Rajesh Export SEBI Case : রাজেশ এক্সপোর্টের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালেই উঠেছিল মারাত্মক অভিযোগ, এখন ১৫ লাখ কোটির কথা বলছে সেবি
Rajesh Exports Faced Scrutiny : ২০১৪ সালের রিপোর্টে মারাত্মক আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ রয়েছে এই কোম্পানির বিরুদ্ধে। জেনে নিন, অতীতে রাজেশ এক্সপোর্টের নামে কী কী অভিযোগ উঠেছে।

Rajesh Exports Faced Scrutiny : নীরব মোদি, বিজয় মাল্যরা এখন অতীত কথা। সম্প্রতি ভারতের আর্থিক ইতিহাসে নতুন ধাক্কা দিয়েছে রাজেশ এক্সপোর্ট (Rajesh Export SEBI Case)। সেবির অভিযোগ, ১৫ লাখ কোটির আর্থিক হিসেব জালিয়াতি করেছে এই কোম্পানি। তবে ২০১৪ সালের রিপোর্টে মারাত্মক আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ রয়েছে এই কোম্পানির বিরুদ্ধে। জেনে নিন, অতীতে রাজেশ এক্সপোর্টের নামে কী কী অভিযোগ উঠেছে।
কী অভিযোগ এনেছে সেবি
দেশের সাম্প্রতিক কর্পোরেট জগতে এত বড় আর্থিক অসঙ্গতির প্রসঙ্গ আসেনি। বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা SEBI-র অভিযোগ, সোনা উৎপাদন ও রফতানিকারী সংস্থা 'রাজেশ এক্সপোর্টস লিমিটেড' (REL) আর্থিক হিসেবে জালিয়াতি করেছে। এই বিষয়ে একটি ১০৯ পাতার অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারি করে কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রায় ১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকার রাজস্ব ) বাড়িয়ে দেখানোর গুরুতর অভিযোগ এনেছে সিকিউরিটি এক্সচেঞ্চ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া।
কী কারণে শেয়ার বাজারে বড় ধসের মুখে কোম্পানি
সেবা জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোম্পানির প্রোমোটার তথা চেয়ারম্যান রাজেশ মেহতাকে শেয়ার বাজারে লেনদেন করা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি নতুন ধাক্কা হলেও, বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংস্থার আর্থিক খতিয়ান নিয়ে সন্দেহ দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছিল। আগে কেন দেখা হয়নি এই বিষয়ে।
বিশাল আয় হলেও নামমাত্র লাভ
বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক এই কোম্পানিটি কোনও ছোটখাটো সংস্থা নয়। ২০১৫ সালে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে সুইজারল্যান্ডের 'ভালকাম্বি' (Valcambi) নামের বিশ্বের বৃহত্তম সোনার শোধনাগারটি কিনে নিয়েছিল রাজেশ এক্সপোর্টস। এরপর থেকেই ভারতের সর্বোচ্চ টার্নওভার করা কোম্পানিগুলির তালিকায় জায়গা করে নেয় তারা।
সেবির রিপোর্ট অনুযায়ী, বিগত কয়েক বছরে কোম্পানির আর্থিক খতিয়ান ছিল চোখ কপালে তোলার মতো:
২০২০-২১ অর্থবর্ষ: প্রায় ২.৫৮ লক্ষ কোটি টাকা রাজস্ব।
২০২২-২৩ অর্থবর্ষ: প্রায় ৩.৩৯ লক্ষ কোটি টাকা রাজস্ব।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ: রাজস্ব লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৭.৭৮ লক্ষ কোটি টাকায়।
কোথায় আসল আর্থিক অসঙ্গতি
হিসেবখাতা বলছে, রাজেশ এক্সপোর্টের আসল গোলমালটা ছিল অন্য জায়গায়। এত বিপুল পরিমাণ ব্যবসার পরেও কোম্পানির লাভ থাকত অত্যন্ত নগণ্য। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৬ সালের মার্চ ত্রৈমাসিকেই কোম্পানি যেখানে ২.৩৬ লক্ষ কোটি টাকার ব্যবসা দেখিয়েছে, সেখানে লাভের বদলে উল্টে ৫৩.৫ কোটি টাকার নেট লোকসান বা ক্ষতি রেকর্ড করা হয়েছে। বিপুল আয় অথচ নামমাত্র লাভ, এই খটকা বছরের পর বছর ধরে ভাবাচ্ছিল বাজার বিশ্লেষকদের।
২০১৪ সাল থেকেই আর্থিক অসঙ্গতি নিয়ে অভিযোগ
সেবির এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপের বহু আগে, ২০১৪ সালেই আর্থিক খবরের ম্যাগাজিন 'মানিলাইফ' (Moneylife) রাজেশ এক্সপোর্টসের আর্থিক অসঙ্গতি নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তৎকালীন সময়ে কোম্পানির উত্থাপিত কয়েকটি অসঙ্গতি সম্পর্কে নীচে দেওয়া হল
কম কর্মী খরচ: যে সংস্থা বছরে ৩১,০০০ কোটি টাকার বেশি ব্যবসা করছে, তাদের কর্মচারীদের বেতন বা কর্মী খরচ দেখানো হয়েছিল মাত্র ৭ কোটি টাকা। জুয়েলারি তৈরি, খুচরো ব্যবসা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মতো শ্রম-ভিত্তিক সেক্টরে এই খরচ অবিশ্বাস্য রকমের কম।
অদ্ভুত ব্যালেন্স শিট: কোম্পানির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যেখানে প্রায় ৯,৮৪৬ কোটি টাকা নগদ জমা দেখানো হয়েছিল, সেখানে একই সঙ্গে কেন ২,৬৯৫ কোটি টাকার ঋণ নেওয়া বজায় রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
অডিট আপত্তি ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট: বিশিষ্ট বিনিয়োগকারী ও বিশ্লেষক দেবাশিস বসু ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে একাধিকবার সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজেশ এক্সপোর্টসকে "রহস্যময় কোম্পানি" বলে উল্লেখ করেন। ২০১৫ সালের একটি কোয়ার্টারে ২৩.৭১ কোটি টাকা লাভ করেও কোম্পানির ট্যাক্স প্রভিশন 'শূন্য (০)' দেখানো নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছিলেন।
সেবির অন্তর্বর্তী তদন্তে কী উঠে এসেছে ?
একজন শেয়ারহোল্ডারের অভিযোগের ভিত্তিতে সেবি যখন একটি ফরেনসিক অডিট দল নিয়োগ করে, তখন বেশ কিছু মারাত্মক অসঙ্গতি ধরা পড়ে:
সেবির মূল পর্যবেক্ষণ: রাজেশ এক্সপোর্টসের মোট আয়ের প্রায় ৯৭% থেকে ৯৯% আসে তাদের বিদেশি সাবসিডিয়ারি (সহযোগী সংস্থা) ও শাখাগুলি থেকে। ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে এই সহযোগী সংস্থাগুলির মাধ্যমে দেখানো ১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকার সম্পূর্ণ রাজস্বই কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেখানো বা সাজানো (Inflated) হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সেবি।
তদন্তকারী দল আরও জানিয়েছে যে, সুইজারল্যান্ডের ডেটা প্রোটেকশন আইনের দোহাই দিয়ে কোম্পানি তাদের বিদেশি সহযোগী সংস্থাগুলির মূল ইআরপি (ERP) সিস্টেম এবং ট্রানজ্যাকশন ডেটা খতিয়ে দেখার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি, এলআইসি (LIC)-র মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার এই কোম্পানিতে ১০%-এর বেশি শেয়ার রয়েছে এবং কানারা ব্যাঙ্কের প্রায় ৫০৯ কোটি টাকার ঋণ জড়িয়ে থাকায় সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের টাকাও এখন বড়সড় ঝুঁকিতে।
পাল্টা কী বলছে কোম্পানি
যদিও কোম্পানির বিরুদ্ধে ওঠা হিসেব জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাজেশ এক্সপোর্টস। সেবির সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে সংস্থা। কোম্পানির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে , তাদের ঘোষিত রাজস্বের হিসেবে কোনও ভুল বা জালিয়াতি হয়নি। এটি মূলত সেবি ও কোম্পানির নথিপত্রের মধ্যে একটি "যোগাযোগের ঘাটতি ও বিভ্রান্তি" (Communication Gap)। তারা সমস্ত আসল নথিপত্র সেবির কাছে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং তারা আশাবাদী যে চূড়ান্ত তদন্তে সত্য প্রমাণিত হবে।
আরও পড়ুন : ভুল বোঝাবুঝি ! ১৫ লাখ কোটির হিসেব জালিয়াতি করেছে কোম্পানি ? মুখ খুলল রাজেশ এক্সপোর্ট
সেরা শিরোনাম






















