Bengaluru News: ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে প্রেমিকাকে গণধর্ষণ! অভিযুক্ত প্রেমিক ও প্রেমিকের বন্ধু
Bengaluru Crime News: নির্যাতিতার অভিযোগ, এরপর সান্দ্রা এবং নিখিল বলপূর্বক তাঁকে গোলাপি রঙের একটি ট্যাবলেট খাইয়ে দেয়। ১০ মিনিটের মধ্যেই তিনি শরীরে গরম অনুভব করেন, ক্রমশ ঝাপসা দেখার মতো লক্ষণ দেখা দেয়

বেঙ্গালুরু: এক কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল বেঙ্গালুরুতে (Bengaluru)। ১৯ বছর বয়সী এক বেসরকারি কলেজের ছাত্রীর অভিযোগ, ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে তাঁর প্রেমিক ও প্রেমিকের বন্ধু মিলে প্রথমে তাঁকে মাদকাচ্ছন্ন করে। এরপর তাঁর উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ।
বেঙ্গালুরুর এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই অমৃতাহাল্লি থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। শুরু হয়েছে তদন্ত। পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (Bharatiya Nyaya Sanhita) ধারা ৬৪ (ধর্ষণ), ধারা ৭০(১) (গণধর্ষণ), এবং ধারা ৩৫১ (২) সঙ্গে ধারা ৩(৫) এর অধীনে মামলা দায়ের করেছে।
জানা যাচ্ছে, নির্যাতিতা তামিলনাড়ুর (Tamil Nadu) বাসিন্দা। তিনি বেঙ্গালুরুর একটি নামী কলেজে সাংবাদিকতা এবং মনোবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করছেন। গত পাঁচ মাস ধরে এক বান্ধবীর সঙ্গে পিজি হোস্টেলে থাকছিলেন তিনি। আরও জানা যাচ্ছে, ডিকসন সান্ড্রা নামে এক অভিযুক্তের সঙ্গে এবছরের জানুয়ারি মাসে সমাজমাধ্যমে আলাপ হয় নির্যাতিতার। ধীরে ধীরে বাড়ে বন্ধুত্ব। এরপর প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা।
এফআইআরে (FIR) নির্যাতিতার দাবি, প্রতিদিনই তাঁদের ফোন ও চ্যাটে কথাবার্তা হত। রোজকার মতো ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন্স ডে-র দিন সকাল ১০টা নাগাদ কলেজে যান তিনি। দুপুর ১২.৫০টা নাগাদ ক্লাস শেষ হলে ফের পিজি হোস্টেলে ফিরে আসেন। এরপর রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ বনশংকরীতে একটি রেস্তরাঁয় ডিনার করতে যান। নির্যাতিতা জানিয়েছেন, এরপর অভিযুক্ত সান্ড্রা তাঁকে ফোন করে জাক্কুরের একটি ভিলাতে ডেকে পাঠায়। সে তাঁর এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে রাত ১.১৫টা নাগাদ সেখানে পৌঁছান। দ্বিতীয় অভিযুক্ত, নিখিল, যে নিজেও বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা, সেখানে উপস্থিত ছিল। সেখানে তাঁরা একসঙ্গে বসে গল্প, খাওয়াদাওয়া করেন।
নির্যাতিতার অভিযোগ, এরপর সান্দ্রা এবং নিখিল বলপূর্বক তাঁকে গোলাপি রঙের একটি ট্যাবলেট খাইয়ে দেয়। ১০ মিনিটের মধ্যেই তিনি শরীরে গরম অনুভব করেন, ঘাম দিতে থাকে সঙ্গে মাথা ঘোরা ও ক্রমশ ঝাপসা দেখার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। নির্যাতিতার আরও দাবি, সান্ড্রা তাঁকে একটি ঘরে নিয়ে যায়। বিছানায় শুইয়ে ধূমপানের অছিলায় ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জ্ঞান ফিরলে অবিন্যস্ত অবস্থায় নিজেকে আবিষ্কার করেন এবং পাশে নিখিলকে দেখতে পান। সান্দ্রার কথা জিজ্ঞাসা করলে নিখিল তৎক্ষণাৎ বাইরে বেরিয়ে যায় এবং কিছু পরে দু'জনে একসঙ্গে ফিরে আসে। নির্যাতিতার অভিযোগ, এরপর সান্ড্রা তাঁর ওপর যৌন নির্যাতন চালায় এবং ঘরে আটকে রাখে। এরপর দুপুর ১২টার দিকে সান্দ্রা দরজা খুলে দেয়।
নির্যাতিতার অভিযোগ, অপর অভিযুক্ত নিখিল এরপর তাঁকে একটি মলের কাছে ছেড়ে দিয়ে আসে। তাঁকে ঘটনা নিয়ে মুখ না খোলার হুমকি দেয়। নির্যাতিতা জানিয়েছেন, ওই ঘটনার পর পুলিশের কাছে যেতে ভয় পেয়েছিলেন তিনি। ১৭ ফেব্রুয়ারি একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান। এরপর পুরো ঘটনাটি তিনি তাঁর ভাইকে জানান ও সান্দ্রা এবং নিখিলের বিরুদ্ধে অমৃতাহাল্লি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।























