Kolkata News: পরপর ২ কন্যাসন্তানের জন্ম, গৃহবধূকে খুনের অভিযোগ শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে
Housewife Mysterious Death: মৃতার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তাঁদের মেয়েকে পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে। ২ বার কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ায় চরম অত্যাচার করা হতো বলেও অভিযোগ।

আবির দত্ত, কলকাতা : নারকেলডাঙা থানা এলাকায় গৃহবধূর রহস্যমৃত্যু। ২ বার কন্যা সন্তান হওয়ায় গৃহবধূকে খুনের অভিযোগ শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে। খুনের অভিযোগ করেছেন গৃহবধূর বাপের বাড়ির সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, ২ বার কন্যা সন্তান হওয়ায় গৃহবধূর উপর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা অত্যাচার চালাত। অন্যদিকে, বাড়ি থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। তবে মৃতার বাপের বাড়ির সদস্যদের অভিযোগ, গৃহবধূর দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁদের আরও অভিযোগ, এটি একটি পরিকল্পিত খুন। মৃতার নাম শ্বেতাপ্রসাদ সাউ।
শ্বেতার বাপের বাড়ির লোকেদের অভিযোগ, পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে তাঁদের মেয়েকে। মারা যাওয়ার ১৫ মিনিট আগেও বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন শ্বেতা। ফোনের মধ্যে তিনি তাঁর বাবাকে অভিযোগ করে জানিয়েছিলেন যে, তাঁর স্বামী গলা টিপে আক্রমণ করেছিল তাঁকে। বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কথাও ফোনে বাবাকে জানিয়েছিলেন শ্বেতা। এর প্রতিবাদ করাতেও গৃহবধূর উপর অত্যাচার করা হয় বলে অভিযোগ। এর পাশাপাশি মৃতার বাপের বাড়ির সদস্যদের অভিযোগ, ২ বার কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন শ্বেতা। পুত্রসন্তানের জন্ম দিতে না পারায় গৃহবধূর উপর অত্যাচার চরমে ওঠে। রোষ এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে এই বিয়ে ভেঙে আরেকটি বিয়ের তোড়জোড়ও করছিলেন মৃতার স্বামী। এই প্রসঙ্গে মৃতার স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
এদিকে গৃহবধূর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাঁর বাপের বাড়ির সদস্যদের জানান যে বাড়ি থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। অথচ মৃতার বাপের বাড়ির সদস্যদের দাবি, ফোনে কথা হওয়ার পর যখন শ্বেতার বাবা তাঁর শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে, তখন তাঁকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। নারকেলডাঙা থানায় এই ঘটনার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতার পরিবারের সদস্যরা। নীল রতন সরকার হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে মৃতার দেহ। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের কঠিনতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মৃতার বাপের বাড়ির লোকেরা।
শ্বেতার পরিবারের এক সদস্যের কথায়, কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য ছেলের আবার বিয়ে দেওয়ার কথা ঠিক করেছিলেন শ্বেতার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এরপর দুই বাড়ির কথাবার্তা, মধ্যস্থতায় সেই বিষয়টি থেমে যায় তখনকার মতো। শ্বেতার ওই আত্মীয়ের আরও অভিযোগ, মেয়ের ফোন পাওয়ার পর তাঁর বাবা গিয়েছিলেন শ্বেতার শ্বশুরবাড়িতে। তাঁকে মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। বাড়ির সামনে গিয়ে মেয়ের শ্বশুরের ফোনে বেশ কয়েকবার ফোন করেন তিনি। সেই সময় শ্বেতার শ্বশুরমশাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে, বাড়ির উল্টোদিকে থাকা নিজেদের অফিসে বসিয়েছিলেন শ্বেতার বাবাকে।
বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর মেয়ের ফোনে ফোন করেন বাবা। তখন শ্বেতা আবারও জানান অত্যাচারের কথা। ফোনের মধ্যেই ওই শ্বেতার বাবা শুনতে পান যে কেউ (সম্ভবত শ্বেতার শাশুড়ি) শ্বেতাকে জিজ্ঞাসা করছেন যে তিনি কার সঙ্গে ফোনে কথা বলছেন। জবাব শ্বেতা জানান যে তিনি তাঁর বাবার সঙ্গে কথা বলছেন। ফোনের যাবতীয় কথোপকথন রেকর্ড করা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন শ্বেতার পরিবারের ওই সদস্য। তিনি আরও জানান মেয়ের দেখা না পেয়ে তাঁর বাবা যখন কার্যত দরজা ঠেলে বাড়ির ভিতরে যান তখন দেখেন স্বামীর কোলে পড়ে রয়েছেন শ্বেতা। তার মাথায়, মুখে আঘাতের চিহ্ন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।






















