The Bengal Files : 'বিজেপি-আরএসএসের প্রচার-সচিব, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাবলিসিটির ব্যবস্থা করে দিলেন', 'দ্য বেঙ্গল ফাইলস'-ইস্যুতে বিস্ফোরক শতরূপ
Vivek Agnihotri : হোটেল কর্তৃপক্ষের দুই আধিকারিক চলে যান কন্ট্রোল প্যানেলের সামনে। অভিযোগ, ট্রেলার চালানোয় বাধা দেওয়া হয়। তাঁদের দেখে কথা বলতে এগিয়ে যান পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী।

কলকাতা : বিবেক অগ্নিহোত্রীর সিনেমা 'দ্য বেঙ্গল ফাইলস'-এর ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠানে ধুন্ধুমারকাণ্ড বাধল শনিবার। অভিযোগ, ট্রেলার চালানোয় বাধা দেওয়া হয়। প্রথমে হোটেল কর্তৃপক্ষের তরফে বাধা দেওয়া হয়। তারপর পুলিশ এসে বন্ধ করে দেয় ট্রেলার লঞ্চ। এই ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় সিনেমার পাবলিসিটির ব্য়বস্থা করে দিলেন বলে অভিযোগ তুললেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ।
তিনি বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বিজেপি-আরএসএসের প্রচার-সচিব, বারবার করে এই ঘটনাগুলি থেকে আমরা জানতে পারি। দ্য বেঙ্গল ফাইলস বলে কোথাকার কী সিনেমা হয়েছে, সেটা বিবেক অগ্নিহোত্রীর পাশের বাড়ির লোকও জানতেন না যে, এরকম একটা সিনেমা হয়েছে। কিন্তু, এখন এই যে ঘটনাটা ঘটানো হল, এরপর গোটা দেশে এটা নিয়ে আলোচনা হবে যে, কী একটা সিনেমা বানিয়েছে বেঙ্গল ফাইলস তাতে নাকি এমন জিনিস দেখানো হয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গে ট্রেলর লঞ্চই করতে দেওয়া হয়নি। এটা একটা বিনা পয়সায় পাবলিসিটি। পাঁচ পয়সা খরচ না করে, ৫ কোটি টাকার পাবলিসিটির ব্যবস্থা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করে দিলেন। এই একই জিনিস করেছিলেন দ্য কেরালা ফাইলস সিনেমাটায়, যখন এই ভদ্রলোকই বানিয়েছিলেন। কেরালা ফাইলস যা সিনেমা হয়েছে, কেরালায় তা নিয়ে কারো মাথা ব্যথা নেই, উনি হঠাৎ করে বললেন পশ্চিমবঙ্গে ব্যান করে দেব। সেই ব্যান সুপ্রিম কোর্ট দু'দিন পরে তুলেও দিল। মাঝখানে যে সিনেমাটার নাম জানত না কেউ, সেই সিনেমাটা ১০টা দেখতে চলে গেল। বারবার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ওঁর ভাড়াটে বাহিনীরা এই কাজটা করে কাদের হয়ে ব্যাকিং করছে আমরা সবাই বুঝতে পারছি।"
প্রেক্ষাপট...
শনিবার বাইপাসের ধারে, ITC রয়্যাল বেঙ্গল হোটেলে পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রীর সিনেমা 'দ্য বেঙ্গল ফাইলস'- এর ট্রেলার লঞ্চের অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠান শুরু হয় দুপুর ১টা ১০ নাগাদ। ঠিক সেইসময় হোটেল কর্তৃপক্ষের দুই আধিকারিক চলে যান কন্ট্রোল প্যানেলের সামনে। অভিযোগ, ট্রেলার চালানোয় বাধা দেওয়া হয়। তাঁদের দেখে কথা বলতে এগিয়ে যান পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী। ফের একবার ট্রেলার চালানোর চেষ্টা করেন তিনি। ফের বাধা দেন হোটেলের আধিকারিকরা। অভিযোগ, এরপরই প্লেয়ারের সঙ্গে স্ক্রিনের কানেকশন কেটে দেওয়া হয়। এ নিয়ে হূলস্থূল বেধে যায়।
বিবেক অগ্নিহোত্রী বলেন, "কেন একজন পরিচালকের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে ? দেশভাগের উপর যে সিনেমা তৈরি হয়েছে, কেন বন্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে? একে বলে অসহযোগিতা। সত্যজিৎ রায়ের রাজ্যে এক পরিচালকের আওয়াজ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ভারতে কি দু'টো সংবিধান চলে ? একটা, ভারতে। আর একটা, এখানে ম্যাডামের। চলতে থাকা ট্রেলার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এখানে। থিয়েটারের অনুমতি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। কত পুলিশ এখানে এসেছে দেখতে পাচ্ছেন। আমরা কি চোর ? এটাকে বলা হয় আরাজকতা। এটা একনায়কতন্ত্র। এটা ফ্যাসিবাদ। এটা আমি সহ্য করতে পারছি না।"






















