কোম্পানি।
এটি কেবল পরিবেশের জন্যই উপকারী নয়, বরং উপভোক্তাদের রাসায়নিকমুক্ত, স্বাস্থ্যকর খাবারও সরবরাহ করে। পতঞ্জলি ৭৪,০০০ হেক্টরেরও বেশি জমিতে পাম তেল চাষ প্রকল্পে ৫৭,০০০ এরও বেশি কৃষককে যোগ করেছে। এটি কেবল স্থানীয় কৃষিকেই উৎসাহিত করে না, বরং আমদানি করা ভোজ্য তেলের উপর ভারতের নির্ভরতাও কমায়।”
পতঞ্জলির মতে, “পরিবেশ সুরক্ষার জন্য, কোম্পানি সবুজ উদ্যোগ চালু করেছে। কোম্পানি জৈব-অবচনযোগ্য প্যাকেজিং গ্রহণ করেছে, যা প্লাস্টিক বর্জ্য কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও, কোম্পানি সৌর ও বায়ু শক্তির মতো পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎসগুলিতে বিনিয়োগ করছে। পতঞ্জলি ফুডস ২০২৩-২৪ সালে ১২৫,০০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টারও বেশি বায়ু শক্তি উৎপন্ন করেছে ও ১,১৯,০০০ টনেরও বেশি CO2 নির্গমন হ্রাস করেছে। এর পাশাপাশি, কোম্পানি তার বেশ কয়েকটি প্ল্যান্টে 'জিরো লিকুইড ডিসচার্ড সিস্টেম' স্থাপন করেছে, যা জল পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করে।”
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ উন্নয়নের ওপর নজর
পতঞ্জলির দাবি, “সমাজকল্যাণের ক্ষেত্রে কোম্পানি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ উন্নয়নের উপর নজর দিয়েছে। কোম্পানি হরিদ্বারে গুরুকুলম প্রতিষ্ঠা করেছে, যা গরিব শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষা দিয়ে থাকে। এছাড়াও, পতঞ্জলি গ্রামীণ মহিলাদের স্বাবলম্বী করার জন্য দক্ষতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে। ২০২৩ সালে কোম্পানি তার কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (CSR) জন্য ১২.৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৮৭% বৃদ্ধি পেয়েছে।”
কোম্পানি আরও জানিয়েছে "পতঞ্জলির এই প্রতিশ্রুতি কেবল পরিবেশ ও সমাজের জন্যই উপকারী নয়, বরং ভারতে একটি দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন মডেলকেও অনুপ্রাণিত করে। কোম্পানির এই দৃষ্টিভঙ্গি দেখায় যে- ব্যবসা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ পাশাপাশি চলতে পারে। তাতে একটি সুস্থ ও সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে।"






















