Jadavpur University: 'এটা ঠিক করে দেওয়ার তুই কে?' সিনিয়র-জুনিয়র হুমকি-হুঁশিয়ারি! যাদবপুরে তুলকালাম
কিছু জুনিয়র ছাত্র-ছাত্রীর আচরণ আপত্তিজনক বলে দাবি করে সরব হয় সিনিয়রদের একাংশ।

কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কি নীতি পুলিশি? ছাত্রছাত্রীর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন সিনিয়রদের। বচসার জেরে উত্তেজনা ছড়াল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ৪ সিনিয়র পড়ুয়াকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে নিষেধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
ঠিক কী ঘটেছে?
ঘটনার সূত্রপাত, মঙ্গলবার রাতে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর ওইদিন সন্ধ্যায় একটু অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠানের শেষে, কিছু জুনিয়র ছাত্র-ছাত্রীর আচরণ আপত্তিজনক বলে দাবি করে সরব হয় সিনিয়রদের একাংশ। জুনিয়রদের একাংশের অভিযোগ, ঘটনার ভিডিও তোলা নিয়েও হুমকি দেওয়া হয় তাঁদের। ঘটনা নিয়ে সিনিয়রদের একাংশের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন বেশ কয়েকজন পড়ুয়া।
একদল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পড়ুয়া ছিলেন। অপরদল ছিলেন কলা বিভাগের পড়ুয়া। তাঁদের মধ্যেই গণ্ডগোল হয়। জানা গিয়েছে, চার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়ার নিদান, ক্যাম্পাসের ভিতরে হাঁটা যাবে না হাত ধরে। কারণ, ক্যাম্পাস কোনও প্রেম-পিরিতি করার জায়গা নয়। এভাবেই নীতিপুলিশি চলে বলে অভিযোগ। এরই প্রতিবাদ করেন কলা বিভাগের পড়ুয়ারা। অভিযোগ, সেই বচসা গড়ায় হাতাহাতি পর্যন্ত।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভচট্টাচার্য বলেন, 'বেসিক্যালি আমি যেটা পেয়েছি সেটা, মরাল পুলিশিং যেটাকে বলে, নীতি পুলিশ যেটাকে বলা হয় বাংলায়। নিজেদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা সেখান থেকে হয়তো মারপিটের মতো পরিস্থিতি হয়েছে। ঘটনাটা দুর্ভাগ্যজনক। হওয়া উচিত নয়। ঘটনাটা একেবারেই বাঞ্ছনীয় নয়। প্রাথমিকভাবে তাদেরকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে বারণ করা হয়েছে।'
অভিযোগকারী ছাত্রী অনুষ্ণা দাস বলেন, 'যে ব্যক্তির নামে অভিযোগ সে নতুন কোনও কালপ্রিট নয় ক্যাম্পাসে, সে এর আগেও বহু ঘটনা এরকম ঘটিয়েছে। সন্ত্রাস সৃষ্টি করে রেখেছে গোটা ক্যাম্পাসে। আমরা অথরিটিকে গিয়ে বলি যে, আপনাদের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে তাদেরকে বের করার ক্যাম্পাস থেকে, তাহলে বের করুন। তখন তারা এটাতে রাজি হয় যে তারা একটা ইনভেটিকেশন কমিটি তৈরি করবে।'
বিতর্ক পিছু ছাড়ছে বা, মাস দুয়েক এক ছাত্রীর মৃত্যু হয় ডুবে। তারপর এবার নীতি পুলিশের অভিযোগ। রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে দেশের শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে একাধিকবার। ৫ তারা এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার অন্যতম উৎকর্ষকেন্দ্র। কিন্তু বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না যাদবপুরের।






















