Tangra Case Update : বড় ভাই ছিলেন জ্যোতিষে পারদর্শী, মেডিক্লেমের নথি নিয়েও প্রশ্ন, ট্যাংরাকান্ডে লুকিয়ে আরও বড় রহস্য?
হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, যে তিনজনের চিকিৎসা হয়েছে তাদের তরফে এখনও বিল মেটানো হয়নি। টাকা পাওয়ার আশায় না থেকেই সকলকে দ্রুত সুস্থ করার চেষ্টা চালাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আবির দত্ত ও ঝিলম করঞ্জাই, কলকাতা: গাড়ি দুর্ঘটনায় জখম হওয়ার পর থেকেই, রুবি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, ট্য়াংরা-পরিবারের সদস্যরা। বড় ছেলে প্রণয় দে, তাঁর নাবালক পুত্র ও ছোট ভাই প্রসূন দে তিনজনের মধ্যে ৪ দিন পর, শনিবার, হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ করে দেওয়া হয় প্রণয় দে-কে। তাঁকে এনআরএস হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগে ভর্তি করা হয়। অন্যদিকে ছোট ভাই প্রসূন দে-র পাঁজরে চোট রয়েছে। হাই রেজলিউশন সিটি স্ক্যান করা হয়েছে পাঁজরের। সোমবার প্রসূন দে ও বড় ভাই প্রণয় দে-র নাবালক ছেলেকে রুবি হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ করার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য়ের বিষয় নাবালকের দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসেননি কেউই। সেক্ষেত্রে তাঁকে কোথায় পাঠানো হবে পুরোটাই অনিশ্চিত। পাশাপাশি হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, যে তিনজনের চিকিৎসা হয়েছে তাদের তরফে এখনও বিল মেটানো হয়নি। টাকা পাওয়ার আশায় না থেকেই সকলকে দ্রুত সুস্থ করার চেষ্টা চালাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া ধোঁয়াশা বাড়ছে দে-পরিবারের মেডিক্লেমের নথি নিয়েও। ট্যাংরাকাণ্ডে পরিবারের ৬ জনের মেডিক্লেম সংক্রান্ত নথি উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ সূত্রে দাবি, নথিপত্রের ফাইলটি লিভিং রুমে সামনেই রাখা ছিল। দুই ভাই প্রণয় ও প্রসূন দে-সহ পরিবারের ৬ জনের মেডিক্লেমের কাগজপত্র উদ্ধার করে পুলিশ। পাওয়া গেছে প্রণয়ের স্ত্রী সুদেষ্ণা, প্রসূনের স্ত্রী রোমি ও প্রসূনের কিশোরী মেয়ে প্রিয়ম্বদা অর্থাৎ মৃত ৩ জনের আধার কার্ডও। তাহলে কি সব কিছু সাজিয়ে-গুছিয়েই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন প্রণয় ও প্রসূন? দুই ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে চায় পুলিশ।
ট্যাংরাকাণ্ডে সামনে এসেছে আরও একটি তথ্য। পরিবারের এক আত্মীয় জানিয়েছেন, বড় ভাই প্রণয় দে জ্যোতিষবিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। সেই তথ্যটি কি এই তদন্তে অন্য কোনো মাত্রা যোগ করতে পারে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রহস্যের কিনারা করতে দুই ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ।
ট্যাংরায় দুই গৃহবধূকে খুন করেছিলেন কে? দুই ভাই মিলেই কি স্ত্রীদের হাত, গলা কেটেছিলেন? নাকি কোনও একজন? শুধুই কি দেনার দায়ে গোটা পরিবারকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাড়ির বড়রা? নাকি নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ ছিল? ট্যাংরাকাণ্ডে এখনও অধরা অনেক প্রশ্নের উত্তর।






















