Medical College:বিদেশ থেকে আনা দামি যন্ত্রের 'ভেতরে সস্তা নিম্নমানের যন্ত্রাংশ' ! দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ কলকাতা মেডিক্য়ালে
Calcutta Medical College Corruption : দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ কলকাতা মেডিক্য়াল কলেজ হাসপাতালে।

কলকাতা: দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ কলকাতা মেডিক্য়াল কলেজ হাসপাতালে। বিদেশ থেকে আনা দামি যন্ত্রের ভেতরে সস্তা নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ঢুকিয়ে দেওয়ার অভিযোগ। সরকারি হাসপাতালের যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা বেসরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ।এর ফলে দামি যন্ত্র ঘনঘন খারাপ হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুন, আর জি করে লিফটে ছেলে ও স্ত্রী-সহ আটকে পড়ে মৃত্যু অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের !
পরীক্ষা করতে গিয়ে বিষয়টি নজরে এসেছে হাসপাতালের বায়ো মেডিক্য়াল ইঞ্জিনিয়ারদের। একাধিক বিভাগের প্রধান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছেন বলে খবর। হাসপাতালের তদন্তকারী কমিটির তদন্তেও বেনিয়ম ধরা পড়েছে বলে অভিযোগ। এরপরই স্বাস্থ্যভবনকে বিষয়টি জানিয়েছে কলকাতা মেডিক্য়াল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতালে যন্ত্রাংশ রক্ষণাবেক্ষণের বরাত পেয়েছে অভিযুক্ত সংস্থা। ফলে একই ঘটনা অন্য কোনও হাসপাতালে হয়েছে কি না তা দেখা হচ্ছে।
আর জি কর মেডিক্যালে লিফট বিপর্যয়ে বেঘোরে মৃত্য়ু হয়েছে দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের। বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে সরকারি হাসপাতালের যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে। এই প্রেক্ষাপটেই, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা বেসরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে, দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠল কলকাতা মেডিক্য়াল কলেজ হাসপাতালে। অভিযোগ, বিদেশ থেকে আনা দামি যন্ত্রের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে সস্তা নিম্নমানের যন্ত্রাংশ।যার জেরে ঘনঘন খারাপ হয়ে যাচ্ছে দামি দামি যন্ত্র।
কলকাতা মেডিক্য়াল কলেজ হাসপাতাল MSVP অঞ্জন অধিকারী বলেন, অভিযোগ তো গুরুতর। অভিযোগ এসেছে ২-একটি বিভাগ থেকে। লিখিত অভিযোগ এসেছে। আমাদের সরকার আমাদের বায়ো মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার দিয়েছেন। সেইজন্য আমরা এগুলো বুঝতে পেরেছি। তা নাহলে আমরা আগে বুঝতে পারতাম না তো। যন্ত্রাংশ সম্পর্কে বা যন্ত্র সম্পর্কে আমাদের তো অত জ্ঞান নেই। তো বিষয়টাকে আমরা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছি। আমরা এটাকে যাচাই করিয়েছি। এবং যাচাই করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে ঘটনাটি সত্য।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, যন্ত্র খারাপ হওয়ার কারণ পরীক্ষা করতে গিয়ে বিষয়টি নজরে আসে বায়ো মেডিক্য়াল ইঞ্জিনিয়ারদের। শুধু তাই নয়, হাসপাতাল সূত্রে খবর, একাধিক বিভাগের প্রধান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানান। এরপর, নিজস্ব তদন্ত কমিটিও গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সূত্রের খবর, সেখানেও ধরা পড়ে এই বেনিয়ম। এরপরই বিষয়টি স্বাস্থ্যভবনকে জানায় কলকাতা মেডিক্য়াল কলেজ কর্তৃপক্ষ।
কলকাতা মেডিক্য়াল কলেজ হাসপাতাল MSVP অঞ্জন অধিকারী বলেন, একটা উদাহরণ বলি, একটা অরিজিনাল যন্ত্রাংশের দাম ১২ হাজার টাকা। সেখানে আমার যন্ত্রাংশ যেটা দিয়ে সারানো হয়েছে সেটার দাম হাজার টাকা। আমাদের স্বাস্থ্যভবন, WBMSCL সবাইকে জানাব। আমাদেরও খুব অবাক লেগেছে। আমরা তো নির্ভরশীল ছিলাম ওই সংস্থার উপরে, তারা যা করছে খুব ভালই করছে। এখন এইরকম অভিযোগ তো আগে আমরা ফেস করিনি। সূত্রের দাবি, রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতালে যন্ত্রাংশ রক্ষণাবেক্ষণের বরাত পেয়েছে এই সংস্থা। এই ঘটনা অন্য কোনও হাসপাতালে হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে বেসরকারি ওই সংস্থাকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। তারাও ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
























