Rajesh Export Share Price : রাজেশ এক্সপোর্টসের শেয়ারে ৭ দিনে ৩০ শতাংশ ধস, দশা বদলাতে ১০ দফা স্পষ্টীকরণ দিল সংস্থা
Rajesh Export SEBI Case : সূচক বলছে, ৫২ সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তরে চলে গেছে স্টক। পরিস্থিতি সামলাতে পাল্টা এই কথা বলছে সংস্থা। আপনি কি কেনার প্ল্যান করছেন।

Rajesh Export SEBI Case : বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবির (SEBI) এক নির্দেশে পুরো বদলে গেছে রাজেশ এক্সপোর্টের শেয়ারের (Rajesh Export Share Price) পরিস্থিতি। মাত্র সাত দিনেই ৩০ শতাংশ পড়েছে কোম্পানির শেয়ার। সূচক বলছে, ৫২ সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তরে চলে গেছে স্টক। পরিস্থিতি সামলাতে পাল্টা এই কথা বলছে সংস্থা। আপনি কি কেনার প্ল্যান করছেন।
৭৭ টাকায় চলে এসেছে স্টক
ঘুরে দাঁড়াল না স্টক, শুক্রবার টানা সাতটি ট্রেডিং সেশনে পতন অব্যাহত রইল রাজেশ এক্সপোর্টের। শুক্রবার আরও ৫ শতাংশ পড়ে শেয়ারের দাম দাঁড়ায় ৭৭.০৫ টাকায়, যা গত এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন (52-Week Low)। এই নিয়ে মাত্র সাতটি ট্রেডিং ডে-তেই প্রায় ২৯.৫৬ শতাংশ বাজারমূল্য হারিয়েছে সংস্থা। যা স্বাভাবিকভাবেই
কেন এই পরিস্থিতি হল বাজারে
সম্প্রতি রাজেশ এক্সপোর্টের বিরুদ্ধে ১৫ লাখ কোটির হিসেব কারচুপির দাবি করেছে SEBI । সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের পরই কোম্পানির শেয়ার বড় ধস নেমেছে। অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে সেবি, রাজেশ এক্সপোর্টস ও কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা তথা এগজিকিউটিভ চেয়ারম্যান রাজেশ মেহতাকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত শেয়ার বাজারে লেনদেন বা প্রবেশ করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
কী অভিযোগ করেছে সেবি
রাজেশ এক্সপোর্টের বিরুদ্ধে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার অভিযোগ, আয় নিয়ে কারচুপি করেছে সংস্থা। ২০২১ থেকে ২০২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে সংস্থার সাবসিডিয়ারি বা সহযোগী কোম্পানিগুলির আয়ের প্রায় ৯৯.৮০ শতাংশ, যা অঙ্কের হিসাবে প্রায় ১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকা, তাতে ব্যাপক গরমিল ও ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে।
এখানেই শেষ হয়নি রাজেশ এক্সপোর্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ। সেব দাবি করেছে, তথ্য গোপন করেছে রাজেশের সংস্থা। কোম্পানির মোট একত্রিত আয়ের (Consolidated Revenue) প্রায় ৯৭ থেকে ৯৯ শতাংশই আসে মূলত সুইজারল্যান্ড-ভিত্তিক সহযোগী সংস্থা 'ভালকাম্বি এসএ' (Valcambi SA) থেকে। কিন্তু সেবি-র অভিযোগ, রাজেশ এক্সপোর্টস এই বিদেশি সহযোগী সংস্থাগুলির আর্থিক খতিয়ান বা ব্যালেন্স শিট সঠিক নিয়মে জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করেনি।
সেবির দাবি পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা ১০ দাবি রাজেশ এক্সপোর্টের
ইতিমধ্যেই সেবি-র অন্তর্বর্তী নির্দেশকে 'ভুল ধারণা' বলে দাবি করে স্টক এক্সচেঞ্জে একটি ১০ দফার স্পষ্টীকরণ ফাইল করেছে রাজেশ এক্সপোর্টস। সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে..
১) রাজেশ এক্সপোর্টস সম্পূর্ণ ঋণমুক্ত একটি সংস্থা। এই কোম্পানি ব্যবসার জন্য বাইরের কোনও বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল নয়।
২) ১৯৯৫ সালের আইপিও (IPO)-র মাধ্যমে মাত্র ১০ কোটি টাকা তোলা ছাড়া, কোম্পানি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আর কোনও টাকা তোলেনি।
৩) কোনো ঘরোয়া সংস্থাকে কখনো ইক্যুইটি প্লেসমেন্ট করা হয়নি।
৪) আর্থিক খতিয়ান বা আয়ের পরিসংখ্যানে কোনো কারচুপি করা হয়নি, ঘোষিত সমস্ত নম্বর সত্য ও খাঁটি।
৫) সেবি-র এই নির্দেশটি কেবলই একটি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ, যা কিছু বিষয়ের ওপর কেবল সন্দেহ প্রকাশ করেছে। চূড়ান্ত কোনও অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।
৬) কোম্পানির কোনও কর্মী বা কর্মকর্তা কোনও ধরনের জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত নন।
৭) আয়ের হিসাব নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। সংহত আয়ের একটা বড় অংশ আসে সুইজারল্যান্ডের বিশ্ববিখ্যাত গোল্ড রিফাইনারি 'ভালকাম্বি' থেকে, যারা বিশ্বের বড় বড় সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক ও বুলিয়ন সংস্থাকে সোনা সরবরাহ করে।
৮) সোশ্যাল মিডিয়া ও কিছু সংবাদমাধ্যমে এলআইসি (LIC)-কে শেয়ার দেওয়া বা জালিয়াতির যে খবর ছড়াচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক।
৯) কোম্পানির সমস্ত কাজ অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখছে।
১০) সেবি-র তোলা প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর ও উপযুক্ত নথিপত্র তৈরি করছে সংস্থা। রাজেশ এক্সপোর্টস আশাবাদী যে সমস্ত প্রমাণ খতিয়ে দেখার পর সেবি তাদের এই সন্দেহ থেকে মুক্তি দেবে।
আরও পড়ুন : ভুল বোঝাবুঝি ! ১৫ লাখ কোটির হিসেব জালিয়াতি করেছে কোম্পানি ? মুখ খুলল রাজেশ এক্সপোর্ট
সেরা শিরোনাম






















