Chiranjeet Chakraborty : '১৫ বছর হয়ে গেল, সব দেওয়া সম্ভব নয়', ভোটে না-লড়ার ঘোষণা চিরঞ্জিতের
এবার তিনি মনস্থির করে ফেলেছেন , আর ভোটে লড়বেন না। আর বিধায়কের গুরুভার নেবেন না।

উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, কলকাতা: আগামী বিধানসভা ভোটের আগে আজই বড় সিদ্ধান্তের কথা জানালেন অভিনেতা - বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। গত তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে ভোটে লড়েছেন তিনি। তিন বারই মানুষ তাঁকে জয় এনে দিয়েছে। কিন্তু এবার তিনি মনস্থির করে ফেলেছেন , আর ভোটে লড়বেন না। আর বিধায়কের গুরুভার নেবেন না।
কেন অব্যহতি চাইছেন চিরঞ্জিত?
সামনেই রাজ্যের বিধানসভা ভোট। তার আগেই চিরঞ্জিত চক্রবর্তী বড় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিলেন। বললেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের এই মনোভাবের কথা জানিয়েছেন। বললেন, '১৫ বছর হয়ে গেল, সব দেওয়া সম্ভব নয়, যতটা পেরেছি, দিয়েছি...চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেবেন'। শনিবার বিধানসভায় এসে জানিয়ে গেলেন অভিনেতা-বিধায়ক চিরঞ্জিত।
চিরঞ্জিতের কোন বক্তব্যে জল্পনা?
তবে এই প্রথমবার নয়, আগেও নিজের মনোভাবের কথা বুঝিয়ে ছিলেন তিনি। সম্প্রতি নিজের বিধানসভা কেন্দ্র বারাসাতে একটি অনুষ্ঠানে চিরঞ্জিতের একটি বক্তব্য জল্পনা তৈরি করে। সেখানে কার্যত বিদায়ী ভাষণের কায়দায় ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য় করেন তিনি। বলেন, 'কষ্ট আসছে। যদি চলে যেতে হয়...। ভাবনাটা আছেই। আমি তো বলছিই আমি থাকব না বেশিদিন। প্রত্যেকবারই আপনাদের বলি। কিন্তু উনি ছাড়েন না আমায়। এবার জানি না কী হবে। আমি এখনও জানি না। উনি যদি বলেন যে না, আর থাকার দরকার নেই, তাহলে তাই হবে।'
তবে চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তীর মুখে এধরনের মন্তব্য় অবশ্য় এই প্রথমবার নয়। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অব্যাহতি চেয়েছিলেন চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী। বলেছিলেন, 'রাজনীতির লোক নই, ছেড়ে দিন আমাকে, অন্য কাজ করি। আমি অ্যাপলিটিক্যাল পারসন, রাজনীতি আমার কাপ অফ টি নয়, যখন সমস্যা ছিল তখন মমতার কথায় দাঁড়িয়েছিলাম, ২০১১-২০১৬তে । ' এবারও বিধানসভা ভোটের আগে ঠিক সেই সুর তাঁর গলায়। শেষ অবধি বারাসাতে কী হবে? তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে কাকে দেখা যাবে? সেটাই দেখার।
তবে অনেক সময়ই চিরঞ্জিতের মন্তব্য শিরোনামে থাকে। তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের সভা প্রতি বছরই আলো করে থাকে টালিগঞ্জের অভিনেতা-অভিনেত্রী-পরিচালকরা। গত ২০২৫ এ একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য় করেন তিনি। শাসক দলের তারকা-বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী বলেন, এই ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকাটাও শক্ত। তো সেক্ষেত্রে হয়তো আরেকটা অপশন হতেও পারে সেটা হচ্ছে একটু রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলাম। চিরঞ্জিত আরও বলছেন- সবাই একটা তো জায়গা চায়। সাম্রাজ্যটাই ছোটো হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে সে আরেকটা বিকল্প চাইতেই পারে। আর এবার ভোটের আগে ফের ভিন্নসুর চিরঞ্জিতের।
























