Anandapur News: 'সরকার থেকে লাগানো হয়েছে', নোনাডাঙায় বিধ্বংসী আগুন নিয়ে অভিযোগ স্থানীয়ের; কান্নায় ভাঙলেন অনেকে
Kolkata News: যদিও এক ঘণ্টার চেষ্টায় এখনও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।

অনির্বাণ বিশ্বাস : আনন্দপুরের নোনাডাঙায় বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে ছাই একের পর এক ঝুপড়ি। মাতঙ্গিনী কলোনিতে এদিন সন্ধে সাড়ে ৬টা নাগাদ প্রথম আগুন নজরে আসে। তারপরে দমকলে খবর দেওয়া হলেও তারা দেরিতে এসেছে বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে দমকলের ৬টি ইঞ্জিন পৌঁছেছে। যদিও এক ঘণ্টার চেষ্টায় এখনও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে আগুনে একের পর এক গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হতে থাকে। ঘটনার জেরে শীতের রাতে নিরাশ্রয় হয়ে পড়েছে একাধিক পরিবার। অনেকে ক্যামেরার সামনে হাউহাউ করে কাঁদতে শুরু করেন। সবকিছু খুইয়ে তাঁরা এখন অসহায় অবস্থায়। কেউ শেষ সম্বলটুকু বের করতে পারেননি। জীবনের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি হারিয়েছেন। ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়দের একাংশ। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, "আমি কাজে ছিলাম। কাজ থেকে এসে দেখি পুরো আগুন ধরে গেছে। সরকার থেকে আগুন লাগানো হয়েছে এটা।" অপর এক বাসিন্দা কান্নায় ভেঙে পড়লেন। তিনি বলেন, "ফায়ার ব্রিগেডে কতবার ফোন করেছি। কোনও...। আনন্দপুর থানায় ফোন করেছি। কিন্তু, কোনও সাড়া নেই। আমি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস। সমস্ত পুড়়ে গেছে। এতটা সময় কোনও দিন ফায়ার ব্রিগেড নেয় ? কারণ, কলকাতার স্থানীয়। যদি সঠিক সময়ে আসত তাহলে দু'-একটা ঘরে কিছু হত।"
গত বছর ডিসেম্বর মাসে গোড়ার দিকেই আগেই আগুন লেগেছিল আনন্দপুরের গুলশন কলোনিতে । শহরের অন্যতম ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকা আনন্দপুরের গুলশন কলোনি। সেবার বাড়ির নীচের তলায় রঙের গুদাম থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দোতলা থেকে কোনওমতে বাসিন্দাদের নামিয়ে আনা হয়। আনন্দপুরের এই এলাকা ঘন জনবসতিপূর্ণ । তাই আগুনের জেরে দেখা দেয় প্রবল আতঙ্ক। পাশের নির্মীয়মাণ বহুতলেও আগুন লাগে। ঝলসে কালো হয়ে যায় বাড়িটি। একের পর এক দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ভিতরে প্রচুর দাহ্য বস্তু থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে বেগ পেতে হয়। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আকাশ। পাশেই দোকান, বসতি থাকায় আতঙ্ক ছড়ায়।
গত ২০২৪ সালে আনন্দপুরে বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে যায় ৫০-টিরও বেশি ঝুপড়ি। মাথার ওপর ছাদ হারায় বহু পরিবার। কেউ কেউ শেষ সম্বলটুকু খুইয়ে ফেলেন। একের পর এক গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। দমকা হাওয়া আর গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের জেরে আগুন নেভাতে যখন হিমশিম খেয়েছিলেন দমকল কর্মীরা, তখন আনা হয় রোবট। দমকলের ১০টি ইঞ্জিনের ঘণ্টা দুয়েকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও পুড়ে খাক হয়ে যায় গৃহস্থালির জিনিস থেকে শুরু করে টাকাকড়ি, সোনাদানা।






















