HC On Durga Puja 2025: 'হিসেব না দিলে, পুজো কমিটিকে অনুদান দেওয়া বন্ধ হোক', পুজো-অনুদান মামলার পর্যবেক্ষণে মন্তব্য় হাইকোর্টের বিচারপতির
HC On Durga Puja Donation : 'দুর্গাপুজোর অনুদান' নিয়ে কী পর্যবেক্ষণ বিচারপতির ?

কলকাতা : 'দুর্গাপুজোর অনুদান নিয়ে হিসাব দেয়নি কোন কোন পুজো কমিটি?' বিস্তারিত তথ্য তলব কলকাতা হাইকোর্টের। যাঁরা হিসাব দিচ্ছেন না, তাঁদের বিষয়টা বিবেচনা করে দেখতে হবে। প্রয়োজনে অনুদান বন্ধ করে দেওয়া হোক, পর্যবেক্ষণ বিচারপতি সুজয় পালের।
আরও পড়ুন, দুর্যোগের মাঝেই সুখবর, অবশেষে হলুদ সতর্কতা সরল কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের এই ৯ জেলা থেকে !
পুজো কমিটি হিসেব না দিলে অনুদান বন্ধ করা হোক। পুজো-অনুদান মামলায় পর্যবেক্ষণে জানাল হাইকোর্ট। যে সমস্ত পুজো কমিটি অনুদান নিয়েও হিসেব দেয়নি, তাদের তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছে বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ। এ নিয়ে পুজোর পর শুনানির আবেদন জানায় রাজ্য সরকার। বিচারপতি প্রশ্ন করেন, পুজোর পর মামলার আর কী গুরুত্ব রয়েছে? বুধবার পুজো-অনুদান মামলার পরবর্তী শুনানি।
হিসেব না দিলে, পুজো কমিটিকে অনুদান দেওয়া বন্ধ হোক! সোমবার পুজো-অনুদান মামলার পর্যবেক্ষণে এমনই মন্তব্য় করল কলকাতা হাইকোর্ট। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে, দুর্গাপুজোর জন্য় ক্লাবগুলোর অনুদান একলাফে প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গতবছর দুর্গাপুজোর জন্য সরকারি অনুদানের অঙ্ক ছিল ৮৫ হাজার টাকা। এবার তা বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা।রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন আইনজীবী সৌরভ দত্ত। সোমবার বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, দুর্গাপুজোর অনুদান নিয়ে হিসেব দেয়নি কোন কোন পুজো কমিটি?
ডিভিশন বেঞ্চ বলে, আগের নির্দেশে রাজ্য সরকারকে নিশ্চিত করতে বলা হয়েছিল যে, সমস্ত পুজো কমিটি যাতে হিসেব পেশ করে। বিচারপতি সুজয় পালের পর্যবেক্ষণ, যাঁরা হিসেব দিচ্ছেন না, তাঁদের বিষয়টা বিবেচনা করে দেখতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটির অনুদান বন্ধ করে দেওয়া হোক।রাজ্য সরকারের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত সওয়াল করেন, আদালত পুজো অনুদান দেওয়ায় কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি। তাই শুনানি হোক পুজোর পরে।
বিচারপতি সুজয় পাল প্রশ্ন করেন, পুজোর পর এই মামলার আর কী গুরুত্ব রয়েছে? যদি নির্দেশ অমান্যকারী পুজো কমিটিগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে হয়, তাহলে সেটা পুজোর আগেই করতে হবে।২০১৮ সাল থেকে দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে পুজোর অনুদান দেওয়া শুরু করে রাজ্য সরকার। প্রথমবার ২৮ হাজার পুজো কমিটিকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়।
৭ বছর আগে সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত এবং বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করেন আইনজীবী সৌরভ দত্ত।সেই সময় হাইকোর্ট প্রশ্ন তোলে, জনগণের টাকা কী পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবহার করা হচ্ছে? জনগণের টাকা কি সরকার অপব্যবহার করতে পারে? টাকা দেওয়ার কি কোনও গাইডলাইন আছে? এর কি কোনও চেক ভালভ আছে? এবারও রাজ্য সরকারের পুজো-অনুদান নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন আইনজীবী সৌরভ দত্ত। ভোটমুখী রাজ্যে পুজো অনুদান নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা।
রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন,কেন্দ্রীয় সরকার বারবার রাজ্য সরকারকে বলেছে, বাবা চোর ধরো, জেলে পোরো। এরা (রাজ্য সরকার) বলছে না, চোরও ধরব না, কিন্তু টাকাও ছাড়ব না। রাজ্য সরকারের যখন এটা ঘোষিত নীতি, তখন এবার চোরের ওপর বাটপাড়ি। সেই রাজ্য সরকারের থেকে যারা টাকা নিচ্ছে, তারা কেন হিসেব দেবে? সেই জন্য ক্লাবরাও জানে যে, আমাদেরও হিসেব দেওয়ার দরকার নেই, কারণ রাজ্য সরকার কেন্দ্রকে হিসেব দেয় না। বুধবার হাইকোর্টে পুজো-অনুদান মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।






















