East Burdwan News: শিক্ষকের অভাবে বন্ধ ঝাঁপ, মঙ্গলকোটের স্কুলে বসছে হাট
West Burdwan News: মঙ্গলকোটের ভাল্যগ্রাম জুনিয়র হাই স্কুলটি বছর দুই আগে শিক্ষকের অভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

রানা দাস, পূর্ব বর্ধমান: শিক্ষকের অভাবে বন্ধ স্কুল। পঠনপাঠন বন্ধ হওয়ার পর সেখানে বসেছে হাট। পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটে প্রতি মঙ্গলবারই বসে এই হাট। শাক-সবজি থেকে শাড়ি, সবই মেলে এখানে।
দু'বছর ধরে বন্ধ মঙ্গলকোটের ভাল্যগ্রাম জুনিয়র হাই স্কুল। সপ্তাহে একদিন বসে হাট। যে বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ার কথা, সেই বিদ্যালয়ে এখন মঙ্গলবার বসে হাট। রমরমিয়ে চলে কেনাবেচা। শাক,সবজি, মশলাপাতি, শাড়ি, সব পাওয়া যায় বিদ্যালয়ের হাটে। স্কুলের বারান্দায় ভাজা হয় গরম গরম চপ, বেগুনি। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য স্কুল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ তাই মঙ্গলবার স্কুলের মাঠটি হাটের জন্য ব্যবহার করা হয়। তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের সদস্যের বক্তব্য জনগণের স্বার্থে বাজারের জায়গা নেই বলে হাটটা বিদ্যালয়ে বসানো হয়েছে। বিদ্যালয় চালু হলেই হাট সরিয়ে নেওয়া হবে। অন্যদিকে মহকুমা শিক্ষা দফতরের অধিকারিক জানিয়েছে শিক্ষক না থাকায় বন্ধ রয়েছে বিদ্যালয়। শিক্ষক নিয়োগ হলেই ফের চালু হবে বিদ্যালয়। তবে হাট বসার বিষয়টি তিনি জানেন না।
মঙ্গলকোটের ভাল্যগ্রাম জুনিয়র হাই স্কুলটি বছর দুই আগে শিক্ষকের অভাবে বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় দোতালা স্কুলটি নষ্ট হচ্ছে। স্কুলের বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিলে পড়েছে ধুলো। ভেঙে পড়েছে ক্লাস রুমের দরজা জানলা। সেই সুযোগে বিদ্যালয়ের মাঠ, বারান্দা এখন ব্যবহার হচ্ছে হাটের জন্য। শিক্ষকের অভাবে ওই গ্রামের দেড়শো জনের বেশি ছাত্রছাত্রী বাধ্য হয়ে দূরের স্কুলে পড়াশোনা করছে। অভিভাবকদের আক্ষেপ সমস্ত পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকের অভাবে স্কুলটা বন্ধ হয়ে গেল। তাঁদের আশঙ্কা এখন সপ্তাহে একদিন হাট বসে। আস্তে আস্তে হয়ত ওই পুরো বিদ্যালয়টাই একদিন হাটের দখলে চলে যাবে। সপ্তাহে সাতদিনই বসবে হাট। তখন শুধু বইয়ের পাতাতেই লেখা থাকবে "এই হাটে একসময় স্কুল বসত। ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা করতে আসত।"
সাম্প্রতিক অতীতে মোদি সরকারের শিক্ষামন্ত্রকের রিপোর্টে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি স্কুলের করুণ ছবি সামনে এসেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে পড়ুয়াহীন সরকারি স্কুলের সংখ্য়ার নিরিখে শীর্ষে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। ডিপার্টমেন্ট অফ স্কুল এডুকেশন অ্য়ান্ট লিটারেসি প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের ৩ হাজার ২৫৪টি সরকারি স্কুলে একজনও পড়ুয়া নেই। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে যে ৩ হাজার ২৫৪টি সরকারি সকুলে একজনও পড়ুয়া নেই সেখানে মোট শিক্ষকের সংখ্য়া ১৪ হাজার ৬২৭। আবার পশ্চিমবঙ্গে এমন ৬ হাজার ৩৬৬টি সরকারি সকুল রয়েছে, যেখানে মাত্র ১জন করে শিক্ষক রয়েছেন। অথচ, এই স্কুলগুলিতে মোট পড়ুয়ার সংখ্য়া ২ লক্ষ ৪৮ হাজার ৬৯৬।
আরও পড়ুন: Nadia News : ক্লাসরুমের মধ্যেই বিভাগীয় প্রধানকে সিঁদুর প্রথম বর্ষের ছাত্রের ! ভাইরাল ভিডিও






















