DCP Shantanu Sinha Biswas: প্রোমোটার-পুলিশ-পলিটিশিয়ান দুর্নীতির ট্রায়াঙ্গেলে জড়িতদের গারদে ঢোকাতে পারবে কি ইডি?
ED Raid News: বড় বড় বাড়ি! বড় ব্য়বসা! কোটি কোটি টাকা! আপাত দৃষ্টিতে কেউ আইনের রক্ষক! কেউ ব্য়বসায়ী। কিন্তু, অভিযোগ তাঁরাই চালাচ্ছিলেন অসাধু কাজকর্ম!

কলকাতা: প্রোমোটার-পুলিশ-পলিটিশিয়ান- যেন দুর্নীতির ট্রায়াঙ্গেল! কোটি কোটি টাকার প্রতারণার PPP মডেল করে এভাবেই চলছিল দুর্নীতি। এদিন তারই পর্দাফাঁসের লক্ষ্যে আরও একবার তল্লাশি চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কিন্তু প্রশ্ন একটাই, এই কালো-চক্রের সঙ্গে জড়িত সবাইকে কি গারদে ঢোকাতে পারবে ইডি?
বড় বড় বাড়ি! বড় ব্য়বসা! কোটি কোটি টাকা! আপাত দৃষ্টিতে কেউ আইনের রক্ষক! কেউ ব্য়বসায়ী। কিন্তু, অভিযোগ তাঁরাই চালাচ্ছিলেন অসাধু কাজকর্ম! বেআইনি কাজকর্মের আখড়া! মানুষকে ভয় দেখিয়ে তুলছিলেন ফায়দা! কিন্তু হঠাৎই পর্দাফাঁস! প্রোমোটার, পুলিশ, পলিটিশিয়ান এ যেন দুর্নীতির ত্রিভুজ! কোটি কোটি টাকা প্রতারণার 'PPP' মডেল!
সোনা পাপপু মামলায়, কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন DC শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের সূত্র ধরে, শুক্রবার একযোগে যখন ৯ জায়গায় ম্যারাথন তল্লাশি চলল। ফার্ন রোডে শান্তনু-আত্মীয়ের বাড়িতে। কান্দি, মুর্শিদাবাদে শান্তনুর বাড়িতে, কসবায় স্ক্যানারে কলকাতা পুলিশের SI, ভবানীপুরে অতুল কাটারিয়ার বাড়িতে, নারকেলডাঙায় ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে ED অভিযান চালিয়েছিল। এছাড়াও মার্ক্যুইজ স্ট্রিটে ব্যবসায়ীর হোটেল-বাড়িতে ED হানা দেয়। রয়েড স্ট্রিটে ব্যবসায়ীর হোটেলেও তল্লাশি চালান হয়। তখনই সামনে উঠে এল দুর্নীতির এই PPP মডেল।
গত ১৫ মে, আদালতে ইডি দাবি করে, জমি দখলের জন্য প্রোমোটার-পুলিশ-ক্রিমিনালের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন ধৃত ব্যবসায়ী জয় এস কামদার ও শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। তাতে কলকাতা পুলিশের বেশ কয়েকজন কর্মীও যুক্ত ছিলেন। সেই সূত্র ধরে এদিন শুক্রবার, কসবার এন কে ঘোষাল রোডে কলকাতা পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর রুহুল আমিন আলি শাহের বাড়িতে পৌঁছে যায় ইডি। ইডি সূত্রে খবর, কনস্টেবল হিসেবে চাকরিজীবন শুরু করেছিলেন এই পুলিশ অফিসার। বর্তমানে SI পদে কর্মরত রুহুল আমিন আলি শাহ কলকাতা পুলিশের রিজার্ভ ফোর্সে রয়েছেন। তবে পুলিশ মহলে তিনি শান্তনু সিন্হা বিশ্বাস-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। একটা সময় কর্মরত ছিলেন হেয়ার স্ট্রিট থানা ও শেক্সপিয়র সরণি থানায়। এমনকী, কলকাতা পুলিশের ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়কও ছিলেন এই রুহুল!
কেন্দ্রীয় এজেন্সি আদালতে রিপোর্ট দিয়ে দাবি করেছে--- কলকাতা পুলিশের DC শান্তনু সিন্হা বিশ্বাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের সূত্রে। পুলিশে ব্যাপক প্রভাব ছিল ব্য়বসায়ী জয় কামদারের। পয়লা এপ্রিলের তল্লাশিতে জানা যায়, জয় এস কামদার নিয়মিত পুলিশ অফিসারদের উপহার পাঠাতেন। ED-র দাবি, অফিসে তল্লাশিতে জয় এস কামদারের এক কর্মীর একটি ডায়েরি বাজেয়াপ্ত হয়। যেখান থেকে অনেককে উপহার পাঠানোর কথা জানা গেছে। কোর্টে দেওয়া রিপোর্টে ED-র আরও দাবি, বাজেয়াপ্ত ডায়েরি থেকে জানা গেছে, 'শান্তনু স্য়র'-কেও উপহার পাঠানো হয়েছিল।
শান্তনু সিন্হা বিশ্বাসের মদতে জয় এস কামদার একাধিক বেআইনি কাজে জড়িয়েছিলেন। কোর্টে পেশ করা রিপোর্টে ED আরও দাবি করেছে, জয় এস কামদারের অফিস থেকে বাজেয়াপ্ত ডিজিটাল ডিভাইস থেকেও অনেক তথ্য় মিলেছে। সেখানে 'শান্তনুদাকে পাঠাতে হবে', '১৮ জানুয়ারি, ২০২৪-এ ফাইল শান্তনু স্য়রকে দেওয়া হয়েছে'-র মতো মন্তব্য়ও ছিল। তদন্তে সামনে এসেছে 'শান্তনুদা'ই ডেপুটি পুলিশ কমিশনার শান্তনু সিন্হা বিশ্বাস।
এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দাবি, প্রবাসী বা প্রবীণ নাগরিকদের সফট টার্গেট করা হত। তাঁদের বিরুদ্ধে ভুয়ো মামলা করে থানায় ডেকে হয়রানি করা হত। নেপথ্যে থেকে তাতে মদত দিতেন কলকাতা পুলিশের DC শান্তনু সিন্হা বিশ্বাস। আর এই প্রোমোটার, পুলিশ কর্তার হয়ে ফোরফ্রন্টে থেকে কাজ করত সোনা পাপ্পু। বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুই সামনে থেকে হুমকি দিয়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করত। তারপর নামমাত্র টাকায় হাতিয়ে নেওয়া হত জমি। ED সূত্রে আরও দাবি, এই চক্রে জড়িত ছিলেন কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলরদের একাংশও। পুলিশ ও ক্রিমিনালদের নিয়ে রীতিমতো তোলাবাজির চক্র চালাতেন কাউন্সিলররা। এলাকায় প্রোমোটারর কোনও কাজ করতে গেলে তোলা দিতে হত কাউন্সিলরকে। টাকা পাওয়ার পরও তাঁদের অনুমোদিত সিন্ডিকেটের থেকে নির্মাণের সামগ্রী না কিনলে মোটা অঙ্কের জরিমানা দাবি করা হত। আর এই পুরো চক্রে মদত দিত পুলিশ।























