Malda News: 'তৃণমূল কর্মীর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল পঞ্চায়েত সদস্যের ছেলের..', মালদায় জন্মদিনের পার্টিতে TMC নেতাকে 'খুনে' গ্রেফতার দলেরই ৪ জন !
Malda TMC Murder Case: মালদায় জন্মদিনের পার্টিতে TMC নেতাকে খুন করল কে ? ইংরেজবাজার থানার পুলিশের জালে কারা ?

মালদা: মালদার ইংরেজবাজারের লক্ষ্মীপুরে তৃণমূল কর্মীকে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার হলেন পঞ্চায়েত সদস্য-সহ দলেরই ৪ জন। অভিযোগ, ১০ জুলাই জন্মদিনের পার্টিতে যান স্ত্রীর সামনেই পিটিয়ে, কুপিয়ে খুন করা হয় তৃণমূল কর্মী ও জমি ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদকে। এই ঘটনায় ইংরেজবাজারের কাজিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য মাইনুল শেখ, তাঁর ভাই ও তৃণমূল নেতার দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, জমি নিয়ে তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের সঙ্গে তৃণমূল কর্মীর বিবাদ চলছিল। পাশাপাশি, তৃণমূল কর্মীর স্ত্রীর সঙ্গে একসময় সম্পর্ক ছিল পঞ্চায়েত সদস্যের ছেলের। তা নিয়েও ২ জনের মধ্যে টানাপোড়েন ছিল। সম্পর্কে তিক্ততার কারণেই খুন বলে পুলিশের অনুমান।
স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কর্মী আবুল কালাম আজাদ ও কাজিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য মাইনুল শেখ যৌথভাবে সঙ্গে জমির ব্যবসা করতেন।বৃহস্পতিবার রাতে, আবুল ও তাঁর স্ত্রী-সহ বেশ কয়েকজন একটি জন্মদিনের পার্টিতে লক্ষ্মীপুরে যায়। অভিযোগ, সেখানেই জমির ব্যবসা নিয়ে দুই পক্ষের গন্ডগোল শুরু হয়।অভিযোগ, সেই সময় তৃণমূল কর্মী আবুলকে কুপিয়ে খুন করেন মাইনুল।বাধা দিতে গেলে আহত হয় তৃণমূল কর্মীর স্ত্রী-সহ ৩ জন।
নিহত তৃণমূল কর্মীর বাবা আইনুল হক বলেন, শুনলাম নাকি মাইনুল লোকজন দিয়ে মারধর করেছে। জমির ব্যবসা। মনেহয় পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য। কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য। মারপিঠ, মারধর করে। আমার ছেলেকে নিমন্ত্রণ করেছিল। মোটামুটি পৌনে ১২টা-১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত মাইনুল শেখের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ইংরেজবাজার ব্লকের তৃণমূল সভাপতি। ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই ইংরেজবাজার তৃণমূল কংগ্রেস ব্লক সভাপতি প্রতিভা সিংহ বলেন,' আমি যখন ২০২৩-এ ভোট করি ওকে আমি টিকিট দিইনি। ও আমাদের দল থেকে পঞ্চায়েত সমিতি নির্বাচিত হয়েছিল ২০১৮ তে । কিন্তু ওর নামে অনেক অভিযোগ ছিল এবং ও জমির মাফিয়া ও খুবই বাজে ছেলে। ওই জন্য আমি ওকে...করেছিলাম টিকিট দিইনি। তারপরে কার নেতৃত্বে কে বা কারা জয়েন করেছে আমি জানি না। যারা জয়েন করিয়েছে তারা তো জানে।'
এরমধ্যেই সামনে এসেছে এই ছবি। যেখানে দেখা যাচ্ছে মালদা জেলা তৃণমূলের সভাপতি আব্দুল রহিম বক্সীর হাত থেকে পতাকা নিয়ে দলে যোগদান করছেন মাইনুল শেখ। এই ঘটনাকে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলে তীব্র কটাক্ষ করেছে বিজেপি। মালদা দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সম্পাদক অম্লান ভাদুড়ি বলেন, যে খুন করেছে সে তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য। যাকে মারা হয়েছে সেও তৃণমূলের সদস্য। স্বাভাবিকভাবেই এটা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব যেমন তেমন এটা কিন্তু অবৈধ যে ব্যবসা তৃণমূল করছে,তাদের সেই মুনাফার লাভের ভাগাভাগির গন্ডগোল থেকেই এই ঘটনাগুলো ঘটছে।






















