Malda News: আম-সিল্কের পর এবার আশাপুরের বেগুন, মালদার ঝুলিতে এল আরও এক GI ট্যাগ
GI Tag: আম ও সিল্কের পর এবার মালদার আশাপুরের বেগুন পেল জিআই ট্যাগ। যার ফলে খুশির হাওয়া মালদার কৃষক মহল থেরে শুরু করে জেলা প্রশাসনের সর্বত্র।

সোমক লাহিড়ি, মালদা: ফলের রাজা আম। আর আমের নাম শুনলেই মালদার কথা আসবে না, তাও হয় নাকি... আমের জন্য বিশ্বজুড়ে রয়েছে মালদার (Malda) খ্যাতি। মালদার আম জিআই ট্যাগও পেয়েছে। এছাড়া রয়েছে মালদার নিস্তারি সিল্ক। গত বছর এই সিল্কের কপালেও জুটেছে জিআই ট্যাগ। এবার মালদা জেলার মুকুটে বেগুনের (Brinjal) সুবাদে চলে এল আরও একটি জিআই ট্যাগ (GI Tag)। আম ও সিল্কের পর এবার মালদার আশাপুরের বেগুন পেল জিআই ট্যাগ। যার ফলে খুশির হাওয়া মালদার কৃষক মহল থেরে শুরু করে জেলা প্রশাসনের সর্বত্র।
আম-সিল্কের পর এবার মালদার আশাপুর বেগুনের জিআই স্বীকৃতি
চেন্নাইয়ের জিআই সংস্থার রেজিস্ট্রার ‘আশাপুর ফ্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেবলস গ্রোয়ার্স ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’-কে এর স্বত্ত্বাধিকার দিয়েছে। মালদার বেগুন চাষিদের মতে, আশাপুরের বেগুনের স্বাদ অন্য বেগুনের থেকে আলাদা। ২৫-৩০ বছর ধরে বেগুন চাষের সঙ্গে যুক্ত চাষিরা আজ খুশি। তাঁদের বহু কষ্ট করে উৎপাদন করা বেগুন জিআই ট্যাগ পেয়েছে। তাতে তাঁরা খুশি ও একইসঙ্গে আশাবাদী, এবার তাঁদের এই বেগুন চাষ থেকে আর্থিক লাভ বেশি হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ৯৯২ নম্বর জিআই ট্যাগে আশাপুর বেগুনের নাম যুক্ত হয়েছে। চলতি বছরের ২৭ মার্চ চেন্নাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জিআই শংসাপত্র জারি করা হয়েছে। এই স্বীকৃতির নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা। আশাপুর বেগুনের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী চাষপদ্ধতি ও আশাপুর এলাকার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে এর নিবিড় সম্পর্কের প্রমাণ তুলে ধরতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তথ্য ও নথি সংগ্রহ, মাঠপর্যায়ে যাচাই এবং কৃষক, কৃষি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে বিস্তৃত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। সেই প্রচেষ্টার ফলেই মিলেছে এই কাঙ্ক্ষিত স্বীকৃতি।
জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর বলেন, "আশাপুর বেগুনের জিআই স্বীকৃতি মালদা জেলার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এর ফলে চাঁচল-১ ব্লক ও সংলগ্ন এলাকার কৃষকরা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।" অতিরিক্ত জেলাশাসক শ্রীনিবাস পাটিল বলেন, "স্থানীয় কৃষিপণ্যের উন্নয়ন এবং কৃষকদের স্বার্থরক্ষায় জেলা প্রশাসনের ধারাবাহিক উদ্যোগের এটি একটি বড় সাফল্য।" পাশাপাশি মালদা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রধান দূষ্যান্ত কুমার রাঘব বলেন, "আকার, স্বাদ, গুণমান এবং ঐতিহ্যবাহী চাষপদ্ধতির জন্যই আশাপুর বেগুন এই স্বীকৃতি পেয়েছে। জিআই স্বীকৃতির ফলে দেশ-বিদেশে এর পরিচিতি আরও বাড়বে। কৃষকরা উৎপাদিত বেগুনের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ বেগুনের তুলনায় বেশি দাম পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।"
জিআই তকমা পাওয়ার ফলে এবার মালদার বেগুন আর শুধু আঞ্চলিক স্তরে নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও ছড়িয়ে পড়বে। মালদার বেগুন চাষিরা যেমন খুশি, তেমনই সেখানকার বেগুন ব্যবসায়ীরাও আর্থিকভাবে আরও লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন। আশাপুর বেগুনের এই জিআই ট্যাগ পাওয়ার নেপথ্যে যে চাষিদের গায়ের রক্ত জল করা পরিশ্রম রয়েছে, তাও উঠে আসছে ব্যবসায়ীদের কথায়।
Before You Go
Liver Foundation | ২০ বছর পূর্তি উদযাপন করল লিভার ফাউন্ডেশন ওয়েস্ট বেঙ্গল






















