Unhappy Leave : মন খারাপ? অফিস করতে হবে না ! এই সংস্থা দিচ্ছে 'আনহ্যাপি লিভ'
RPG Group-এর চেয়ারম্যান হর্ষ গোয়েঙ্কা চিনের একটি রিটেল সংস্থার বিশেষ ছুটির নীতি নিয়ে কথা প্রসঙ্গে আলোচনা করেন।

কলকাতা : মন খারাপ? অফিসে কাজ করতে করতে পরিশ্রান্ত ? মনের মধ্যে গুমোট মেঘ ? অফিসে আসতে ইচ্ছে করছে না, তবু শরীরটাকে টেনে টেনে আনছেন? আচ্ছা মন খারাপ হলে যদি নেওয়া যেত ছুটি ? ধ্যাৎ, এমনটা হতে পারে নাকি ! নিশ্চয়ই ভাবছেন ? এবার সত্যিই মন খারাপে নেওয়া যাবে ছুটি, পোশাকি নাম ‘Unhappy Leave’। সম্প্রতি চর্চায় উঠে এসেছে চিনা একটি কোম্পানির নিয়ম। সেখানে কর্মক্ষেত্রে মানসিকভাবে ভালো না লাগলেও ছুটি নিতে পারেন কর্মীরা । অতিরিক্ত কাজের মধ্যে কর্মীদের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতেই এই উদ্যোগ, মত চিনা ওই সংস্থার। কিন্তু হঠাৎ বিষয়টি নিয়ে এত চর্চা কেন !
হালে ভারতের RPG Group-এর চেয়ারম্যান হর্ষ গোয়েঙ্কা চিনের একটি রিটেল সংস্থার বিশেষ ছুটির নীতি নিয়ে কথা প্রসঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি প্রশ্নও তোলেন, ভারতীয় সংস্থাগুলিরও কি কর্মীদের মানসিক সুস্থতার জন্য এমন উদ্যোগ নেওয়া উচিত নয়?
কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে, চিনের এক রিটেল সংস্থা পাং ডং লাই এই অভিনব ছুটি করে। তারপর থেকেই তা আলচনায়। ২০২৪ সাল থেকেই তারা এই ছুটি দিয়ে থাকে। এই নতুন লিভ পলিসি অনুসারে, কর্মীরা মানসিকভাবে ভাল না-থাকলে প্রতি বছর ১০ দিন পর্যন্ত ছুটি নিতে পারবেন। এই বিষয়ক একটি প্রতিবেদন অনুসারে, কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইউ দোংলাই মনে করেন, কোনো কর্মীকে অসুখী অবস্থায় বা চাপের মধ্যে কাজ করতে বাধ্য করা উচিত নয়। তিনি বলেন, কোনও কর্মী অসুস্থ বোধ করলে, তার মনকে বিশ্রাম দেওয়া দরকার। তাহলে সে ফিরে এসে ভাল কাজ করতে পারবে।
কোনও কর্মী যদি অবসন্ন থাকেন, তাহলে তাঁকে জোর করে কাজে আসতে হবে না। তিনি কিছুটা সময় নিয়ে নিজেকে সুস্থ বোধ করলে কাজে ফিরতে পারবেন। Yu Donglai মনে করেন, কর্মীরা যদি খুশি না থাকেন, তাহলে তাঁদের কাজে আসতে বাধ্য করা উচিত নয়। এমনকি কর্মীদের কেউ ‘unhappy leave’ চাইলে ম্যানেজার সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন না । ওই কোম্পানি মানসিক সুস্থতাকেও শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই গুরুত্ব দেয়। একজন কর্মী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বা অতিরিক্ত চাপে থাকলে তাঁকে কাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য করার পরিবর্তে কিছুটা সময় দেওয়া হলে তিনি আরও ভালোভাবে কাজে ফিরতে পারেন।
হালে সোশ্যাল মিডিয়ায় নীতির কথা তুলে ধরেন শিল্পপতি হর্ষ গোয়েঙ্কা। তবে এমন নয়, তিনি তাঁর নিজের সংস্থায় এই নীতি মানার কথা বলেছেন। বরং তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতীয় কর্মক্ষেত্রে ‘unhappy leave’-এর প্রয়োজন আছে কি না, নাকি burnout কমানোর দরকার ? তাঁর মতে, কাজের জায়গায় এমন পরিবেশ তৈরি করা দরকার, যাতে কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই কাজে আসতে চান।
‘Unhappy leave’ নিয়ে এত আলোচনা হওয়ার কারণ কিন্তু অভিনবত্বর জন্য নয়। বরং হাল আমলে খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে work-life balance । ভারতে এমন নীতি চালু হতে পারে কি ? আর যদিও বা হয়, তাহলে কে সিদ্ধান্ত নেবেন একজন কর্মী সত্যিই ‘unhappy’ কি না? এই ধরনের ছুটির অপব্যবহার হবে না তো ?
সেরা শিরোনাম






















