Mamata Banerjee: ‘যাঁদের জন্য দেশ স্বাধীন হল, তাঁদের নামই বাদ’? বাঙালি হেনস্থা নিয়ে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ মমতার
Mamata Banerjee on Harassment of Bengalis: বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালি ও বাংলাভাষীদের হেনস্থার বিরুদ্ধে বুধবার কলকাতার রাস্তায় মিছিল করেন মমতা।

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে এখনও কয়েক মাস বাকি। তার আগে বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালিদের হেনস্থা করার প্রতিবাদে রাস্তায় নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশের সার্বিক ইতিহাসে বাঙালির অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন তিনি। মমতা জানালেন, বাংলা ভাষায় কথা বললেই কেউ বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা হয়ে যান না। পশ্চিমবঙ্গেও ভিন্ রাজ্যের অনেক মানুষ বাস করেন। তাঁদের যদি অসম্মানিত না হতে হয়, তাহলে বাঙালিদের কেন অন্যত্র হেনস্থা করা হবে, প্রশ্ন তোলেন মমতা। (Mamata Banerjee)
বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালি ও বাংলাভাষীদের হেনস্থার বিরুদ্ধে বুধবার কলকাতার রাস্তায় মিছিল করেন মমতা। বৃষ্টিতে ভিজেই পদযাত্রায় অংশ নেন তিনি, পাশে ছিলেন অভিষেক এবং তৃণমূলের নেতানেত্রীরা। এর পর ধর্মতলার সভা থেকে বিজেপি-কে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। বলেন, "প্রতিদিন আমাদের কাছে অভিযোগ আসছে (বাঙালি হেনস্থার)। ভারত সরকার এবং বিজেপি-র এই আচরণে আমরা অত্যন্ত লজ্জিত, ব্যথিত, দুঃখিত, মর্মাহত। যেখানে যেখানে বিজেপি আছে, ভারত সরকার লুকিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলেছে, যাকে দেখে সন্দেহ হবে, বাংলায় কথায় বলতে দেখলে, গ্রেফতার করবে। ডিটেনশন ক্যাম্পে রেখে দেবে। কেউ আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে গেলেও। আমরা সব ভাষাভাষীর মানুষকে সম্মান করি। ভারতের নাগরিক মানেই সম্মান করি আমরা। কিন্তু তাই বলে বাঙালিদের উপর অত্যাচার করবেন, সেটা হবে না। আমি ছাড়ব না। আমাদের এখানে অবাঙালিও রয়েছেন। তাঁদের উপর যেমন অত্যাচার হওয়া কাম্য নয়, তেমনই বাঙালিদেরও অত্যাচার করা যাবে না।" (Mamata Banerjee on Harassment of Bengalis)
কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারকে নিশানা করে মমতা বলেন, 'দিল্লিওয়ালোঁ, কী ভাবছেন? দেশটা আপনাদের জমিদারি? যাকে ইচ্ছে আটকে রাখবেন, জেলে পাঠাবেন? বাংলা বললেই রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি? বাংলাদেশ আলাদা, রোহিঙ্গারা মায়ানমারের বাসিন্দা। যাঁরা বাংলার নাগরিক, যাঁদের পরিচয়পত্র আছে, আধার আছে, প্যান আছে, তাঁরা বাইরে গিয়ে হেনস্থার শিকার হবেন? এমনি এমনি তো যাননি! দক্ষতা আছে বলেই তো ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে! কেউ সোনার কাজ করেন, কেউ নির্মাণের। আমার কর্পোরেশনে ৯০ শতাংশ বিহারি কাজ করেন। কখনও প্রশ্ন তুলেছি? সবাই সব কাজ করতে পারে না। ওর যেটায় দক্ষতা, সেটা করছে! আমাদের লোকেরা মুম্বইয়ে সোনার কাজ করে। আপনাদের সেতু আমাদের শ্রমিকরা তৈরি করে।"
বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে মমতা বলেন, "বাংলার ২২ লক্ষ শ্রমিককে দিয়ে কাজ করিয়ে নেবে, আর বাংলা বললেই জেলে নিয়ে যাবে, ডিটেনশন শিবিরে নিয়ে যাবে, হোল্ডিং এরিয়ায় নিয়ে যাবে? কোন অধিকারে? বাংলা কি ভারতের অংশ নয়? মহারাষ্ট্রে যখন হিন্দিভাষীদের বের করে দেওয়া হচ্ছিল, সবার আগে আমরা প্রতিবাদ করেছিলাম। আমরা প্রত্যেক ভাষাভাষীর মানুষকে দেশের অংশ বলে মনে করি, প্রত্যেককে সম্মান করি। কী এমন হল? আমাদের রাজ্যেও ১.৫ কোটি পরিযায়ী রয়েছেন। ভেবে নিন। আমরা তাঁদের সম্মান দিই, আপনারা অসম্মান করেন। এভাবে দেশ চলবে? পুণেতে মতুয়াদের উপর হামলা করল কারা? নির্বাচনের সময় মতুয়াদের বাড়িতে ভোট ভিক্ষে করেন। আর অন্য সময় অত্যাচার! কতজন রাজবংশীকে ঠেলে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে? জবাব দিন। ছত্তীসগঢ়ে নদিয়ার লোকেদের আটকে রাখা হয়েছে। দিল্লিতে আমাদের এখানকার লোকেদের জলের সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে, বিদ্যুৎ কেটে দিয়েছে। অন্ধকূপের মতো রেখে দেওয়া হয়েছে সকলকে। কোচবিহারের বাসিন্দা বাঙালিদের নোটিস পাঠিয়েছে অসম সরকার। তোমার কী অধিকার?''
বেছে বেছে বাঙালিদের উপর কেন অত্যাচার হচ্ছে, প্রশ্ন তোলেন মমতা। তিনি বলেন, "বাঙালিদের উপর এত রাগ কেন? কী করেছেন বাঙালিরা? রবীন্দ্রনাথ দেশকে 'জন-মন-গণ' দিয়েছেন, বঙ্কিমচন্দ্র দিয়েছেন 'বন্দে মাতরম। নজরুল এই বাংলার, এই বাংলাই বাবাসাহেব আম্বেডকরকে সাংসদ করে পাঠিয়েছিল, দাঙ্গা এবং বঙ্গভঙ্গ রুখতে এসে বেলেঘাটায় ছিলেন গাঁধীজি। আন্দামানের সেলুলার জেলে যে তালিকা রয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের, একবার দেখে নেবেন। ৭০ শতাংশ নাম বাঙালির, দ্বিতীয় স্থানে পঞ্জাব। যাঁরা দেশ স্বাধীন করেছেন, তাঁদের অত্যাচার করবেন, তাঁদের নাম বাদ দেবেন! ফেব্রুয়ারি মাসে একটা নোটিস দিয়ে বলেছে, সন্দেহ হলে একমাস জেলে রেখে দেওয়া যাবে। বিনা বিচারে জেলে রাখবেন? এ তো জরুরি অবস্থারও বাড়া! ইন্দিরা গাঁধীকে গালাগাল দিয়ে সংবিধান হত্যাদিবস পালন করছেন, আর আপনারা কী করছেন? বেআইনি কাজ করছেন। আমি ঠিক করেছি, আরও বেশি করে বাংলায় কথা বলব। ক্ষমতা থাকলে আমাকে ডিটেনশনে রাখুন"।
বাংলায় ভোটার তালিকা সংশোধনের দাবি তুলে বার বার রোহিঙ্গা, বাংলাদেশিদের কথা তুলে ধরেছে বিজেপি। সে প্রসঙ্গে এদিন কেন্দ্রকেই একহাত নেন মমতা। তিনি বলেন, "৭১-এর সময় যাঁরা এসেছিলেন, তাঁদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এখন রাজনৈতিক কারণে অসম্মান করে পাঠিয়ে দেবেন? সীমান্ত কার হাতে? যাঁদের বাংলাদেশি, রোহিঙ্গা বলছেন, আমি চ্যালেঞ্জ করছি। সীমান্ত তো বিএসএফ-এর হাতে। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে? তাঁর হাতেই তো সিআইএসএফ, সিআরপিএফ। বিমানে এলে, রেলে এলে, দেখার দায়িত্ব তো কেন্দ্রের! তাহলে এত মিথ্যে বলছেন কেন?" মমতা জানান, তাঁদের কাছে যে তালিকা রয়েছে, সেই মোতাবেক প্রায় ১০০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাংলাদেশে কতজনকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, তার সঠিক সংখ্যা জানার চেষ্টা চলছে।






















