NRS Doctor Harassment: NRS-এ চিকিৎসকদের নিগ্রহের অভিযোগ রোগীর পরিবারের বিরুদ্ধে, নিরাপত্তা না পেলে কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি ডাক্তারদের
NRS News Update: কিন্তু ঠিক কী ঘটেছিল? কিসের কারণে তৈরি হল এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি?

সন্দীপ সরকার, কলকাতা: রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলোকে নিয়ে ভুরি ভুরি অভিযোগ। কোথাও পরিষেবা খারাপ তো কোথাও চূড়ান্ত অব্যবস্থা। বারে বারেই সাধারণ মানুষ অভিযোগের আঙুল তোলেন সরকারের দিকে। কেন সরকার রাজ্যের সমস্ত ছোট-বড় হাসপাতালগুলির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করে না, কেন গোটা সিস্টেমটার রিভিউ করা হয় না... সেই প্রশ্নই উঠে আসে বার বার। আর সদ্যই পর পর ২টো ঘটনা যেন অগ্নিতে ঘৃতাহুতি করেছে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ২ মৃত্যু আরজি করে। লিফট বিপর্যয়ে আরজি করে ঝরে গিয়েছে একটা তাজা প্রাণ। আর তার ঠিক ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই চিকিৎসা করাতে এসে অব্যবস্থার দরুণ প্রাণ গেল আরেক প্রৌঢ়ের, পরিবারের অভিযোগ এমনটাই। তবে চিকিৎসকেরা? এই সমস্ত হাসপাতালে যে সমস্ত চিকিৎসকেরা দিন-রাত এক করে রোগীদের সেবা করছেন, তাঁরা আদৌ সুরক্ষিত তো?
সোমবার এনআরএস (NRS) হাসপাতালে যে ছবিটা উঠে আসছে, তা ভয়াবহ। নাইট ডিউটিতে থাকা জুনিয়র ডাক্তারদের নিগ্রহ করার অভিযোগ উঠল রোগীর আত্মীয়দের বিরুদ্ধে। এখানেই শেষ নয়, দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তারক্ষীকেও চূড়ান্ত মারধর করা হল, অভিযোগ এমনটাই। সুরক্ষার দাবিতে বিক্ষোভে সামিল হলেন, ENT বিভাগের জুনিয়র ডাক্তাররা। দোষীদের গ্রেফতারি না হওয়া পর্যন্ত ENT এমার্জেন্সিতে কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানালেন ENT বিভাগের PGT-রা।
কিন্তু ঠিক কী ঘটেছিল? কিসের কারণে তৈরি হল এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি? জানা যাচ্ছে, গতরাতে কয়েন গিলে ফেলা এক শিশুকে আনা হয় এমার্জেন্সিতে। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে দেখেন, সেই শিশু কয়েন গিলে ফেলার পরে কিছু খাবার ও খেয়েছে। ফলে তার শরীরে খাবারের উপস্থিতি ছিল। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এই ধরণের অস্ত্রোপচার করার জন্য পেট খালি থাকা আবশ্যিক। খাদ্যনালীতে যদি খাবার থেকে যায়, তাহলে অস্ত্রোপচারের সময় সেই কয়েন চলে আসতে পারে শ্বাসনালীতে। এর ফলে প্রাণ সংশয় পর্যন্ত হতে পারে। সেই কারণে চিকিৎসকদের তরফ থেকে বলা হয়, কিছুটা অপেক্ষা করার পরেই তাঁরা শিশুর দেহ থেকে কয়েক বের করবেন।
আর এখানেই বাঁধে সমস্যা। গলা থেকে কয়েন বের করতে দেরী হচ্ছে কেন? এই প্রশ্ন তুলে ওয়ার্ডের ভিতরেই চড়াও হয় শিশুর পরিবার। চিকিৎসক ও নিরাপত্তারক্ষীদের অভিযোগ, নিরাপত্তারক্ষীকে মেরে ওয়ার্ডে ঢুকে পড়ে ২০-২৫জন। তারপর ওয়ার্ডেই জুনিয়র চিকিৎসকদের নিগ্রহ করা হয়, অভিযোগ এমনটাই। চিকিৎসকদের আরও অভিযোগ, মহিলা জুনিয়র ডাক্তারদের হেনস্থা করা হলেও, মেলেনি পুলিশি-সাহায্য। ঘটনায় মাত্র ১জন পুলিশকর্মী এসেছিলেন বটে, কিন্তু তিনি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে পারেননি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। সুরক্ষা না পাওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, ENT-র জুনিয়র চিকিৎসকেরা।
তবে হাসপাতালের MSVP মানবেন্দ্র সরকার বলছেন, 'জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলেছি, ঘটনায় FIR করা হয়েছে। কাজে ফেরার আশ্বাস দিয়েছে জুনিয়র ডাক্তাররা। যা হয়েছে, তা অত্যন্ত খারাপ।'
























