Abhishek Banerjee: ‘যিনি ট্রাম্পের সঙ্গে ছবি তুলেছেন, ট্রাম্পের হয়ে প্রচার করেছেন, শুল্ক নিয়ে জবাবদিহিও তাঁকেই করতে হবে’, মোদিকে নিশানা অভিষেকের
Abhishek Banerjee on Narendra Modi: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

কলকাতা: ভারতের উপর আরও শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত আমেরিকার। ২৫ থেকে বেড়ে ৫০ শতাংশ হল শুল্ক (US Tariff)। সেই নিয়ে এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, আমেরিকায় ট্রাম্পের হয়ে প্রচার করতে গিয়েছিলেন মোদি। আবার তাঁর হয়ে প্রচার করতে গুজরাত এসেছিলেন ট্রাম্প। তাই ভারতের প্রতি ট্রাম্পের এমন আচরণের দায়ও মোদির। তাঁকেই জবাবদিহি করতে হবে। (Abhishek Banerjee)
রাশিয়ার থেকে তেল কেনার শাস্তি হিসেবে ভারতের উপর প্রথমে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান ট্রাম্প। বাড়তি জরিমানাও দিতে হবে বলে ঘোষণা করেছিলেন। এর পর বুধবার ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান। অর্থাৎ সবমিলিয়ে ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপালেন তিনি। এই গোটা পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রের 'ব্যর্থ' বিদেশনীতিকেই দায়ী করছেন বিরোধীরা। এবার সেই নিয়ে সুর চড়ালেন অভিষেকও। (Donald Trump)
বৃহস্পতিবার কলকাতা বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন অভিষেক। তিনি বলেন, "শুল্ক নিয়ে আমাদের প্রশ্ন করা উচিত নয়। ট্রাম্পের সঙ্গে যাঁদের ছবি রয়েছে, তাঁদের প্রশ্ন করুন। যাঁদের হয়ে এখানে প্রচার করতে এসেছিলেন ট্রাম্প, ২০১৯ সালে যাঁরা ট্রাম্পের হয়ে আমেরিকার টেক্সাসে প্রচার করতে গিয়েছিলেন, কেন ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপল, তাঁদের জিজ্ঞাসা করুন। এতে ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত, রফতানিতে প্রভাব পড়বে, বিশেষ করে আইটি, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং টেক্সটাইল ব্যবসা এবং সেই সংক্রান্ত পরিষেবার উপর প্রভাব পড়বে। কর্মসংস্থান কমবে, প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতিতেও। আমি মনে করি এটা কূটনৈতিক ব্যর্থতা। কঠোর ভাবে এর মোকাবিলা করতে হবে ভারতকে।"
আমেরিকার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এমন হল কী করে, সেই নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক। তাঁর কথায়, "ভারতকে যারা ছোট করতে চায়, হঠাৎ তাদের এত ক্ষমতা হল কী করে? যাঁরা ৫৬ ইঞ্চি ছাতির কথা বলতেন, তাঁরা ক্ষমতায় থাকাকালীনই চিন, আমেরিকার মতো দেশ ভারতকে বুড়ো আঙুল, রক্তচক্ষু দেখায় কী করে? বাইরে এতকিছু বলতে চাই না আমি। কিন্তু সর্বদলীয় প্রতিনিধি হয়ে পাঁচটি দেশে গিয়েছিলাম আমি। আসিয়ানের ১১টি দেশ, যার মধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, লাওসের মতো দেশ রয়েছে, পহেলগাঁও নিয়ে পাকিস্তানের নিন্দা করে তারা কেউ বিবৃতি দেয়নি। এই ব্যর্থতা কার?"
২০১৯ সালে ট্রাম্পের হয়ে আমেরিকায় প্রচারে গিয়েছিলেন মোদি। সেখানে ট্রাম্পের হয়ে 'অব কি বার ট্রাম্প সরকার' স্লোগান তুলতেও শোনা যায় তাঁকে। এর পর ভারতের গুজরাতে এসে জনসভা করেন ট্রাম্পও। সেই প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, "কোভিডের একমাস আগে, ট্রাম্পকে নিয়ে গুজরাতে কে প্রচার করেছিল? ট্রাম্পের হয়ে কে প্রচারে গিয়েছিল? আপনি করেছিলেন, বিজেপি নেতারা করেছিল। ট্রাম্পের দীর্ঘায়ু কামনা করে যজ্ঞ করেছিল বিজেপি কর্মীরা। আমার মতে, যাঁরা ট্রাম্পের হয়ে প্রচার করেন এবং ট্রাম্প যাঁদের হয়ে প্রচারে আসেন, তাঁরাই জবাব দেবেন। কেন এমন পদক্ষেপ করলেন ট্রাম্প?" গুজরাতের সভার একটি ভিডিও দেখিয়ে অভিষেক বলেন, "তৃণমূলের কেউ ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ করেনি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করেননি। মোদি বলেছেন, 'মাই ফ্রেন্ড ডোনাল্ড ট্রাম্প'। মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় বলেননি, বিরোধীদের কেউও বলেননি। এখন ট্রাম্প বলছেন, ভারতের অর্থনীতি মৃত। আমি ওঁর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করছি। আমি দেশের অর্থনীতি আইসিইউ-তে রয়েছে। গত ১০ বছরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপায় আরও মানুষ কাজ হারাবেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে। কেন্দ্রের কূটনৈতিক ব্যর্থতাই এর জন্য দায়ী। এতদিন বলছিলেন বিশ্বগুরু। এই কি বিশ্বগুরু! এ কী আচরণ হচ্ছে ভারতের সঙ্গে! প্রত্যাঘাতে বাধা কোথায়?"
অমিত শাহকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, "স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলছেন PoK ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। PoK ফিরিয়ে নিতে কে বাধা দিচ্ছে? গোটা দেশ তো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে, বিরোধীরাও সকলে সমর্থন করছেন। পুলওয়ামা, পহেলগাঁও, চলতেই থাকবে PoK না নিতে পারলে। একমাত্র তাতেই সমাধান বেরোবে। তবেই পাকিস্তান বুঝবে।"






















