Jyotipriya Mallick : 'ও মুখ্যমন্ত্রী হয়েছে, এটা তো আমার গর্ব', শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক
'কালীঘাট-তৃণমূল' থেকে বেরিয়ে আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করলেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। একইসঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও প্রশংসায় ভরালেন তিনি।

শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে 'কালীঘাট-তৃণমূল' থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। এবার সেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের গলাতেই শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রী শুভেনদু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা। বললেন, এত সফল নেতা আমি আমার জীবনে দেখিনি। অন্যদিকে, 'কালীঘাট-তৃণমূল' ছেড়ে 'ঋতব্রত-তৃণমূলে' যোগ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রায় তিন দশকের সহকর্মী। এদিন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামেও প্রশংসা করতে শোনা যায় প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রীকে।
কিছুদিন আগেই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে 'কালীঘাট-তৃণমূল' থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এরপর তিনি যোগ দেন 'ঋতব্রত-তৃণমূল'-এ। আর এবার তাঁর মুখেই শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা। শুধু রাজনৈতিক দক্ষতাই নয়, শুভেন্দুর সাংগঠনিক ক্ষমতা এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও প্রকাশ্যে তুলে ধরলেন জ্যোতিপ্রিয়। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, "শুভেন্দু অধিকারী আমাদের প্রজন্মের নেতা হয়েছে। সে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছে, এটা আমার কাছে গর্বের। ও কাজ করতে চাইছে। একজন মুখ্যমন্ত্রীকে তো কাজ করার সময় দিতে হবে।"
শুধু সেখানেই থেমে থাকেননি তিনি। শুভেন্দুর পরিবারের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরে বলেন, "ওর বাবাকে আমি শিশিরদা বলে ডাকি। কাঁথির শান্তিকুঞ্জে ওদের বাড়িতে বহুবার গিয়েছি। পরিবারের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক।" এরপর শুভেন্দুর সাংগঠনিক দক্ষতার প্রশংসা করে জ্যোতিপ্রিয় বলেন, "শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেসের অত্যন্ত বলিষ্ঠ সংগঠক ছিল। পাঁচটি জেলার দায়িত্ব সামলেছে। আমি একটি জেলার দায়িত্ব সামলাতেই হিমশিম খেয়েছি। অথচ ও পাঁচটি জেলা সফলভাবে পরিচালনা করেছে। এত সফল নেতা আমি আমার জীবনে দেখিনি।"
জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক দীর্ঘদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিন দশকেরও বেশি সময় তিনি তৃণমূলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। রেশন দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর জামিন পান। এরপর বিধানসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হলেও জয় পাননি। নির্বাচনের পর তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে 'ঋতব্রত-তৃণমূল'-এ যোগ দেন।
এদিকে, বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলার তদন্ত ফের আলোচনায় এসেছে। রাজ্য সরকার মামলার ফাইল পুনরায় খোলার ইঙ্গিত দেওয়ার পর সিআইডি বরুণ বিশ্বাসের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে। এই আবহে বরুণ বিশ্বাসের দিদি প্রমীলা রায় বিশ্বাস অভিযোগ করেন, তাঁর ভাইয়ের হত্যার নেপথ্যে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ভূমিকা ছিল। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি এবং মামলাটি বিচারাধীন।
অন্যদিকে, জ্যোতিপ্রিয়র এই মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রীর মুখে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এমন প্রশংসা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। যদিও এই বিষয়ে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।























