অডি, BMW-সহ ২৪২টি গাড়ি! আর কী কী সম্পত্তির মালিক মহম্মদ নাজিবুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডল
তবে কি শুধু সোনা-টাকাতেই ১৫০ কোটি! কত সম্পত্তির মালিক টুলু মণ্ডল? অ্যাকাউন্টে ৯৩ কোটি! সোনা-টাকায় মিনারের ঘরে ৫০ কোটি।

বীরভূম: খাদান থেকে পাথর তোলার পর ক্রাশার, ক্রাশার থেকে ভাঙা পাথর নিয়ে DCR গেট হয়ে মোটর ভেহিকেল চেকপোস্ট। পুলিশ সূত্রে খবর, এটাই ছিল মহম্মদ নাজিবুদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলু মণ্ডলের দুর্নীতির রুটম্যাপ। তবে কি শুধু সোনা-টাকাতেই ১৫০ কোটি! কত সম্পত্তির মালিক টুলু মণ্ডল? অ্যাকাউন্টে ৯৩ কোটি! সোনা-টাকায় মিনারের ঘরে ৫০ কোটি।
অডি, BMW, ট্রাক, ক্র্যাশার-সহ বাজেয়াপ্ত ২৪২টি গাড়ি। ৩০০ বিঘা জমিতে মহম্মদবাজারের টুলুর ২১টি সম্পত্তির হদিশ। ৭টা বাড়ি, ১টি ফার্ম হাউস, ১টি পার্কিং লট, ২টি পেট্রোল পাম্প। ডাকাতির সূত্র ধরে তদন্তে নেমে পাথর মাফিয়ার সাম্রাজ্যের হদিশ।
বাড়িতে আরও নগদ, সোনা-রুপো-প্ল্যাটিনামের হদিশ, কিন্তু কোথায় টুলু? টুলুর কালো কারবারের খোঁজে বীরভূম জুড়ে তল্লাশিতে পুলিশ।
এদিকে, এই গোটা ঘটনাটি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মদত ছাড়া সম্ভব নয়। এতদিন ধরে এত বড় র্যাকেট...সবাই জড়িত ছিল। ৫-৭ বছর ধরে এটা হয়েছে, প্রশাসন-পুলিশও জড়িত ছিল। ও আমাদেরই লোক, ওর দিকে তাকাবেন না, এই বার্তা ছিল। প্রশাসনিক প্রধান দুর্নীতিতে মদত দিতেই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি হয়। কোটি কোটি টাকা রাজকোষ থেকে চুরি করার সিন্ডিকেট নিয়ে আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর।
তিনি এও বলেন, 'কেউ কেউ বিদেশে বসে আছে, কেউ বিদেশ যেতে চাইছেন', পলাতক টুলু, নাম না করে অভিষেককেও কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রী।
গত সপ্তাহে পরিবারকে নিয়ে দুবাই যান নাজিবুদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলু মণ্ডল। সঙ্গে রয়েছেন, সম্পর্কে বেয়াই ও ব্যবসায়ী বারিক বিশ্বাসের পরিবারও। সূত্রের খবর, সেখান থেকে তুরস্ক হয়ে ছেলেকে লন্ডনের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর জন্য যেতে পারেন টুলু মণ্ডল। বর্তমানে তাঁর ৪টি ফোনই সুইচড অফ।
ঠিক কীভাবে চলত টুলু মণ্ডলের চক্র? বীরভূমের মহম্মদবাজার, রামপুরহাট থেকে নলহাটি এলাকায় রয়েছে ছোট বড় অসংখ্য খাদান ও ক্রাশার। এখান থেকে বড় বড় পাথর ডাম্পারে তোলা হচ্ছে। দুর্নীতির শুরু এই জায়গা থেকে। খাদান থেকে ডিসিআর গেট পর্যন্ত চলত দুর্নীতি। খাদান থেকে পাথরের নিয়ে যাওয়া হয় ক্রাশার ইউনিটে। সেখানে বড় বড় পাথর ভেঙে তৈরি হয় বিভিন্ন মাপের স্টোন চিপস। স্টোন চিপস ক্রাশার থেকে লরি ভর্তি হয়ে DCR গেট হয়ে চলে যায় বাজারে।
টুলু মণ্ডলের দুর্নীতি ধরা পড়ার পর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তাঁর DCR গেট। তার জায়গায় সোঁতশোল গ্রামে নতুন DCR গেট তৈরি করেছে প্রশাসন। পুলিশ সূত্রে খবর, টুলু মণ্ডলের আসল খেলা শুরু হত এই DCR গেটেই। পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে খবর, ডুপ্লিকেট DCR-এ লরির সংখ্যা ও পাথরের ওজন কম করে দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করতেন টুলু।























