Amit Shah in Bengal: দূরত্ব ঘোচানোর প্রচেষ্টা, ‘চার মাথা’কে নিয়ে পৃথক বৈঠক শাহের, রাজ্য BJP-তে ফের সক্রিয় হবেন দিলীপ?
Dilip Ghosh: মিত শাহের ডাকা বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার এবং শুভেন্দু অধিকারীদের সঙ্গে উপস্থিত রইলেন দিলীপও।

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখনও পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বেই সবচেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। তাই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দিলীপ ঘোষকে ফের সক্রিয় ভূমিকায় দেখার দাবি উঠছিল দলের অন্দরেই। সব ঠিক থাকলে, একবার ফের পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি-তে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যেতে পারে দিলীপকে, যার সূচনা হয়ে গেল বুধবার। এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ডাকা বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার এবং শুভেন্দু অধিকারীদের সঙ্গে উপস্থিত রইলেন দিলীপও। (Dilip Ghosh)
তিন দিনের সফরে রাজ্যে এসেছেন শাহ। রাজ্যে ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। আর যাবতীয় কর্মসূচির মধ্যেই শমীক, সুকান্ত, শুভেন্দু এবং দিলীপের সঙ্গে পৃথক ভাবে বৈঠকে বসেছেন শাহ। দিলীপকে নিয়ে আলাদা ভাবে শাহের বৈঠকে বসা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। (Amit Shah in Bengal)
এদিন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি-র চার 'মাথা'কে নিয়ে যে পৃথক বৈঠক করেন শাহ, তাতে কী কথা হয়েছে, এখনও খোলসা করেননি পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। তবে সূত্রের খবর, আগামী দিনে দল কী ভাবে নেতৃত্ব দেবে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি-কে, তা নেতৃত্বকেই কাঁধে তুলে নিতে হবে। শাহ, নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বাইরে থেকে আসবেন যাবেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে দলের ভোটার ও কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে চলা, নিজেদের মতাদর্শকে EVM পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই চার নেতার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
এদিন বৈঠকে যাওয়ার পথে শুভেন্দু বলেন, "আমরা সকলেই উজ্জ্বীবিত। আমরা জিতব। '২৬-এ পরিবর্তন হবে, আসল পরিবর্তন।" বহুদিন পর দলের সাংগঠনিক বৈঠকে ডাক পেয়ে খোশমেজাজে দেখা যায় দিলীপকে। প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বলেন, "শোনার জন্য ডাকা হয়েছিল।" তবে পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, 'আমাদের রাজ্যে রাষ্ট্রবাদী সরকার চাই। দেশবিরোধী, তোষণকারী, অনুপ্রবেশ সমর্থনকারী সরকারকে এবার বাংলার মানুষ বিদায় দেবে'। আজকের এই বৈঠক থেকে কর্মীদের কাছে দলকে বেঁধে রাখার বার্তাও গেল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে, বিভেদ ঘুচিয়ে, দলের ঐক্যবদ্ধ চেহারা সকলের সামনে তুলে ধরতেই এদিন চারজনকে নিয়ে শাহ আলাদা ভাবে বৈঠক করেন বলে মনে করা হচ্ছে।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন হোক বা ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন, দিলীপের হাত ধরেই এ রাজ্যে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছিল বিজেপি। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে দলে দিলীপ একরকম কোণঠাসা বলেই মনে করা হচ্ছিল। ২০২১ সালের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি-তে একরকম কোণঠাসা শুরু হতে করেন দিলীপ। প্রথমে রাজ্য সভাপতির পদ চলে যায় তাঁর। এর পর ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দিলীপের কেন্দ্রবদলও হয়। বিজেপি-র মিটিং-মিছিলে দিলীপের উপস্থিতিও কমে আসে সময়ের সঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি-র শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দিলীপের মতবিরোধ হচ্ছে বলেও ধারণা তৈরি হয়।
তবে দিলীপের সঙ্গে বিজেপি-র দূরত্ব আরও বাড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে তিনি দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে যাওয়ার পর। মন্দির দর্শনের পর স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদারকে নিয়ে মমতার সঙ্গে তাঁর খোশগল্পের ভিডিও যারপরনাই অস্বস্তিতে ফেলেছিল পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি-কে। দলের অন্দরে দিলীপকে নিয়ে অস্বস্তি শুরু হয়। সেই থেকেই দলের যাবতীয় কর্মসূচি থেকে কার্যত ছেঁটে ফেলা হয় দিলীপকে। দিলীপ যদিও নিজের মতো করে দলের হয়ে কাজ করছিলেনই। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে না বৈঠকে দেখা যেত তাঁকে, না দেখা যেত রাজ্য কমিটির কোনও সভায়।
কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দিলীপের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিলেন অনেকেই। বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্য়ায়, যিনি শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত, সম্প্রতি তিনিও দিলীপকে সক্রিয় ভূমিকায় দেখতে চেয়ে সরব হন। বিজেপি-র একটি বড় অংশ, বিশেষ করে নীচু তলার কর্মীরা দিলীপকে আরও বেশি করে চাইছিলেন। তাই এদিন শাহের বৈঠকে দিলীপের উপস্থিতিতে সেই দূরত্ব ঘুচল বলে মনে করা হচ্ছে। দিলীপকে দলের মূল কর্মসূচির সঙ্গে একাত্ম করার প্রয়াসও শুরু হল বলে মনে করা হচ্ছে।






















