Bally : বাড়ছে ডেঙ্গির প্রকোপ, পুকুর পরিষ্কারের জন্য বালির জুটমিল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ আদালতের ; অন্যথা FIR
Court directs Jute Mill Authority : রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা দিনের পর দিন বেড়ে চলেছে। কিছু মৃত্যুও হয়েছে

ভাস্কর ঘোষ, বালি : রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বাড়ছে ডেঙ্গির (Dengue) প্রকোপ। এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গি মোকাবিলায় পুকুর পরিষ্কার নিয়ে জুট মিলের (Jute Mill) সাথে বালি পুরসভার (Bally Municipality) সংঘাত। শেষমেশ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে মিল কর্তৃপক্ষকে পুকুর পরিষ্কার করতে বাধ্য করেছে প্রশাসন।
রাজ্যে করোনার প্রকোপ এখনও রয়েছে। ফের নতুন করে প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। যা চিন্তায় ফেলেছে প্রশাসনকে। এরই মধ্যে ডেঙ্গির প্রকোপ ধীরে ধীরে বড় আকার নিতে চলেছে। রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা দিনের পর দিন বেড়ে চলেছে। কিছু মৃত্যুও হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোমর বেঁধে ডেঙ্গি প্রতিরোধে নেমে পড়েছে প্রশাসন। সেইমতো বালি পুরসভার পক্ষ থেকে ডেঙ্গি ছড়িয়ে পড়া রুখতে এলাকা পরিদর্শন, নালা নর্দমা এবং জলাশয় পরিষ্কারের কাজ চালানো হচ্ছে। আর সেখানে বেলুড়ের একটি জুট মিলের বড় নোংরা পুকুরের সংস্কার নিয়ে সংঘাত শুরু হয়েছে মিল কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের মধ্যে।
আরও পড়ুন ; বর্ষাকালে মশা কামড়ালে যে অসুখগুলো হতে পারে
সাবেক ১৫ বা হাওড়া ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডের করুণা পুকুর রোডের ঘনবসতিপূর্ণ কলোনি এলাকা লাগোয়া প্রায় এক একর মাপের পাঁক, পানা এবং নোংরা ভরা পুকুরটি গত প্রায় এক যুগ পরিষ্কার করা হয়নি। এদিকে ওই ওয়ার্ডে ইতিমধ্যে নয় জন ডেঙ্গি আক্রান্ত। সকলেই সুস্থ হয়ে উঠলেও, অবস্থা খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। এই অবস্থায় বাসিন্দারা পুরসভা-বিধায়ক সকলকেই বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। অবশেষে টনক নড়ে পুরসভার। পুকুর পরিদর্শন করেন আধিকারিকরা । তার পরই পুকুর পরিষ্কার করা নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধ বাধে জুটমিল কর্তৃপক্ষের। ইতিমধ্যে ২৮ জুন নোটিস দেওয়া সত্ত্বেও, পুকুর পরিষ্কারের কোনও উদ্যোগ তারা নেয়নি বলে অভিযোগ।
আদালতের নির্দেশ-
গত ১৫ জুলাই আধিকারিকরা পুকুর পরিদর্শন করেন এবং তারপরেই হাওড়ার ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে ১৩৩ ধারায় কেস রুজু করে। পাবলিক বেনিফিট অ্যাক্ট অনুযায়ী, সুয়ো মোটো এই কেসে ১৬ জুলাইয়ের নির্দেশে মিল কর্তৃপক্ষকে পরিষ্কার বলে দেওয়া হয়, ২১ জুলাইয়ের মধ্যে পুকুর পরিষ্কার করে তার রিপোর্ট নিয়ে মিল ম্যানেজারকে ২২ জুলাই হাওড়া আদালতে দেখা করতে হবে। আদেশ অমান্য করলে তাঁর বিরুদ্ধে বেলুড় থানায় এফআইআর করা হবে। এরপরেই টনক নড়ে মিল কর্তৃপক্ষের। তারা পুকুর পরিষ্কারের জন্য লোক লাগায়। কিন্তু বিশালাকার এই পুকুর এত তাড়াতাড়ি পরিষ্কার করা যাবে বা আদৌ আদালতের নির্দেশ মানা যাবে কি না সে নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আরও প্রশ্ন উঠছে, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসনের বারবার বলা সত্ত্বেও, কেন কোর্ট অর্ডারের পরেই প্রায় এক যুগ পরে সাফাইয়ের কাজে হাত দিল মিল কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে মিল কর্তৃপক্ষ মুখ খুলতে চায়নি। কোর্টের বিচারাধীন বলে বিষয়টি এড়িয়ে গেছে।
যদিও হাওড়া আদালত ২১ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ পুকুর পরিষ্কার করবার নির্দেশ দিয়েছেন।





















