হ্যাঁ, সোমবার ভারতীয় শেয়ার বাজারে ব্যাপক পতন দেখা গেছে। দুটি প্রধান সূচকই লালে দৌড় থামিয়েছে।
Stock Market Crash : একদিনে বিনিয়োগকারীদের ৮ লক্ষ কোটি টাকা ক্ষতি, কেন এই অবস্থা বাজারের ?
Share Market Crash : আজ সোমবার ভারতীয় শেয়ার বাজারে ব্যাপক পতন দেখা গেছে।

Share Market Crash : বৃদ্ধির পরিবর্তে পতনের রাস্তায় হাঁটল বাজার। সপ্তাহের প্রথম ট্রেডিং সেশনে অনেকটাই নীচে নেমে এল মার্কেট। আজ সোমবার ভারতীয় শেয়ার বাজারে ব্যাপক পতন দেখা গেছে। দুটি প্রধান সূচকই লালে দৌড় থামিয়েছে। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের রেপো রেট কমানো ও ব্যাংকগুলিকে প্রায় ১.৫ লক্ষ কোটি টাকা নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ভারতীয় শেয়ার বাজারের পতন দেখা গেছে।
একদিনে ৮ লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি
আজ শেয়ার বাজার অনেকটাই নীচে নেমে আসে। এদিন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকা হারিয়েছেন। আরবিআইয়ের সহায়তার পর, বিনিয়োগকারীরা সোমবার পুনরুত্থানের আশা করেছিলেন। যদিও বিনিয়োগকারীদের সেই আশা পূরণ হয়নি।
আজ শেয়ার বাজারের পরিস্থিতি কেমন ছিল
সোমবার দুপুর ২:৫০ নাগাদ ৩০-শেয়ারের বিএসই সেনসেক্স সূচক ৭০০.৫৮ পয়েন্ট বা ০.৮২ শতাংশ কমে ৮৫,০১১.৭৯-এ লেনদেন করছিল। যেখানে এনএসই নিফটি ৫০ ২৬২.৪০ পয়েন্ট বা ১.০০ শতাংশ কমে ২৫,৯২৪.০৫-এ লেনদেন করছিল।
বাজারে এই পতনের কারণ
১. মার্কিন ফেড সুদের হার কমানোর বিষয়ে সতর্ক
বিনিয়োগকারীরা ৯ এবং ১০ ডিসেম্বর আসন্ন দুই দিনের মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ বৈঠকের জন্য সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন। সভার ফলাফল বিশ্বব্যাপী প্রভাব ফেলতে পারে। ফলস্বরূপ, বিনিয়োগকারীরা সাবধানতার সঙ্গে তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনা করছেন।
২. বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রি অব্যাহত
বর্তমান বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার বাজারে খুব কম আস্থা দেখাচ্ছেন। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শুক্রবার টানা সপ্তম দিনে শেয়ার বিক্রি করেছেন, বাজার থেকে ৪৩৮.৯০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন।
ডিসেম্বরে বিনিয়োগকারীরা ₹১১,০০০ কোটি টাকারও বেশি টাকা তুলে নিয়েছেন। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের টাকা তুলে নেওয়ার প্রভাব শেয়ার বাজারে অনুভূত হয়েছিল, যা লাল হয়ে গিয়েছিল।
৩. টাকার ক্রমাগত পতন অব্যাহত
সোমবারের ট্রেডিং সেশনের শুরুতে ডলারের তুলনায় রুপির দাম ১৬ পয়সা কমে ৯০.১১ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া, গত কয়েকদিন ধরে রুপির দাম ক্রমাগত দুর্বল হচ্ছে। এটি বাজারের পতনের একটি কারণ হতে পারে।
৪. অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি
আন্তর্জাতিক বাজারে উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেল ০.১৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৬৩.৮৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি ভারতের আমদানি খরচ এবং জ্বালানি মুদ্রাস্ফীতির উপর প্রভাব ফেলে, যার ফলে শেয়ার বাজারে সতর্ক মনোভাব দেখা দেয়।
( মনে রাখবেন : এখানে প্রদত্ত তথ্য শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা জরুরি যে, বাজারে বিনিয়োগ করা ঝুঁকি সাপেক্ষ। বিনিয়োগকারী হিসাবে অর্থ বিনিয়োগ করার আগে সর্বদা একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করুন। ABPLive.com কখনও কাউকে এখানে অর্থ বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেয় না। এখানে কেবল শিক্ষার উদ্দেশ্যে এই শেয়ার মার্কেট সম্পর্কিত খবর দেওয়া হয়। কোনও শেয়ার সম্পর্কে আমরা কল বা টিপ দিই না। )
Frequently Asked Questions
সোমবার শেয়ার বাজারে কি ব্যাপক পতন হয়েছিল?
এই পতনের ফলে বিনিয়োগকারীরা কত টাকা হারিয়েছে?
এদিন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকা হারিয়েছেন।
বাজার পতনের প্রধান কারণগুলো কী কী?
মার্কিন ফেড সুদের হার কমানোর বিষয়ে সতর্কতা, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রি অব্যাহত, টাকার ক্রমাগত পতন এবং অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি বাজারের পতনের প্রধান কারণ।
ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পদক্ষেপের পরেও কেন বাজার পতন হল?
ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের রেপো রেট কমানো ও ব্যাংকগুলিকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান সত্ত্বেও বাজারের পতন দেখা গেছে, যার মূল কারণ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব।






















