মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি, টাকার রেকর্ড পতন, বিশ্ববাজারের নেতিবাচক পরিস্থিতি এবং কিছু সেক্টরের ক্ষতি এর প্রধান কারণ।
Stock Market Crash : শেয়ার বাজারে হাহাকার ! ১৩৫০ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স, এক দিনেই উধাও ৯ লক্ষ কোটি টাকা
US Iran War : একদিনের এই পতনে বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৯ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ ধুলোয় মিশে গেছে।

US Iran War : আশা বদলে গেল আশঙ্কায়। নতুন করে ঘুরে দাঁড়াল না ভারতের শেয়ার বাজার (Stock Market)। শুক্রবার ভারতীয় শেয়ার বাজারে (Indian Share Market) বড়সড় ধস নামল। দালাল স্ট্রিটে (Dalal Street) এদিন রীতিমতো হাহাকার পড়ে গিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিশ্ববাজারের নেতিবাচক সংকেতের জেরে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ভারতের শেয়ার সূচক। একদিনের এই পতনে বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৯ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ ধুলোয় মিশে গেছে।
এক নজরে আজকের বাজার :
সেনসেক্স (Sensex): ১,৩৯২.৫০ পয়েন্ট (১.৮৩%) কমে ৭৪,৬৪১.৯২ পয়েন্টে নেমে যায়।
নিফটি (Nifty): প্রায় ৪৬৮ পয়েন্ট (২%) পড়ে গিয়ে ২৩,১৭০.৭৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
বাজার মূলধন: বিএসই (BSE) তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজার মূলধন ৪৪০ লক্ষ কোটি টাকা থেকে কমে ৪৩১ লক্ষ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
বাজার পতনের প্রধান ৫টি কারণ:
১. মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা: ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনেই-এর সাম্প্রতিক হুঙ্কার বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বন্ধ রাখার হুমকি দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ইরান-ইজরায়েল ও ইরান-আমেরিকা সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি নিতে ভয় পাচ্ছেন।
২. বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পলায়ন (FII Outflow): ভারতীয় বাজার থেকে ক্রমাগত টাকা তুলে নিচ্ছে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। শুধুমাত্র বৃহস্পতিবারই তারা ৭,০৪৯.৮৭ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে। মার্চ মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৩৯,০০০ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ বিক্রি করেছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা।
৩. টাকার রেকর্ড পতন: ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার দাম আরও কমেছে। এদিন ১২ পয়সা কমে ১ ডলারের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯২.৩৭ টাকা, যা সর্বকালীন নিম্নস্তরের কাছাকাছি। এর ফলে আমদানি করা পণ্যের দাম বাড়বে এবং মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি হবে।
৪. বিশ্ববাজারের নেতিবাচক পরিস্থিতি: শুধুমাত্র ভারত নয়, ধস নেমেছে এশিয় ও মার্কিন বাজারেও। জাপানের নিক্কেই (Nikkei), চীনের এসএসই (SSE) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি (Kospi) সূচক ২ শতাংশ পর্যন্ত পড়েছে।
৫. সেক্টোরাল ড্র্যাগ: সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে মেটাল, অটোমোবাইল এবং ব্যাঙ্কিং সেক্টর। নিফটি মিডক্যাপ এবং স্মলক্যাপ সূচকও এদিন প্রায় ২.৫% করে ধাক্কা খেয়েছে।
জ্বালানি তেলের পরিস্থিতি:
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম বর্তমানে ১০০ ডলারের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। যদিও আমেরিকা রাশিয়ার আটকে থাকা তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের ছাড় ঘোষণা করেছে, তবুও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা তেলের দামকে আকাশছোঁয়া রাখার রসদ জোগাচ্ছে। ব্রেন্ট ক্রুড বর্তমানে ব্যারেল প্রতি ৯৯.৯৯ ডলারে ট্রেড করছে।
বিশেষজ্ঞদের মত: বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, যতক্ষণ না ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত হচ্ছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির প্রবণতা কমছে, ততক্ষণ ভারতীয় বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের এই সময়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
( মনে রাখবেন : এখানে প্রদত্ত তথ্য শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা জরুরি যে, বাজারে বিনিয়োগ করা ঝুঁকি সাপেক্ষ। বিনিয়োগকারী হিসাবে অর্থ বিনিয়োগ করার আগে সর্বদা একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করুন। ABPLive.com কখনও কাউকে এখানে অর্থ বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেয় না। এখানে কেবল শিক্ষার উদ্দেশ্যে এই শেয়ার মার্কেট সম্পর্কিত খবর দেওয়া হয়। কোনও শেয়ার সম্পর্কে আমরা কল বা টিপ দিই না।)
Frequently Asked Questions
ভারতের শেয়ার বাজারে আজকের পতনের প্রধান কারণ কী?
মধ্যপ্রাচ্যের কোন ঘটনা শেয়ার বাজারকে প্রভাবিত করছে?
ইরানের সুপ্রিম লিডারের হুমকি এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার আশঙ্কা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, যা বাজারকে প্রভাবিত করছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কেন ভারতীয় বাজার থেকে টাকা তুলছে?
তারা ভারতীয় বাজার থেকে ক্রমাগত টাকা তুলে নিচ্ছে। শুধুমাত্র বৃহস্পতিবারই তারা ৭,০৪৯.৮৭ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে।
আজকের পতনে কোন সেক্টরগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে?
মেটাল, অটোমোবাইল এবং ব্যাঙ্কিং সেক্টর সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। নিফটি মিডক্যাপ এবং স্মলক্যাপ সূচকও ধাক্কা খেয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য কী পরামর্শ দিয়েছেন?
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।























