Kolkata News: তারাতলা থেকে গড়িয়া বাজার, সোনারপুর.. বেহাল অবস্থা কলকাতার একাধিক রাস্তার! পুজোর আগে বদলাবে ছবিটা?
Bad Road Condition: রাস্তা দিয়ে কার্যত লাফিয়ে লাফিয়ে চলছে গাড়ি...বাস, মিনিডোর বা বাইক... এগোতে হচ্ছে এক্কাদোক্কা খেলার মতো দুলকি চালে!

সত্যজিৎ বৈদ্য ও অর্ণব মুখোপাধ্যায়, কলকাতা: দিনের পর দিন বিপজ্জনক অবস্থায় পড়ে রয়েছে তারাতলা থেকে জিঞ্জিরাবাজার যাওয়ার রাস্তা। অভিযোগ, জোড়াতাপ্পি দেওয়া হলেও, হয় না কোনও স্থায়ী সমাধান। প্রায় একই পরিস্থিতি গড়িয়া বাজার থেকে সোনারপুর বা বারুইপুর যাওয়ার পথের। কবে মিলবে সমাধান? অপেক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দা থেকে নিত্যযাত্রীরা।
রাস্তা দিয়ে কার্যত লাফিয়ে লাফিয়ে চলছে গাড়ি...বাস, মিনিডোর বা বাইক... এগোতে হচ্ছে এক্কাদোক্কা খেলার মতো দুলকি চালে! রাস্তার একহাত অন্তর অন্তর গর্ত...আর সেই গর্তে চাকা পড়ে ভারী লরি যেভাবে যাচ্ছে, তাতে যখন-তখন উল্টে যাওয়ার আশঙ্কা! ভয়ঙ্কর এই অবস্থা দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তারাতলা রোডের। কোথাও পিচের প্রলেপ সরে বেরিয়ে এসেছে পথের কঙ্কাল! কোথাও একটু এদিক থেকে ওদিক হলেই ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।
বাইক চালক গৌতম বিশ্বাস বলছেন, 'এত গর্ত... মানুষ মারার অবস্থা হয়ে গেছে রাস্তা। ৩৬৫ দিন এরকম খারাপ থাকে। হয় ওরকম প্যাচ রিপেয়ারিং (জোড়াতাপ্পি দেওয়া) হয়। পুজো এলেই যে দক্ষিণ কলকাতায় উপচে পড়ে ভিড়, সেখানেই বছরভর এভাবে বিপদের সঙ্গে লুকোচুরি খেলে ঝুঁকির যাতায়াত! তারাতলা থেকে জিঞ্জিরাবাজার যাওয়ার এই রাস্তা পেরনো যেকোনও চালকের কাছেই দুঃস্বপ্ন। অটোচালক শঙ্কর সাউ বলছেন, 'অবস্থা খারাপ। কত গাড়ির অ্যাক্সিডেন্ট হয়। পাম্পের ওখানে চলে যান... ওখানে একটা রাস্তা খুঁজে পাবেন না যে গাড়ি নিয়ে (গর্ত) কাটিয়ে যাবেন। এভাবেই চলছে। বর্ষার আগে কিছুটা ছিল, বর্ষার মধ্য়ে পুরো শেষ হয়ে গেছে।'
প্রায় এই ছবিরই প্রতিফলন দক্ষিণের শহরতলিতে। এই যে কঙ্কালসার রাস্তা দেখছেন এটা গড়িয়া বাজার থেকে সোনারপুর বা বারুইপুর যাওয়ার পথ। কবি নজরুল বা গড়িয়া মেট্রো স্টেশনের সামনের এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন প্রাণ হাতে করে যাতায়াত করেন অসংখ্য যাত্রী। অভিযোগ, মাঝেমাঝে মেরামত হলেও কিছুদিনের মধ্য়েই ওপরের পিচের আস্তরণ উঠে বেরিয়ে পড়ে গর্ত। দু'চাকা, তিনচাকা, চারচাকা হোক বা ভারী যানবাহন... দুর্বিষহ পথই যেন এখানকার ভবিতব্য!
রিকশচালক সন্দীপ দে বলছেন, 'রাস্তাঘাটের যা পরিস্থিতি বলার মতো নয়। প্রতিমুহূর্তে অ্যাক্সিডেন্ট হতে হতে বাঁচছে। প্রচণ্ড অবস্থা খারাপ। এরকম রাস্তার অবস্থা, তার মধ্যে যদি জল জমে আর দেখতে লাগবে না। রাস্তা না পুকুর, বোঝা মুশকিল। সারাবছর এই অবস্থা থাকে। বর্ষাতে অবস্থা আরও খারাপ।' কিন্তু কেন দিন পর দিন এইভাবে প্রাণ হাতে করে যাতায়াত করতে হচ্ছে? নাগরিক পরিষেবা পেতে সাধারণ মানুষকে যে কর গুণতে হয়, সেই টাকা যাচ্ছে কোথায়? উঠছে প্রশ্ন।
বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো আসতে আর একমাসও বাকি নেই। তার আগে কি বদলাবে বেহাল রাস্তার এই ছবি?






















