Mani Shankar Mukherjee : 'ওঁর প্রতি পাতায় গল্প', সেরা বাঙালি ২০২২-এর মঞ্চে কার কথা বলেছিলেন সাহিত্যিক শংকর ?
Sera Bangali 2022 : সেরা বাঙালি ২০২২-এর অনুষ্ঠানমঞ্চে তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছিলেন অপর এক প্রখ্যাত সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়।

কলকাতা : এবিপি আনন্দ ২০২২-এর সেরার সেরা বাঙালি হয়েছিলেন মণিশংকর মুখোপাধ্যায়। সেরা বাঙালি ২০২২-এর অনুষ্ঠানমঞ্চে তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছিলেন অপর এক প্রখ্যাত সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। পুরস্কৃত হওয়ার পর এই মঞ্চেই এবিপি আনন্দর এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট সুমন দে'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের সাহিত্য জীবনের কিছু চমকপ্রদ কথা সামনে এনেছিলেন শংকর। স্মৃতি রোমন্থন করেছিলেন দুই প্রখ্যাত সাহিত্যিকের। সেদিন কী বলেছিলেন শংকর ?
সুমন দে : শিব্রাম চক্রবর্তী নাকি যখনই আপনার সঙ্গে দেখা হত তাঁর, তিনি হাতের লজেন্স বা হরলিক্স গুঁড়ো দিতেন। তিনি বলতেন, রাবড়ি চূর্ণ। এবং বলতেন যে, রাবড়ি চূর্ণ সবসময় খাবে যাতে লেখায় মিষ্টত্ব থাকে। কোন রাবড়ি চূর্ণ খেয়ে দশকের পর দশক পৃথিবীর নানা কোণে আপনি বাঙালি পাঠককে মজিয়ে রাখলেন ?
শংকর : শিব্রামবাবু যেটা দিতেন, সেটা হচ্ছে হরলিক্স চূর্ণ। কিন্তু বলেছিলেন, কখনো বলো না। তাহলে দাম এখনই বেড়ে যাবে। হরলিক্সের। সেই ভয়ে আমি নামটা বলতে সাহস পেতাম না। অনেকদিন পরে লন্ডন বইমেলায় গিয়েছিলাম। সেবারে বাঙালিদের অনেকগুলো লেখা বেরিয়েছিল। আমিও তারমধ্যে একটু ছিলাম। ওখানে সাহেবরা জিজ্ঞাসা করলেন যে, ইংরেজদের কাছে কি কিছুই শেখেননি আপনারা ? আমি বললাম, শিখেছি। কিন্তু, পাবলিসিটি হয়ে যাবে বলে বলতে পারি না। বলে, কী বলেন ? আমি বললাম, আমরা যখন ছোট তখন হরলিক্স পাওয়া যেতে না। সব যুদ্ধে চলে গেছে। কিন্তু, হরলিক্স কোম্পানি বুঝেসুঝে বিজ্ঞাপন মাঝেমধ্যে দিয়ে যেত। বলত, হরলিক্স এখন পাওয়া যাচ্ছে না। সবই যুদ্ধক্ষেত্রে চলে গেছে । তবে, অপেক্ষা করতে পারেন। একদিন ওটা ফিরে আসবে। ইট ইজ ওয়ার্থ ওয়েটিং ফর। আমারও হয়েছে তাই...জানেন। অনেক দিন ধরে লিখছি। কেউ দেখে না। নজরও করে না। মানুষও মনে করে না। কেউ বলে টুকেছি। এইসব বলত। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত দেখলাম, হরলিক্স ইজ ওয়েটিং ফর। ওইটা আমি আপনাদের কাছে শিখেছি। ধৈর্য্য ধরে থাকলে কপালে হয়ত জুটতে পারে। এখন সাহেবরা ভাল বলেছে। দেখি দেশের লোকেরা কী করে। সাহেবদের দয়ায় যা হওয়ার হয়েছে। হবে এটা ভাবিনি। আপনাদের কী বলব ? কৃতজ্ঞতা জানানো ছাড়া আমার আর কী বা করার আছে ? আমি মনে মনে জানি, আমার দর কতটুকু। তবু সেটুকুও ওয়ার্থ ওয়েটিং ফর।
সুমন দে : বাঙালি জানে যে আপনার দর কতটুকু। আমার শুধু শেষ প্রশ্ন, শরদিন্দু বন্দ্য়োপাধ্যায় একবার নাকি আপনাকে বলেছিলেন যে, লেখক যখন লিখছেন সেই উপন্যাসের প্রথম ৩০ পাতা অবধি পড়ার দায়িত্ব পাঠকের। তারপর থেকে সবটুকু লেখকের দায়িত্ব। আপনি যখন লেখেন, তখন লেখার কোনও ফর্মুলা মাথায় থাকে নাকি ওই যে আপনার কলমের ম্যাজিকটা কোথা থেকে আসে ?
শংকর : ওটা সত্যি কথা বলতে, ভগবানই জুটিয়ে দেন। চেষ্টা করতে করতে কখনো কখনো লেগে যায়। আর শরদিন্দুবাবু আর একটা কথা আমাকে বলতেন, বাবা...যখন সময় থাকবে সময় নষ্ট করো না। আমি বললাম, কী করব তবে বলুন ? ওঁর বাড়িতে বসে বসেই আমায় বললেন, এই অভিধান আছে, ওইটা পড়বে। যে কোনও জায়গা খুলবে। ডিকশনারি থেকে যত আইডিয়া পাবে ছাপানো অবস্থায়...আর কোনও লেখক তোমাকে সেগুলো বলবে না। সুতরাং তোমার দেবতা হচ্ছেন হরিচরণবাবু। তাঁর বই দু'খণ্ড কিনেছিলাম। এবং সেটা আমি আজও উল্টে যাই। সত্যি কথা বলতে যখন আইডিয়া কমে যায় তখন হরিচরণবাবুই আমাকে বাঁচিয়ে দেন। ওঁর প্রতি পাতায় পাতায় গল্প রয়েছে। সেই করে যাচ্ছি। আপনাদের আশীর্বাদে । কখনো লাগে, কখনো লাগে না। কিন্তু কী করব বলুন। আর তো কিছু নেই। ধন্যবাদ।






















