Jalpaiguri News: ভ্যাকসিন নেওয়ার পরই শিশুমৃত্যুর অভিযোগ, দুই স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের
West Bengal News: জলপাইগুড়ির ক্রান্তিতে ভ্যাকসিনে শিশু মৃত্যুর অভিযোগে, ৩ সদস্যের মেডিক্যাল টিম গঠন করল স্বাস্থ্য দফতর।

রাজা চট্টোপাধ্যায়, জলপাইগুড়ি: সাব সেন্টারে ভ্যাকসিন নেওয়ার পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জেরে শিশুমৃত্যুর অভিযোগ। জলপাইগুড়ির ক্রান্তির ঘটনায় ওই সাব সেন্টারের দুই স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করল মৃত শিশুর পরিবার।
জলপাইগুড়ির ক্রান্তিতে ভ্যাকসিনে শিশু মৃত্যুর অভিযোগে, ৩ সদস্যের মেডিক্যাল টিম গঠন করল স্বাস্থ্য দফতর। ৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট তলব করেছেন জলপাইগুড়ি জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। অন্যদিকে, এই ঘটনায় উত্তর মাটিয়ালি সাব সেন্টারের, দুই স্বাস্থ্য কর্মী রূপা কুণ্ডু ও শুভ্রা সাহার বিরুদ্ধে জলপাইগুড়ি থানার ক্রান্তি ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করেছে পরিবার। পরিবারের দাবি, অবিলম্বে মেডিক্যাল টিম গঠন করে, পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে, দক্ষ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে, ভিডিওগ্রাফি করে ময়নাতদন্ত ও দুই স্বাস্থ্য কর্মীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠিন সাজা, দিতে হবে। পরিবারের দাবি মতো, শুক্রবার জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্ত শুরু হয় ওই শিশুর।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার। বুধবার, ক্রান্তি মোড়ে উত্তর মাটিয়ালি সাব সেন্টারে ওই শিশুকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, ভ্য়াকসিন দেওয়ার পরই শিশুর জ্বর আসে, নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বেরোতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয়। মৃত শিশুর মা গতকাল অভিযোগ করেন, "ইঞ্জেকশন দিলাম। বাড়ি নিয়ে আসলাম, ভালোই আছে। হঠাৎ করে বাচ্চাটা এমন হাঁচি দিল, নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে গেছে। তিনটে ইঞ্জেকশন দিয়েছে। পোলিও খাইয়েছে। বলবে না, যে তিনটে ইঞ্জেকশন নিতে পারবে কিনা বাচ্চাটা, সেটা তো বলবে না।''
শিশুমৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। মৃতদেহ নিয়ে লাটাগুড়ির ক্রান্তি মোড় এলাকা অবরোধ করেন গ্রামবাসী। ভাঙচুর চালানো হয় সরকারি বাসে। সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে প্রশাসন। এদিকে, এই ঘটনাতেও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। শুক্রবারই মৃত শিশুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান DYFI নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। ঘটনাস্থল থেকেই রাজ্য স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এদিন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে যে ভাবে জাল ওষুধের ছড়াছড়ি হয়েছে, এবং সরকার নিজে বলছে জাল ওষুধ, আতঙ্কটা গোটা রাজ্যের মানুষকে ঘিরে রেখেছে। বাচ্চাটাকে তো আর ফেরত পাবে না, অন্ততপক্ষে কী করে হল, আর যাতে কারোর না হয়, সেই শান্তিটুকু যাতে এই পরিবার পায়।''






















