Mamata Banerjee: 'বিজেপির মুখে ঝামা', সিঙ্গুরে গিয়ে কোনও বড় ঘোষণা আজ মমতার? কী বলছে তৃণমূল সূত্র?
এটা পরিষ্কার, ফেরত পাওয়া জমিতে চায় করে তুষ্ট নয় সিঙ্গুর। তারা চায় শিল্প। মুখ্যমন্ত্রী কি সেই প্রত্যাশা রাখবেন?

সোমনাথ মিত্র, আশাবুল হোসেন ও মনোজ বন্দ্যোপাধ্য়ায়, কলকাতা : ভোট এলেই সিঙ্গুরের কথা মনে পড়ে সব রাজনৈতিক দলের!যে যার মতো প্রতিশ্রুতি দেয়!রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক হয়!এই আবহেই গত ১৮ তারিখ সিঙ্গুরে ঘুরে গিয়েছেন খোদ নরেন্দ্র মোদি। আর ঠিক তার ১০ দিনের মাথায় সেই সিঙ্গুরেই পাল্টা সভা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাহলে কি নরেন্দ্র মোদি যা করেননি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা করে দেখাবেন? মোদি আসার আগেই রব উঠেছিল, এবার বোধ হয় সিঙ্গুরে কোনও শিল্প ফিরিয়ে আনার কথা বলবেন মোদি। টাটা কি ফিরবে- এমন জল্পনাও ছিল। না, তেমন কিছু হয়নি সেদিন। শিল্প নিয়ে স্পিকটি নট-ই ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি জনসভায় জনমুখী কিছু করবেন না, যাতে করে তিনি সিঙ্গুরের মন পান?
প্রধানমন্ত্রী আসার আগেই আশায় বুক বেঁধে ছিলেন এঁরা। আবার মুখ্যমন্ত্রী আসার আগেও সিঙ্গুরের কৃষক নকুল পোলেনরা বলছেন, 'আমরাও চাইছি, চাষিও চাইছে শিল্প হোক। ৯০% লোক চাইছে শিল্প হোক।'
এটা পরিষ্কার, ফেরত পাওয়া জমিতে চায় করে তুষ্ট নয় সিঙ্গুর। তারা চায় শিল্প। কিন্তু ১৮ তারিখ সভায় শিল্পের প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী! দশ দিন পর ২৮ তারিখ সিঙ্গুরে পা রাখছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। যা নিয়ে রাজনীতি এখন থেকেই তেতে উঠেছে। কৃষি ও বিপণন মন্ত্রী ও তৃণমূল বিধায়ক বেচারাম মান্নার দাবি, মুখ্যমন্ত্রী উন্নয়নের ডালি নিয়ে আসছেন। পাল্টা রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্য়ায় বলছেন, ' ওঁর আঁতে ঘা লাগছে সেই জন্যই যাচ্ছে। মিথ্যে কথার ঝুড়ি নিয়ে মিথ্য়ে বলতে' ।
প্রধানমন্ত্রী সভা করেছিলেন টাটা কারখানার জমিতে। সেখান থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে ইন্দ্রখালি এলাকায় বুধবার সভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, বুধবার সরকারি মঞ্চে বেশ কিছু শিলান্য়াস কর্মসূচির পর রাজনৈতিক সভা করবেন তিনি। কিন্তু শিল্প? কারখানা? সেসব নিয়ে কি মুখ্য়মন্ত্রী কিছু বলবেন? কোনও প্রতিশ্রুতি দেবেন? কারণ, বাসিন্দাদের একাংশ বারবারই স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা চান শিল্প। এ বিষয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলছেন, মুখ্যমন্ত্রী সিঙ্গুরে যা করার করে দিয়েছেন। 'মুখ্যমন্ত্রী ওখানে সর্ষের বীজ ছড়িয়ে এসেছিলেন। মানুষ চোখে সর্ষেফুল দেখেছেন। কিন্তু সর্ষে গাছ দেখতে পাননি। প্রধানমন্ত্রী ওখানে সভা করেছেন এবং সিঙ্গুরকে
বেছে নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল একটাই একটা নির্দিষ্ট বার্তা দেওয়া যে ভারী শিল্প ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের সামনে কোনও পথ খোলা নেই। TMC-র রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের দাবি, 'মমতা বন্দোপাধ্যায় বহুবার সিঙ্গুর
গেছেন। আবার কাল যাচ্ছেন। আবার কাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে দেবেন, তৃণমূল শিল্পের ও টাটার বিরোধী নয়। টাটারা এই রাজ্যে প্রচুর কাজ করছে। নীতিগত কিছু আপত্তি ছিল। কৃষকদের অধিকার ফেরাতে বলেছিলেন। সময়ের ডাকে শিল্প হবে, কিন্তু কৃষিজমি নিয়ে নয়। মমতা বন্দোপাধ্যায় কাল সিঙ্গুরে বিজেপির মুখে ঝামা ঘষে দেবেন।'
তৃণমূল-বিজেপির এই লড়াই তো চলবেই। এই তরজার মধ্য়ে মানুষ আপাতত জানতে চাইছে শিল্প কি হবে ?























