Khardah News:'মেয়ে বেঁচে থাকবে কিনা জানি না, যা পেত তাই দিয়ে মারত' খড়দাকাণ্ডে অভিযোগ নির্যাতিতার মায়ের
North 24 Parganas: সোশাল মিডিয়ায় বন্ধুত্ব। সেই বন্ধুত্ব থেকেই কাজের প্রস্তাব। সেই প্রস্তাব পেয়ে বন্ধুর হাওড়ার বাড়িতে হাজির হয়েছিলন তরুণী। ভাবতেও পারেননি সেখানে কী ভয়ঙ্কর পরিণতি অপেক্ষা করছে।

সমীরণ পাল, খড়দা: কাজ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ডেকে খড়দার তরুণীকে মাসের পরে মাস আটকে রেখে নারকীয় নির্যাতন করার অভিযোগ। অভিযুক্ত ডোমজুড়ের বাসিন্দা আরিয়ান খান নামে এক যুবক। আরিয়ান ও তাঁর পরিবারের নামে খড়দা থানায় অভিযোগ দায়ের। হাওড়া সিটি পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তরা পলাতক। সাগরদত্ত মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি রয়েছেন নির্যাতিতা।
খড়দাকাণ্ডে কী অভিযোগ নির্যাতিতার মায়ের?
সোশাল মিডিয়ায় বন্ধুত্ব। সেই বন্ধুত্ব থেকেই কাজের প্রস্তাব। সেই প্রস্তাব পেয়ে বন্ধুর হাওড়ার বাড়িতে হাজির হয়েছিলন তরুণী। ভাবতেও পারেননি সেখানে কী ভয়ঙ্কর পরিণতি অপেক্ষা করছে তাঁর জন্য। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ পাইয়ে দেওয়ার টোপ নিয়ে তরুণীর ওপর পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ। নির্যাতিতার দাবি, গত বছর সোশাল মিডিয়ায় তাঁর সঙ্গে আলাপ হয় ডোমজুড়ের বাসিন্দা আরিয়ান খানের। ডিসেম্বরে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজের প্রস্তাব দেন যুবক। হাওড়ার ডোমজুড়ের বাড়িতে গেলে, সেখানে আটকে রেখে পানশালায় নাচের প্রস্তাব দেন অভিযুক্ত ও তাঁর মা। তরুণী রাজি না হওয়ায় শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। তরুণীর মায়ের অভিযোগ, আমার মেয়ে জিজ্ঞেস করেছিল কী কাজ। পর্নোগ্রাফি করতে বলেছিল। করবে না বলে আটকে দেয়। কাজে এসেছ কাজ করতে হবে বলে রেখে দেয়। অনেক রকম ভাবে অত্যাচার করেছে। মেয়ে বেঁচে থাকবে কিনা জানি না।''
৫ মাস বন্দি থাকার পরে কোনও রকমে প্রাণ বাঁচিয়ে বৃহস্পতিবার পালিয়ে আসেন তরুণী। খড়দা থানা থেকে এদিন বিষয়টি জানানো হয় হাওড়া সিটি পুলিশকে। ডোমজুড় থানার পুলিশ ও র্যাফ হানা দেয় ডোমজুড়ের দেওয়ানপাড়ায় আরিয়ানের বাড়িতে। ফ্ল্যাট তালাবন্ধ থাকায় কাউকে পাওয়া যায়নি। হাওড়া সিটি পুলিশ সূত্রে খবর অভিযুক্ত আরিয়ান খান ও তাঁর মায়ের খোজে তল্লাশি চলছে। অভিযোগকারী নির্যাতিতা বলেন, "ওর বাড়িতে নিয়ে গেল, বারে কাজ করতে হবে বলে আমাকে বলল, আমি বললাম না আমি করব না, তারপরে এইরকম অত্যাচার করে। একটু কিছু ভুল করলেই মারবে। ফোন ওরা নিয়ে নিয়েছে, সিম ভেঙে দিয়েছে।''
বর্তমানে সাগরদত্ত মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি নির্যাতিতা। আরিয়ান ও তার পরিবারের নামে অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। অভিযোগকারী নির্যাতিতার মা জানান, "ওকে ঘরে আটকে দিয়েছে। কাটারি দিয়ে, লোহা দিয়ে, যা পেয়েছে মহিলা, তাই দিয়ে অত্যাচার করেছে। কোমর ভেঙে দিয়েছে, পায়ে মেরেছে, পা ভেঙে দিয়েছে, হাতে মেরেছে, হাত ভেঙে দিয়েছে, সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়েছে। সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে,চাবিটা নিয়ে তালা খুলল, খুলে আরিয়ানের দিদার কাছে গেছিল। আরিয়ানের দিদা ওকে সাহায্য করেছে। আমার মেয়ের হাতে জুতো, পা ফুলে রক্ত বেরিয়ে। মরা মরা অবস্থা। অটো, বাসে করে আসল। মেয়েটা পুরো আধমরা। মুখে মেরেছে রড ঢুকিয়ে।''






















