Tulu Mondal: টুলু মণ্ডলের DCR জালিয়াতি মামলায় চার্জশিট পেশ, ইস্যু করা DCR-এর প্রায় ৯৯.৬ শতাংশই জাল
DCR Fraud: বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ীর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে প্রথম উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ টাকা, কেজি কেজি সোনা। এরপরই জোরকদমে তদন্তে নামে পুলিশ। সামনে আসে জাল DCR- এর কারবার।

পার্থপ্রতিম ঘোষ, বীরভূম : টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে DCR জালিয়াতি মামলা চার্জশিট পেশ বীরভূম জেলা পুলিশের। চার্জশিটে রয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০২১ থেকে ২০২৫-এর মধ্যে বিপুল সংখ্যক DCR ইস্যু করা হয়। মোট ৭৪ হাজার ৮৯৯টি DCR ইস্যু করা হয়। তার মধ্যে ৬২ হাজার ৮৮৮টি DCR-ই ছিল জাল। অর্থাৎ ইস্যু করা DCR-এর প্রায় ৯৯.৬ শতাংশই জাল। পার্কিং লটে তল্লাশিতে জাল DCR ছাপার মেশিনের পাশাপাশি ৪৯৮টি DCR-এর সন্ধান পাওয়া যায়। তার মধ্যে ৪৮৮টি DCR জাল বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি ১০টি DCR-ও সঠিক কিনা তার ফরেন্সিক রিপোর্ট আসা এখনও বাকি রয়েছে। বিশাল এলাকা জুড়ে পার্কিং লট ছিল টুলু মণ্ডলের, কার্যত সাম্রাজ্যের সমান। এখানেই জাল DCR তৈরি হত। উদ্ধার হয়েছিল ৪৮২টি DCR, যার সবকটাই জাল।
DCR গেটগুলি বেআইনিভাবে পরিচালনা করত টুলু মণ্ডল। এই তথ্যের উল্লেখ করা হয়েছে চার্জশিটে। নিয়ম অনুযায়ী DCR গেটে ডিউটি দেওয়ার কথা সরকারি কর্মীদের। ডিউটি রোস্টারে নাম থাকত সরকারি কর্মীদের। সেই সরকারি কর্মীদের মোটা টাকা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হত। আর তাঁদের পরিবর্তে DCR গেটে মোতায়েন থাকতেন টুলুর কর্মীরা। ক্যাশ রেজিস্টার থেকে সেই তথ্য উঠে এসেছে, এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে চার্জশিটে। পাশাপাশি, DCR থেকে আদায় হওয়া টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিষয়টিও নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন টুলু, চার্জশিটে এই দাবিও করেছে বীরভূম জেলা পুলিশ।
বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ীর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে প্রথম উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ টাকা, কেজি কেজি সোনা। এরপরই জোরকদমে তদন্তে নামে পুলিশ। সামনে আসে জাল DCR- এর কারবার। এসআইটি- র তদন্তে নজরে আসে প্রায় ৮৫৫ কোটি টাকা (২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে) সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। মাত্র ০.৪ শতাংশ রাজস্ব যেত সরকারের ঘরে। বাকি যেত টুলু মণ্ডলের কাছে। ২০২১- ২২- এ ১২৪ কোটি, ২০২২- ২৩- এ ২৭০ কোটি, ২০২৩- ২৪- এ ১৪৬ কোটি, ২০২৪- ২৫- এ ১৩৮ কোটি, ২০২৫- ২৬- এ ১৭৭কোটি টাকা রাজস্ত ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, DCR জালিয়াতি-কাণ্ডে গ্রেফতার হলেন আরও এক সরকারি কর্মী। এবার গ্রেফতার করা হল বীরভূমের মহম্মদবাজারের তৎকালীন ডেপুটি DLLRO রবিউল ইসলামকে। বর্তমানে তিনি অবসরপ্রাপ্ত। রবিউল ইসলাম এর আগে বীরভূম জেলায় ডেপুটি DL and LRO (District Land and Land Reforms Officer) হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল জাল DCR তৈরি করে সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার যে কারবার শুরু করেছিল, সেখানে নাম পাওয়া গিয়েছে এই সরকারি আধিকারিকের। টুলু মণ্ডলের জাল DCR কারবারের তদন্তে নেমে পুলিশ রবিউল ইসলামের নামও পেয়েছে। রবিবার রাতে বীরভূমে রবিউলের বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
Before You Go
Howrah News | জমির দখল ঘিরে হাওড়ার পাঁচলায় ব্যাপক বোমাবাজি | ABP Ananda LIVE






















