Dilip Ghosh Marriage: মায়ের কাছে অনুমতি নিয়েই শুরু নতুন জীবনের, কিন্তু প্রথমে রিঙ্কুকে বিয়ে করতে চাননি দিলীপ ঘোষ!
Dilip Ghosh News: জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে তাঁর। কেন রিঙ্কু মজুমদারকেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি?

উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, কলকাতা: আর কয়েক ঘণ্টা পরেই শুভক্ষণ। বিয়ে পিঁড়িতে বসছেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। পাত্রী রিঙ্কু মজুমদার। কিন্তু তার আগে কি টেনশনে রয়েছেন বিজেপি নেতা? জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে তাঁর। কেন রিঙ্কু মজুমদারকেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি? বিয়ের আগে এবিপি আনন্দকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সমস্ত কথা জানালেন দিলীপ ঘোষ।
প্রশ্ন: আপনাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন এরকম একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। কোনও টেনশনে আছেন?
দিলীপ ঘোষ: আমার টেনশনের কী আছে? একটা দায়িত্ব পালন আর আমাদের পরম্পরাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যেটুকু করার করব। দুপুরবেলা আমি আমার পূর্বপুরুষকে পিণ্ড দিয়েছি, শ্রাদ্ধ করেছি। সন্ধেবেলা পরিণয় হবে। এটাই জীবনে বাকি ছিল। পরিক্রমা পূর্ণ হবে। সেটাই করছি। বাড়িতে মা আর আমি, আর কেউ নেই।
প্রশ্ন: সবাই বলে আপনি খুব সাহসী মানুষ। এটা কি তার একটা নিদর্শন?
দিলীপ: বিয়ে করতে কোনও সাহস লাগে না। সেটা সবাই করে। যে করে না তার পক্ষে একটু রিস্ক থাকে। শেষ পর্যন্ত এটা একটা সামাজিক দায়িত্ব, পারিবারিক দায়িত্ব, সেটা পালন করতে হবে। আমি যেহেতু সঙ্ঘের প্রচারক ছিলাম, তার জন্য বিয়ে-থা, সংসার ছিল না। সঙ্ঘের তরফ থেকেই আমায় প্রচারকের জীবন থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আমি এমপি, এমএলএ হয়েছি, অর্থ উপার্জন করেছি, বাড়ি করেছি। আমার মা শেষ বয়সে আমার সঙ্গে থাকতে চেয়েছেন, তাঁকে দেখারও লোক নেই। সেইজন্য একজন সঙ্গী চাই যিনি ঘর আর মাকে দেখবেন। একটা সময়ে যখন বাড়িতে কেউ ছিল না, ও এসে (রিঙ্কু মজুমদার) এসে মাকে দেখাশোনা করেছে, রান্না করে খাইয়েওছে। সেইজন্য এটা অনেকটা দেখাশোনার পরে, সব বুঝেই নেওয়া সিদ্ধান্ত। মা ঠিক করেছেন, অনুমতি দিয়েছেন।
প্রশ্ন: আপনি এত রাফ অ্যান্ড টাফ। মনে যা আসে বলে দেন, আগুপিছু ভাবেন না। এরকম একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত। যে দিলীপ ঘোষকে মানুষ দেখে অভ্যস্থ, তিনি কি কিছুটা হলেও বদলে যাবেন?
দিলীপ: বদলানোর কোনও কারণ নেই। এটা জীবনের একটা অধ্যায়। আমার এতদিন বিয়ে করার কোনও প্রয়োজন ছিল না। ব্যক্তিগত জীবনেও না। আমি স্বাবলম্বী। ২৪ ঘণ্টা আমি পার্টির জন্য কাজ করেছি। পরিবারের জন্য সময় ছিল না। এখন কিছু বাধ্যবাধকতা এসেছে। মায়ের কাছে আমি সারাজীবন থাকিনি। এখন উনিই আমার কাছে থাকতে এসেছেন। যখন আমার জটিল, কঠিন সময়, তখন এসেছেন। তখন থেকেই আছেন। এখন যদি আমি কাজ করতে চাই, এনাকে একটু ওঁর দিকে কে দেখবে? সেই জন্যই... যিনি দায়িত্ব নিয়েছেন, তিনি সব জেনেশুনে নিয়েছেন। তিনি আমার কাছে বলেছিলেন, আমি তখন রাজি হয়েছি মাত্র।
প্রশ্ন: রাজনীতিক মহলে আপনার একটা জনপ্রিয়তা রয়েছে। সেই জায়গা থেকে রিঙ্কুদেবীকে বাছলেন কেন? তাঁর মধ্যেও কি আপনার মতাদর্শ খুঁজে পেয়েছেন?
দিলীপ: মতাদর্শ তো আমাদের পার্টির, ২০১২ থেকেই। এতে আমার কোনও কৃতিত্ব নেই। আমার জীবনে দুজন মহিলা। এক আমার মা। গত ৫৫ বছর আমি মায়ের থেকে দূরেই ছিলাম। পড়াশোনা তারপরে সমাজের কাজে। দেখাসাক্ষাৎ হত মাত্র। আর দ্বিতীয় ইনি (রিঙ্কু মজুমদার)। আমি তাঁকে ডাকিনি, কোনওরকম পছন্দ করিনি। বাকি ১০ জন পার্টির কর্মী যেমন ছিলেন, তিনিও ছিলেন। উনিই হঠাৎ এসে বললেন, দেখুন আমি তো ঘর পরিবার সংসার করেছি, আমার দায়িত্ব শেষ। ছেলে বড় হয়ে গিয়েছে। ভাল চাকরি করছে। তবু আমার মনে হচ্ছে, একজন সঙ্গী দরকার যাতে বাকি জীবনটা আমি তাঁর সঙ্গে থাকতে পারি। আমি বললাম খুব ভাল কথা, বিয়ে করো। উনি আমায় বলেছিলেন, 'আপনি রাজি থাকলে বিয়ে করতে পারি'। আমি বলেছিলাম, 'আমি তো কোনোদিন ভাবিনি বিয়ে করব বা সংসার করব, আমার চরিত্রে নেই। তবে তোমার জন্য শুভেচ্ছা থাকল।' কিন্তু উনি বার বার বলেছেন। তারপরে আমিও মায়ের এই সমস্যার কথা ভাবলাম। বাড়ির বাইরে গেলে তো আর মাকে অন্য জায়গায় রেখে যেতে পারি না। জল দেওয়ার লোক নেই। উনি বলেছিলেন, 'আপনার তো পরিবারে কেউ নেই, আপনি ভাবতে পারেন।' আমি তখন মাকে বলেছিলাম, মা-ই প্রথমে মত দিয়েছিলেন। তারপরে আমি হ্যাঁ বলেছি।
প্রশ্ন: রাজনৈতিকভাবে কি কোনও চাপে পড়ে গেলেন? অনেকেই বলছেন, সঙ্ঘ বা বিজেপি চায়নি দিলীপ ঘোষ বিয়ে করুন...
দিলীপ: কেউ চাইল না চাইল তাতে আমার কিছু যায় আসে না। এটা আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, আমার কোনও দায়িত্ব ছিল না। মা আমার কাছে ছিলেন না। আমি কোনোদিন যেমন পয়সা উপার্জন করিনি, কোনোদিন পরিবারের দায়িত্ব ও পালন করিনি। আমার কোনও খরচ নেই। আর যা ১০-২০ বছর বাঁচব, আমি পরিবারের কারোর বোঝা হতে চাই না। পার্টির ও বোঝা হতে চাই না। একজন সঙ্গী থাকলে, তাঁর দায়িত্ব আমার, সেও আমার দায়িত্ব নেবে। আমার মায়ের এখন ৮৪ বছর বয়স। তাঁকে দেখার একটা লোক লাগবে। আমি যদি দেখতে যাই, আমার কাজ ক্ষতিগ্রস্থ হবে। সেইজন্য এই সিদ্ধান্ত। একদিনের ব্যাপার, কাল থেকে আবার পার্টির কাজ।






















