Bankura: বনদফতরেই তৈরি 'বোমা', 'টেস্টিং' সফল হতেই বরাতের ঢেউ
Bankura News: এই বোমা জীবন নেবে না, বরং তৈরি করবে নতুন প্রাণ

পূর্ণেন্দু সিংহ, বাঁকুড়া: দিনে দুপুরে তৈরি হচ্ছে 'বোম'। সরকারি অফিসে তৈরি হচ্ছে এই 'বোম'। সেই কাজে হাত লাগিয়েছে সরকারি কর্মীরাও। নাব, এই বোমা ধ্বংস করে না। জীবন দেয়। বলা ভাল, রুখুসুখু অঞ্চলকে সবুজে মুড়িয়ে দেয় এই বোমা। নাম 'সিড বম্ব'
শুশুনিয়া পাহাড়ের রুক্ষ্ম অংশকে সবুজে ঢাকতে পরীক্ষামূলক ভাবে অভিনব সিড বম্বের ব্যবহার করা হয়েছিল। সেটা সফল হয়েছে, তারপরেই মিলেছে বরাত, এবার সিড বম্ব তৈরিতে উদ্যোগী বন দফতর (forest department )।
বৈজ্ঞানিক উপায়ে এই বোমা তৈরি করে সাড়া ফেলে দিয়েছে বাঁকুড়ার (Bankura) ছাতনা বনদফতর। পঞ্চায়েত নির্বাচনের গোটা সময় বাংলাজুড়ে শোনা গিয়েছে বোমার শব্দ। এগরা থেকে দত্তপুকুরে বিস্ফোরণ- কেড়েছে একাধিক প্রাণ। তাই বোমা শব্দের সঙ্গে জুড়ে থাকে আতঙ্ক। কিন্তু এটা আতঙ্কের বোমা নয়। নতুন জীবন দেয় এই বোমা। কীভাবে?
দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র বাঁকুড়ার শুশুনিয়া পাহাড়। এই পাহাড়ের বেশিরভাগ অংশ সবুজে ঢাকা থাকলেও অনেক উঁচুতে পাহাড়ের একটা অংশ রুক্ষ্ম পাথরে ঢাকা। সবুজ বনানীর মাঝে পাহাড়ের এই অংশ বড়ই বেমানান ঠেকে পর্যটকদের চোঁখে। পাহাড়ের উপরের রুক্ষ্ম সেই অংশ সবুজে ঢাকতে সাম্প্রতিকালে পরীক্ষামূলক ভাবে এক অভিনব পদ্ধতি নিয়েছিল বনদফতরের ছাতনা রেঞ্জ। শুশুনিয়া পাহাড়ের কোল আরও সবুজে ভরিয়ে দিতে এক মাস আগে বনদফতর শুরু করেছিল এক অভিনব কর্মসূচি। শুশুনিয়া পাহাড়ের কোলে একটি প্রান্তে গাছ নেই রয়েছে শুধু নুড়ি-পাথর। শীতকালে শুশুনিয়া পাহাড়ে আগুন লেগেও পুড়ে নষ্ট হয় বহু গাছপালা। শুশুনিয়া পাহাড়েরই একাংশে থাকা বিশেষ ধরনের পাথরকে কেন্দ্র করে শুশুনিয়ায় গড়ে উঠেছে পাথর খোদাই শিল্প। পাহাড় থেকে ওই বিশেষ ধরনের পাথর নামিয়ে এনে তা দিয়ে মূর্তি গড়ে শিল্পীরা তা বিক্রি করতেন পর্যটকদের কাছে। রুক্ষ্ম পাথরের টুকরো ইতস্তত পড়ে থাকায় ওই অংশে গাছ জন্মায়নি। সবুজ পাহাড়ের কোলে সেই রুক্ষ্ম স্থান বড়ই বেমানান।তাই পাহাড়ের গায়ের সেই রুক্ষ্ম অংশ সবুজে ঢাকতে সিড বম্বের ব্যবহার করে বন দফতর। বিশেষ পদ্ধতিতে গোবর, মাটি দিয়ে জৈব গোলাকার বোমার আকারে বস্তু তৈরি করে তার মধ্যে পুঁতে দেওয়া হয়েছে আকাশমনি, বাবলা, শিরীষ ও সুবাবুল গাছের বীজ। বনদফতর বলেছিল রুক্ষ্ম মাটিতেও দিব্যি বেঁচে থাকে এই প্রজাতির গাছগুলি। প্রাথমিক ভাবে এই সিড বম্বে থাকা বীজগুলি অঙ্কুরিত হয়ে গোবর ও মাটি থেকে খাবার সংগ্রহ করে তা বেড়ে উঠবে। পরে পরিণত গাছের শেকড় পাথরের খাঁজ বেয়ে প্রবেশ করবে মাটিতে। সিড বম্বের মাধ্যমে পাহাড়ের রুক্ষ ওই অংশ অচিরেই সবুজে ঢেকে ফেলা সম্ভব হবে সেই আশা বন দফতরের। প্রাথমিক ধাপ পূর্ণ হয়েছে। কারণ, ২০০ টি সিড বোমা ফেলা হয়েছিল পাহাড়ের ন্যাড়া অংশে। তা থেকেই পাহাড়ের রুক্ষ প্রান্তরে জন্মাচ্ছে নতুন গাছের চারা। ফলে সবুজ হতে চলেছে পাহাড়ের ন্যাড়া বিস্তীর্ণ সেই অঞ্চল। চলছে চারা গাছের নজরদারি ও পরিচর্যা। ছাতনা বনদফতরের ফরেস্ট রেঞ্জ আধিকারিকের মস্তিষ্কপ্রসূত এই বীজ বোমার গুরুত্ব বাড়ছে গোটা দেশে। বিভিন্ন জায়গা থেকে আসছে বীজ বোমা সরবরাহের অর্ডার। এবার শুধুমাত্র আকাশমনি, বাবলা, শিরীশ ও সুবাবুল গাছের বীজ নয়, দেশীয় বিভিন্ন গাছের বীজ ব্যবহার করে তৈরি করা হবে বীজ বোমা। সাফল্যও মিলবে বলবে আশাবাদী বনদফতর। ছাতনা বনদফতর অফিসে বরাত পাওয়া বোমা বানানো চলছে পুরোদমে। ছাতনা বনদফরের উদোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রাও।
আরও পড়ুন: মঞ্চ থেকে বড়পর্দা! বাঙালি বুঁদ হতো 'জীবনপুরের পথিক' অনুপকুমারে!






















