ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে ভারতীয় শেয়ার বাজারে বড় ধস নেমেছে। নিফটি ৫০ ও সেনসেক্স-এ বিশাল পতন দেখা গেছে, যার ফলে বিনিয়োগকারীদের প্রায় ১৭.৫৯ লক্ষ কোটি টাকা উধাও হয়েছে।
Stock Market Crash : শেয়ার বাজারে হাহাকার, কয়েক মিনিটেই বিনিয়োগকারীদের সাড়ে ১৭ লক্ষ কোটি টাকা উধাও!
Israel Iran War : সপ্তাহের শুরুতেই সোমবার বাজার (Share Market Crash) খুলতেই ধস নেমেছে দেশের শেয়ার বাজারে (Stock Market)।

Israel Iran War : ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধের আবহে বড় ধাক্কা খেল ভারতের শেয়ার বাজার (Indian Stock Market)। সপ্তাহের শুরুতেই সোমবার বাজার (Share Market Crash) খুলতেই ধস নেমেছে দেশের শেয়ার বাজারে (Stock Market)। নিফটি ৫০ (Nifty 50) ও সেনসেক্সে (Sensex) বিশাল পতন দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীদের (Investment) ১৭.৫৯ লক্ষ কোটি টাকা উধাও হয়েছে গেছে।
রেকর্ড পতন শেয়ার বাজারে
গত শুক্রবার বাজার বন্ধ হওয়ার সময় বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (BSE) নথিভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজার মূলধন (Market Cap) ছিল ৪৬,৩৫০,৬৭১.২৭ কোটি টাকা। কিন্তু সোমবার বাজার খুলতেই তা হু হু করে কমে দাঁড়ায় ৪৪,৫৯১,৬৬০.৬০ কোটি টাকায়। অর্থাৎ কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানে বিনিয়োগকারীরা হারিয়েছেন ১৭,৫৯,০১০.৬৭ কোটি টাকা। সেনসেক্স এবং নিফটি—উভয় সূচকই বড় পতনের সম্মুখীন হয়েছে।
টাকার দরে রেকর্ড পতন
শুধুমাত্র শেয়ার বাজার নয়, যুদ্ধের প্রভাবে অস্থির মুদ্রা বাজারও। মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার দাম একধাক্কায় অনেকটা কমে গিয়েছে। সোমবার টাকার বিনিময় মূল্য ৯১ টাকার গণ্ডি অতিক্রম করে সর্বকালীন নিম্নস্তরের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। গত এক মাসের মধ্যে এটিই টাকার সবথেকে দুর্বল অবস্থান।
টাকার পতনের প্রধান কারণগুলি:
১ ইরান ও ইজরায়েল সংঘাতের কারণে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) আকাশছোঁয়া দাম।
২ বিদেশি লগ্নিকারীদের (FII) ভারতীয় বাজার থেকে পুঁজি তুলে নেওয়ার প্রবণতা।
৩ বিশ্ব বাজারে ডলারের ক্রমবর্ধমান শক্তি।
সবথেকে বেশি পতন যে শেয়ারগুলিতে
বাজারের এই মন্দার কবলে পড়েছে নামী দামি সব ব্লু চিপ (Blue-chip) সংস্থাগুলি। সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আবাসন ও পরিকাঠামো খাতের অন্যতম বৃহৎ সংস্থা লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (L&T)। রিপোর্ট অনুযায়ী, সংস্থাটির শেয়ারের দাম প্রায় ৫.৬৯ শতাংশ পড়ে গিয়েছে। এ ছাড়াও ক্ষতির তালিকায় রয়েছে:
ইন্ডিগো (Indigo): ৪.৩০ শতাংশ পতন।
আদানি পোর্টস (Adani Ports): উল্লেখযোগ্য পতন।
মারুতি সুজুকি ও মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা (M&M): গাড়ি নির্মাণকারী সংস্থাগুলির শেয়ারেও লাল সংকেত দেখা দিয়েছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যেদিকে মোড় নিচ্ছে, তাতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল, যা আগামী দিনে বাজারকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। লগ্নিকারীদের এখনই বড় কোনও বিনিয়োগ না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
( মনে রাখবেন : এখানে প্রদত্ত তথ্য শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা জরুরি যে, বাজারে বিনিয়োগ করা ঝুঁকি সাপেক্ষ। বিনিয়োগকারী হিসাবে অর্থ বিনিয়োগ করার আগে সর্বদা একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করুন। ABPLive.com কখনও কাউকে এখানে অর্থ বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেয় না। এখানে কেবল শিক্ষার উদ্দেশ্যে এই শেয়ার মার্কেট সম্পর্কিত খবর দেওয়া হয়। কোনও শেয়ার সম্পর্কে আমরা কল বা টিপ দিই না। )
Frequently Asked Questions
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে ভারতীয় শেয়ার বাজারে কী প্রভাব পড়েছে?
যুদ্ধের প্রভাবে ভারতীয় টাকার মানে কি কোনো পরিবর্তন হয়েছে?
হ্যাঁ, যুদ্ধের প্রভাবে ভারতীয় টাকার মানেও রেকর্ড পতন হয়েছে। মার্কিন ডলারের তুলনায় টাকার বিনিময় মূল্য ৯১ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে সর্বকালীন নিম্নস্তরের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
ভারতীয় টাকার পতনের প্রধান কারণগুলি কী কী?
টাকার পতনের প্রধান কারণগুলির মধ্যে রয়েছে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি, বিদেশি লগ্নিকারীদের ভারতীয় বাজার থেকে পুঁজি তুলে নেওয়া এবং বিশ্ব বাজারে ডলারের শক্তি বৃদ্ধি।
কোন কোন শেয়ারের সবথেকে বেশি পতন হয়েছে?
বাজারের মন্দার কবলে পড়ে লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (L&T), ইন্ডিগো (Indigo), আদানি পোর্টস (Adani Ports), মারুতি সুজুকি এবং মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা (M&M)-এর মতো বড় সংস্থাগুলির শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।























