HC On CBI : 'CBI-কে তদন্তভার দেব না। CBI এখন গ্যালারি শো' ২ বিজেপি কর্মীর রহস্যমৃত্যুর মামলায় মন্তব্য আদালতের
BJP Worker Murder Case : খেজুরিতে ২ বিজেপি কর্মীর রহস্যমৃত্যুর মামলায়, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এমনই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।

সৌভিক মজুরদার, কলকাতা : ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পর কাঁকুড়গাছিতে বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার খুনের মামলায় সম্প্রতি সিবিআইয়ের তদন্তগতি নিয়ে অসন্তোষপ্রকাশ করেছে আদালত। এবার খেজুরিতে ২ বিজেপি কর্মীর রহস্যমৃত্যুর মামলায়, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে সিবিআই এর তদন্ত নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।
১২ জুলাই, খেজুরিতে অস্বাভাবিক মৃত্য়ু হয় দুই বিজেপি কর্মী, ২২ বছরের সুজিত দাস এবং ৬৫ বছরের সুধীর পাইকের। গত মঙ্গলবার আদালতে জমা পড়ে ২ বিজেপি কর্মীর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। যেখানে দেখা যায়, বিজেপি কর্মী সুজিত দাসের প্রথম ও দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ফারাক রয়েছে। প্রথম রিপোর্টে উল্লেখ ছিল, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হয়ে মৃত্যু। দ্বিতীয় রিপোর্টে লেখা, দেহে আঘাতের কথা। এই অবস্থায়, CBI তদন্তের দাবি করছে নিহত বিজেপি কর্মীর পরিবার। সেই মামলায় সোমবার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, খেজুরির ২ বিজেপি কর্মী সুজিত দাস এবং সুধীর পাইকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তভার CID-কে দেওয়া হবে। বিজেপি কর্মীর পরিবার CBI তদন্তের দাবি করায়, বিচারপতি বলেন, এই মামলা CBI-কে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তাই CBI-কে তদন্তভার দেব না। 'CBI এখন গ্যালারি শো..., এই মামলা এখন CBI-কে দিলে গ্যালারি শো হয়ে যাবে। ' ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।
আদালত জানায়, DIG পদমর্যাদার একজন আধিকারিকের নেতৃত্বে SIT গঠন করবেন ADG CID। হোমিসাইড শাখার আধিকারিকরাও SIT-এ থাকবেন। মঙ্গলবার, এই মামলা নিয়ে চূড়ান্ত নির্দেশ দেবেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।
গত ১৯ অগাস্ট এই ঘটনার দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ প্রশ্ন তুলেছিলেন,
জেলার ফরেন্সিক আধিকারিকরা কি অভিজ্ঞ নন? নাকি তাদের স্থানীয় ব্যক্তিদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে? তদন্তকারীদের উদ্দেশে বিচারপতি বলেন, তদন্তকারী সংস্থায় পরিবর্তন করতে হবে। উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তাদের নিযুক্ত করতে হবে। আগে আপনারা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছে ধরে নিয়ে তদন্ত করছিলেন। এখন তো খুনের ধারায় মামলা হবে। পুরো তদন্তের গতিপথ পরিবর্তন হয়ে গেছে।
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক এবং তদন্তকারী আধিকারিকদের ভূমিকা এখন প্রশ্নের মুখে। প্রয়োজনে পদক্ষেপ নিতে হবে। এরপর সিবিআই তদন্ত দাবি করে তাদের পরিবার। 'খুনই করা হয়েছে তাঁদের', এখনও এই দাবিতেই অনড় মৃত সুজিত দাস এবং সুধীর পাইকের পরিবার। এরইমধ্যে বিস্ফোরক দাবি করেছেন মৃত বিজেপি কর্মীর ছেলে। তাঁর দাবি, ৩ লক্ষ টাকা দিয়ে তৃণমূল নেতা গোটা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ানোর চেষ্টা করেছিলেন ! এখন তদন্ত কোনদিকে এগোয় , সেটাই দেখার।






















