Kolkata News: মেয়ের বিয়ের ২০ দিনের মাথায় খুন বৃদ্ধ, গল্ফগ্রিনকাণ্ডে গ্রেফতার নিহতের জামাই
Golf Green Incident: গল্ফগ্রিনের কলাবাগানের বাড়িতে শয্য়াশায়ী স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে থাকতেন অবসরপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী। তাঁরই দেহ উদ্ধার হয়েছে।

আবির দত্ত, কলকাতা: মেয়ের বিয়ের ২০ দিনের মাথায় খুন হয়েছেন গল্ফগ্রিনের বৃদ্ধ শমীক কিশোর গুপ্ত। শ্বশুরকে খুনের অভিযোগে আগেই আটক করা হয়েছিল। এবার গ্রেফতার হলেন জামাই সঞ্জিত দাস।
গল্ফগ্রিনের কলাবাগানের বাড়িতে শয্য়াশায়ী স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে থাকতেন অবসরপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী শমীক কিশোর। পুলিশ সূত্রে খবর, বৃদ্ধের মেয়ে প্রতিদিন এসে মা, বাবা ও ভাইয়ের জন্য রান্না করতেন। তেমনই শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বরও তিনি বাড়িতে এসেছিলেন। সেইদিনই সন্ধেয় বাবার সঙ্গে মেয়ের ঝামেলা বাধে। অভিযোগ, বৃদ্ধ মেয়েকে গালিগালাজ করেন। এরপরেই তাঁর জামাই বৃদ্ধকে খাট থেকে তুলে সিঁড়িতে ফেলে দেন বলে শোনা যাচ্ছে। সিঁড়িতে গড়িয়ে পড়ায় স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধ আঘাত পান। তাঁর মাথাতেও চোট লাগে।
তবে এতেও ক্ষান্ত হননি জামাই। বৃদ্ধকে তিনি ফের একবার তুলে এনে আবারও সিঁড়ি থেকে ফেলে দেন বলে অভিযোগ। এরপর মেয়ে ও জামাই নিজেদের বাড়ি চলে যান। গতকাল সকালে বৃদ্ধের স্ত্রীর ফোন পেয়ে প্রতিবেশী আসার পর এই ঘটনা জানাজানি হয়। সিঁড়ির পাশে পড়ে থাকা বৃদ্ধের দেহ উদ্ধার করা হয়। পাঠানো হয় ময়নাতদন্তে। বৃদ্ধের ছেলেকে খাটের নীচ থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়, এমআর বাঙুর হাসপাতালে ভর্তি ওই যুবক। ঘটনাস্থলে পৌঁছেয় লালবাজারের হোমিসাইড শাখা।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ দেখতে পায় বৃদ্ধের শরীরে একাধিক আঘাত রয়েছে। উপর থেকে পড়ে যাওয়ায় যে ধরনের চোট-আঘাত কারও দেহে থাকে, তেমনই চিহ্ন এই বৃদ্ধের দেহে ছিল। এরপর আরও খতিয়ে দেখে তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে বৃদ্ধের দেহে আরও চোট-আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, কালশিটে রয়েছে। এর থেকে পুলিশের অনুমান করে বৃদ্ধকে মারধর করা হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা এর সঙ্গে যুক্ত বলেই তদন্তকারীদের সন্দেহ করেছিল।
প্রতিবেশীদের একাংশের মধ্যে দিন ১৫-২০ আগে বৃদ্ধের মেয়ের বিয়ে হয়েছে। এক প্রতিবেশীর দাবি, বৃদ্ধের জামাই কিছু কাজ করতেন না, মদ্যপান করতেন। জামাইকে ঢুকতে দেওয়া হতো না বলেও জানিয়েছেন প্রতিবেশীদের একাংশ। তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ চলে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান খুনের ঘটনার সঙ্গে মৃতের জামাইয়ের প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে। তাঁর বাড়ি প্রিন্স গোলাম মহম্মদ শাহ রোডে। তাঁর সঙ্গে মৃতের পরিবারের একেবারেই সুসম্পর্ক ছিল না। মেয়ের বিয়েটাও পরিবারের কেউ মেনে নেননি। সেই বিয়ের মাস কাটতে না কাটতেই ঘটল এই ঘটনা।






















