Kasba SSC Protest Case : লাথি মারা পুলিশ অফিসার তদন্তে নয় ! বিতর্কের মুখে কসবাকাণ্ডের তদন্ত থেকে সরানো হয়েছে রিটনকে
রিটনকে IO-র দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তাঁর জায়গায় তদন্তভার দেওয়া হয় কসবা থানারই সাব ইন্সপেক্টর সঞ্জয় সিংহকে।

পার্থপ্রতিম ঘোষ, কলকাতা : বিতর্কের মুখে কসবাকাণ্ডের তদন্ত থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে স্থানীয় থানার সাব ইন্সপেক্টর রিটন দাসকে। কিছুক্ষণ আগেও খবর পাওয়া গিয়েছিল, কসবার DI অফিসে চাকরিহারাদের লাথি মারা পুলিশ অফিসারের উপরই দেওয়া হয়েছে চাকরিহারাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযওগের তদন্তের ভার! তবে এই ঘটনায় এসেছে বড় বদল।
গত বুধবার কসবা DI অফিসে গন্ডগোলের সময় এক চাকরিপ্রার্থীকে লাথি মারতে দেখা যায় রিটন দাসকে। পুলিশ সূত্রে খবর, কসবার DI-এর অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের মামলার তদন্তভার দেওযা হয়েছিল রিটনকেই। পরে তাঁকে IO-র দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তাঁর জায়গায় তদন্তভার দেওয়া হয় কসবা থানারই সাব ইন্সপেক্টর সঞ্জয় সিংহকে।
গত বুধবার কসবার DI অফিসের সামনে চাকরিহারা শিক্ষকদের নির্মমভাবে লাঠিপেটা করে পুলিশ। রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পড়েন একাধিক শিক্ষক। ব্যারিকেড পেরিয়ে DI অফিসে ঢুকতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল পরিস্থিতি। তারপর পুলিশ বেপরোয়াভাবে লাঠি চালাতে শুরু করে। লাঠির সঙ্গে লাথি, চাকরিহারা শিক্ষকরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতবিক্ষত হন। ঘুষি, গলাধাক্কা - বাদ যায়নি কিছুই। পুলিশের লাঠির আঘাতে, আহত হন বেশ কয়েকজন চাকরিহারা। কিন্তু ডিআই অফিস অভিযানের মতো শিক্ষকদের ঘোষিত কর্মসূচিতে কীভাবে এমন আচরণ করল পুলিশ? যেখানে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি ছিল, সেখানে শিক্ষকদের কীভাবে লাথি মারলেন পুলিশকর্মীরা? এসব প্রশ্নগুলি উঠতে শুরু করে । এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার সেই চাকরিহারাদের বিরুদ্ধেই দায়ের হয় জোড়া মামলা। শুক্রবার সকালে জানা যায়, মামলার তদন্তভার দেওযা হয়েছিল রিটন দাসকেই। এই পুলিশ আধিকারিককেই বুক পরা পায়ে এক প্রতিবাদী চাকরিহারা শিক্ষককে লাথি মারতে দেখা গিয়েছিল। তারপরই বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। এরপরই পুলিশ সূত্রে খবর আসে, রিটনের জায়গায় এই অভিযোগের তদন্তের দায়িত্বে থাকবেন কসবা থানারই সাব ইন্সপেক্টর সঞ্জয় সিংহ।
অন্যদিকে হালকা বলপ্রয়োগের যুক্তির পর ফের আন্দোলনকারীদের ঘাড়েই দায় ঠেলল কলকাতা পুলিশ। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে ভিডিও দেখিয়ে তারা দাবি করল, প্রথমে মারমুখী হয় চাকরিহারারাই। যদিও এই দাবি মানতে নারাজ আন্দোলনকারীরা। পুলিশ কমিশনার বলেন, 'আমি পুলিশ প্রধান হয়ে বলছি, পুলিশকে কেউ আক্রমণ করবে, আর পুলিশ অ্যাকশন নেবে না, সেটা মেনে নেওয়া যায় না।' সবমিলিয়ে, লাথি মারাকে অনভিপ্রেত বললেও, আত্মপক্ষ সমর্থনের মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।






















