Cyclone Arnab : শিয়রে ঘূর্ণিঝড়? আবারও একটা বড় ঝড় পশ্চিমবঙ্গে? তুমুল বৃৃষ্টিতে ভাসবে রাজ্য? বড় আপডেট IMD-র
আবহবিদদের নজর এখন বঙ্গোপসাগরের এই নিম্নচাপের গতিপ্রকৃতির দিকে। প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নচাপটি উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে এগোতে পারে।

কলকাতা : পুজোর আবহ শেষ হতে না হতেই নতুন করে প্রকৃতির চোখরাঙানি। ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কার কথা জানাল আবহাওয়া দফতর। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমশই শক্তি বাড়াচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, সব কিছু এমনই চললে আগামী সোমবার, ২৬ অক্টোবরের মধ্যে নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে তার নাম হবে 'অর্ণব'। বাংলাদেশের দেওয়া এই নামের অর্থ সমুদ্র। তবে এই মুহূর্তে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব ঠিক কতটা পড়বে, তা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। আবহবিদদের নজর এখন বঙ্গোপসাগরের এই নিম্নচাপের গতিপ্রকৃতির দিকে। প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নচাপটি উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে এগোতে পারে।
অনেকেরই প্রশ্ন, ওড়িশা ও অন্ধ্রের দিকে ঝড়টি এগোলে কি তার প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের উপর পড়বে ? আগামী ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। আবহাওয়া দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী, ২৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর নিম্নচাপটি তৈরি হয়। পরে সেটি একই অঞ্চলে অবস্থান করে। নিম্নচাপের সঙ্গে যুক্ত ঘূর্ণাবর্তটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫.৮ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের মনে করছে, ২৪ অক্টোবর নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। ২৫ অক্টোবর সেটি আরও শক্তি বাড়িয়ে অতি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর ২৬ অক্টোবর সকালে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং সংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে যেতে পারে। তবে কোথায়, কখন স্থলভাগে আছড়ে পড়বে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। আগামী কয়েক দিনের পর্যবেক্ষণের পর এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকলে ঘূর্ণিঝড় তৈরির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে শুধু সমুদ্রের তাপমাত্রা বেশি থাকলেই ঘূর্ণিঝড় তৈরি হবে, এমন নয়। এর পাশাপাশি বাতাসের গতিবেগ ও দিকের উচ্চতাভেদে পরিবর্তন, অর্থাৎ ভার্টিক্যাল উইন্ড শিয়ারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
গত সেপ্টেম্বরেও বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া একটি নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারেনি। ২৩ সেপ্টেম্বর গভীর নিম্নচাপ হিসেবেই অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করেছিল সেটি। পরে তার প্রভাবে কলকাতা-সহ একাধিক জায়গায় ভারী বৃষ্টি হয়েছিল। এ বারও নিম্নচাপটি শেষ পর্যন্ত কতটা শক্তি বাড়াতে পারে, তা নির্ভর করছে অনুকূল আবহাওয়াগত পরিস্থিতি কতটা বজায় থাকে, তার উপর।
ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলের দিকে হলেও তার প্রভাবে এ রাজ্যের আবহাওয়াতেও পরিবর্তন আসতে পারে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের মতো উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রামেও ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ২৭ অক্টোবর থেকে বাংলার উপকূলবর্তী এলাকায় দমকা হাওয়া বইতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে সমুদ্র উপকূলে আবহাওয়ার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা জরুরি। তবে কলকাতায় আপাতত মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
Before You Go
CM Suvendu Adhikari: ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর, ইঙ্গিত কি তাহলে ঋতব্রত শিবিরের দিকে? | ABP























