Rajesh Exports On SEBI Case : ভুল বোঝাবুঝি ! ১৫ লাখ কোটির হিসেব জালিয়াতি করেছে কোম্পানি ? মুখ খুলল রাজেশ এক্সপোর্ট
Rajesh Exports Ltd : আর্থিক জালিয়াতি (Rajesh Exports On SEBI Case) অভিযোগের বিরুদ্ধে মুখ খুলল রাজেশ এক্সপোর্ট । নিছকই হিসেব নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি ? কোম্পানির অ্যাকাউন্ট নিয়ে কী বলল সংস্থা ?

Rajesh Exports Ltd : অবশেষে সেবির (SEBI) ১৫ হাজার কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতি (Rajesh Exports On SEBI Case) অভিযোগের বিরুদ্ধে মুখ খুলল রাজেশ এক্সপোর্ট (Rajesh Exports Ltd)। নিছকই হিসেব নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি ? কোম্পানির অ্যাকাউন্ট নিয়ে কী বলল সংস্থা ?
কী অভিযোগ উঠেছে কোম্পানির বিরুদ্ধে
সম্প্রতি বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি মারাত্মক অভিযোগ করেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ স্বর্ণ ব্যবসায়ী সংস্থা 'রাজেশ এক্সপোর্টস লিমিটেড' (Rajesh Exports Ltd.)-এর বিরুদ্ধে। সংস্থার অভিযোগ, আর্থিক খতিয়ানে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব বা রেভিনিউ ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখিয়েছে কোম্পানি। যে কারণে আর্থিক তছরুপের সংখ্যাটা ১৫ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
পাল্টা সেবির এই অভিযোগ নিয়ে কী বলছে কোম্পানি
যদিও সেবির এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে পাল্টা সাফাই দিয়েছে সংস্থা। তাদের দাবি, এটি কোনও জালিয়াতি নয়, বরং সেবির হিসাবের "ভুল বোঝাবুঝি" ও "যোগাযোগের অভাব" থেকেই এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
সেবির অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে কী বলা হয়েছে
সেবি তাদের ১০৯ পাতার একটি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে রাজেশ এক্সপোর্টস তাদের ঘোষিত বিক্রির প্রায় ৯৭% থেকে ৯৯% পর্যন্ত বাড়িয়ে বা ফাঁপিয়ে দেখিয়েছে, যা টাকার অঙ্কে প্রায় ১৫.১৫ লাখ কোটি টাকা। সেবির মতে, এই ধরনের আর্থিক অসঙ্গতি নজিরবিহীন ও অত্যন্ত গুরুতর। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সেবি ইতিমধ্যেই সংস্থার কর্ণধার রাজেশ মেহতাকে রাজেশ এক্সপোর্টসের শেয়ার কেনাবেচা বা লেনদেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
আমরা কোনও ভুল করিনি', দাবি রাজেশ এক্সপোর্টসের
সেবির এই পদক্ষেপের পর বৃহস্পতিবার একটি রেগুলেটরি ফাইলিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে রাজেশ এক্সপোর্টস। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
রাজেশ এক্সপোর্টসের দাবি, সেবি তাদের সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সহযোগী সংস্থা 'ভালকাম্বি' (Valcambi)-এর মোট রেভিনিউ বা রাজস্বের জায়গায় ভুলবশত সেটির EBITDA (Earning Before Interest, Taxes, Depreciation, and Amortization - অর্থাৎ সুদ, কর ও অবচয় বাদ দেওয়ার আগের আয়) হিসাব করেছে। আর এই কারণেই দুই হিসেবের মধ্যে প্রায় ৯৭% ফারাক দেখা যাচ্ছে।
আইনি জরিমানা হয়নি: সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, সেবি এখনও পর্যন্ত তাদের ওপর কোনও জরিমানা, পেনাল্টি বা কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। এর থেকেই প্রমাণিত হয় যে চূড়ান্তভাবে কোনও অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।
রাজস্ব ফাঁপানোর যুক্তিহীনতা: রাজেশ এক্সপোর্টসের যুক্তি, কোনও তালিকাভুক্ত (Publicly Listed) কোম্পানি যদি নিজেদের রেভিনিউ বা বিক্রি বাড়িয়ে দেখায়, তবে তাদের লাভের মার্জিন কমে যায়। তাই ইচ্ছাকৃতভাবে রাজস্ব বাড়িয়ে দেখানোর কোনও যৌক্তিকতা নেই।
কী হবে পরবর্তী পদক্ষেপ
কোম্পানি জানিয়েছে , তারা সেবির সঙ্গে এই 'যোগাযোগের ঘাটতি' মেটাতে কাজ করছে। সমস্ত প্রয়োজনীয় ও সঠিক নথিপত্র সেবির কাছে জমা দিয়ে খুব দ্রুতই এই বিভ্রান্তি দূর করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী রাজেশ এক্সপোর্টস কর্তৃপক্ষ। তবে দেশের শীর্ষ স্তরের একটি স্বর্ণ রফতানিকারক সংস্থার আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে সেবির এই প্রশ্ন তোলায় স্বাভাবিকভাবেই শোরগোল পড়ে গেছে দেশের শেয়ার বাজার ও বিনিয়োগকারীদের মহলে।
সেরা শিরোনাম






















