Kakdwip News: শিক্ষক পিটিয়ে গ্রেফতারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জামিন তৃণমূল নেতার, তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে মামলা আক্রান্তের
Kakdwip Teacher Beaten: পুলিশ জামিনযোগ্য ধারা দেওয়ায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জামিন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার। ১ দিনের মধ্যে জামিন তৃণমূল নেতা ও পরিচালন সমিতির সভাপতি ত্রিদিব বারুইয়ের।

সৌভিক মজুমদার : কাকদ্বীপে বীরেন্দ্র বিদ্যানিকেতনে স্কুলের মধ্যে পড়ুয়াদের সামনেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মারধর। গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জামিন পেয়ে যান অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা। তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে মামলা আক্রান্ত শিক্ষক মিলনকান্তি পালের। ১ জন শিক্ষককে স্কুলে মারধর করা হল, সিসিটিভি ফুটেজ মুছে দেওয়া হল, তারপরেও লঘু ধারায় মামলা? কেন পুলিশ-শাসক দলের ঘনিষ্ঠ পরিচালন কমিটির প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে লঘু ধারা? প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টে মামলা। পুলিশ জামিনযোগ্য ধারা দেওয়ায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জামিন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার। ১ দিনের মধ্যে জামিন তৃণমূল নেতা ও পরিচালন সমিতির সভাপতি ত্রিদিব বারুইয়ের।
স্কুলের মধ্যেই ঘটেছে ন্যাক্কারজনক ঘটনা। পড়ুয়াদের সামনেই সাংঘাতিক হেনস্থা, চরম অপমানের শিকার হয়েছেন ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক। প্রকাশ্যে এসেছিল সেই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ। সেখানে দেখা গিয়েছিল, ছাত্রদের সামনেই শিক্ষককে মারধর করা হচ্ছে। করিডর দিয়ে কার্যত হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মাস্টারমশাইকে। সৌজন্যে স্কুলের পরিচালন সমিতির প্রেসিডেন্ট এবং স্থানীয় পঞ্চায়েতের সদস্য, শাসক দলের এক নেতা। এই ঘটনার পর প্রবল চাপের মুখে অভিযুক্ত ত্রিদিব বারুইকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু ৫টি জামিনযোগ্য ধারায় মামলা দেওয়া হয় তাঁর বিরুদ্ধে। ফলে মাত্র কিছুক্ষণেই শেষ হয়ে যায় শুনানি। আদালতে সওয়াল-জবাব প্রায় হয়নি বললেই চলে। গ্রেফতার হওয়ার ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই দিব্যি জামিন পেয়ে যান শিক্ষক পেটানো তৃণমূল নেতা।
আক্রান্ত শিক্ষক তখনই জানিয়েছিলেন যে তিনি জানতেন যে অভিযুক্ত জামিন পাবেনই। কারণ তাঁর অনেক প্রতাপ। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি যে সেটা হয়ে যাবে তা তিনি ভাবেননি। এর পাশাপাশি মাস্টারমশাই তখনই জানিয়েছিলেন যে তিনি তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলছেন। পরবর্তীকালে আদালতের দ্বারস্থ হবেন। এবার সেটাই হয়েছে। আক্রান্ত শিক্ষক বলছেন, 'আমার ৩২ বছরের সম্মান ভূলুন্ঠিত করেছেন। আমি মারাও যেতে পারতাম মাথায় আঘাত পেয়ে, পড়ে গিয়ে, প্রেশারে হার্ট অ্যাটাক হয়ে। এরকম পরিস্থিতিতে উকিলের বয়ানের ভিত্তিতে তাঁকে এমন লঘু ধারা দেওয়া হয়েছে যাতে সহজেই একদিনের মধ্যে ছেড়ে দেওয়া যায়। আই ওয়াশ। দেখিয়ে দিলেন গ্রেফতার হয়েছেন। এদিকে গ্রেফতার হওয়াকে সসম্মানে নিয়ে আসছেন বাইকে করে। ঢুকলেন দৌড়ে, যেন মনে হল আত্মীয় বাড়িতে ঢুকছেন। তার পরের দিন দেখা গেল রিলিজড হয়ে গেলেন। জিনিসটিতে আমি অত্যন্ত মর্মাহত। তাই বিচার চাইতে এসেছি। যাঁরা বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য।'






















